মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জনসভা ঘিরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের টার্গেট জেলা বিএনপির

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে যশোরে শেষ সময়ের ব্যস্ততা

দেওয়ান মোর্শেদ আলম
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র এক দিন বাকি। আগামীকাল ২৭ এপ্রিল যশোরবাসীর জন্য কাঙ্খিত দিন। যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর তাকে বরণ করতে শেষ সময়ের ব্যস্ত সময় পার করছে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোসহ যশোরস্থ আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ও জনসভা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে আসা যাওয়ার পথে নিñিদ্র নিরাপত্তাসহ কঠোর নিরাপত্তা বললের মধ্যে আনা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থলগুলো। এসএস এফ-এর দায়িত্বশীল ইউনিট যশোরে অবস্থান করছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগামীকালের জনসভা ঘিরে যশোর শহরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে টার্গেট করেছে জেলা বিএনপি। এ কারণে বিএনপির দলীয় প্রস্তুতিও শেষের পথে। জনসভা ঘিরে বাস, প্রাইভেট, মাইক্রো ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৫ হাজারেরমত যানবাহন আসবে ধারণায় ইতিমধ্যে ১০টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে এমপি মন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

আগামীকাল আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করতে এবং তাঁর মুখে আগামীর উন্নয়নের বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যশোরবাসী। বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকার প্রধানের আগমনের ওই দিন উৎসবের শহরে পরিণত হবে। শহরে ও শহরতলিতে, গ্রাম পার্যায়েও চলছে মাইকিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেধেছেন যশোরবাসী। এই সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় মান উন্নয়ন ঘটবে এমনটিই আশা সবার। নানা প্রত্যাশা ও দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আশাবাদ এ অঞ্চলের গণমানুষের।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জল হোসেনের তথ্যানুযায়ী, আগামীকাল বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে শার্শার উলশী খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিটে যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এটা গেল প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু যশোরবাসী নানা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও চান আগামীকালের জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ২ ফেব্রুয়ারি যশোরে এসেছিলেন। আর আগামীকাল যশোরে তার দ্বিতীয় সফর। গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিলেন, তার বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল তিনি যশোরের মানুষকে সাথে নিয়ে পূণখনন করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ২৭ এপ্রিল তার এই সফর। এছাড়া যশোরে মানূষের দীর্ঘদিনের দাবি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়নের। তারই রুপ দিতে তিনি আসছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মানুষের চাওয়া নিয়ে ২৩ এপ্রিল এই প্রতিবেদকের ফের কথা হয় পৌরবাসীর অনেকের সাথে। তাদের দাবি, বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্’ুদফা যশোরের জনসভায় যশোর পৌরসভা সিটি কপোরেশনের ঘোষাণার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তায়ন হয়নি। কিন্তু তারুণ্যের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেবেন এমনটি আশা করছেন তারা। একই সাথে ভবদহে জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোরে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিও পুরোনো। যশোরের সুধীজনদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটিও রয়েছে। তাদের দাবি, এই সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় দু’টি হোক। যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমান বন্দর করার দাবিও অনেকের।

‘যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ডক্টর মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এখন সময়ের দাবি। যশোরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২৩ এপ্রিল দুপুরে এই দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আশা করছি ২৭ এপ্রিল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে আশ্বস্ত করে যাবেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে। এ ব্যাপারে তিনি মঞ্চে থাকবেন যশোরে এমন ব্যক্তিদের সহায়তা কামনা করেছেন যাতে করে এ দাবিটি সভায় আলোচনায় উঠে আসে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়ভাবে জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত চৌকস ফোর্সগণ দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম জিরো টলারেন্স থাকবে। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল অফিসারদের সাথে সভা হয়েছে। নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগামীকালের জনসভা ও কর্মসূটি ঘিরে টাফিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছোট বড় মিলিয়ে ১০টি পার্কিং এলাকা নির্ধারন করা হয়েছে। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের গাড়ি রাখার জন্য আলাদা পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিনাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ নেতাকর্মীবাহী বাস মাইক্রো প্রাইভেট টার্মিনাল হয়ে শংকরপুর বাবলাতলার রাস্তায় পার্কিং করতে পারবে। নড়াইল থেকে সাধারণ নেতা-কর্মীদের বহন করে নিয়ে আসা বাস, প্রাইভেট মাইক্রোসহ অন্য ভার্সনের যানবাহনগুলো পার্কিং করতে হবে যশোর সরকারি সিটি কলেজ মাঠ ও মণিহার এলাকা। সেখানে জায়গা সংকুলান না হলে মণিহার থেকে খুলনামুখি মুড়লি পর্যন্ত চওড়া রাস্তার দুইপাশে পার্কিং করা যাবে। আর খুলনার দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো মণিহার এলাকা থেকে মুড়লির ওই একই রাস্তায় পার্কিং করবে। এছাড়া ওই রুটের গাড়ি মুড়লি থেকে শংকরপুর টার্মিনাল হয়ে শংকরপুর বাবলাতলা রাস্তায় পার্কিং করতে পারবেন সরকারি মুরগি খামারের আগ পর্যন্ত। মাগুরা থেকে আসা যানবাহনগুলো খাজুরা স্ট্যান্ডের আগে নেতা কর্মী সমর্থকদের নামিয়ে দিয়ে উপশহর এলাকায় পার্কিং করবে। উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠ, ঈদগাহ মাঠ ওই এলাকার রাস্তাগুলো ব্যবহার করতে পারবে পার্কিংয়ের জন্য। এছাড়া ঝিনাইদহ রুট থেকে আসা বাস প্রাইভেট মাইক্রোগুলো ধর্মতলায় নেতাকর্মী সমর্থকদের নামিয়ে দেবে। আর গাড়ি পার্কিং করতে হবে ধর্মতলা ছুটিপুর রাস্তায় জামতলা পর্যন্ত। এছাড়া ছুটিপুরসহ যশোর শহরের পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের গাড়ি ওই এলাকার এক নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করতে হবে। এছাড়া যশোর শহর, বিশেষ করে পৌরসভার মধ্যে সকল প্রকার যানবাহন আগের দিন থেকেই চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হবে। একইসাথে ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা বিএনপি বিশেষ সমন্বয় সভা করে আজকের মধ্যে এসব ব্যাপারে আরো একটি চূড়ান্ত রুপরেখা প্রদান করবে পার্কিং বিষয়ে।

এ ব্যাপারে যশোর সদর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ইউসুফ আলী চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ওই পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে পার্কিং এরিয়া ও স্পট আরো বাড়ানো হবে। জনসভার দিন শহরে কোনো যানবাহন প্রবেশ করবে না। শহরের অংশ পায়ে হেঁটেই যেতে হবে। পাশ পাওয়া কিছু গাড়ি প্রবেশ করবে। যশোর জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই জনসভায় লক্ষাধিক লোক সমাগমের টার্গেট করছেন। এর বেশিরভাগ লোকই আসবে শহরের বাইরে থেকে। বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্য ১০ জেলা থেকেও কমবেশি মানুষ জনসভায় আসবেন। একটি শান্তিপুর্ণ ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেয়ার চেষ্টা করছে জেলা বিএনপি। এরপর যানবাহনের দিকটিও সুন্দরভাবে দেখা হচ্ছে। এরজন্য ট্রাফিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক কারাগারে

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

X