
আজ ২৭ এপ্রিল যশোরবাসীর জন্য কাঙ্খিত দিন। যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর তাঁকে বরণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত যশোর। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ও জনসভা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাসহ কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে অনুষ্ঠানস্থলগুলো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তার এই যশোর সফর। সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ ও সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। তোরণ, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহরের অলিগলি। প্রতিদিন প্রচারপত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন নেতাকর্মীরা। যশোরের জনসভাস্থল
ঈদগাহ মাঠ, শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর জিয়া খালের প্রস্তাবিত খনন স্থান, যশোর মেডিকেল কলেজ সার্কিট হাউজ ও যশোর ইনস্টিটিউট এলাকা মোড়ানো হয়েছে এক অন্যরকম আবহে।
উলাশীতে গ্রামীণ জনপদের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে বইছে হাজারো প্রত্যাশা, স্মৃতি আর নতুন স্বপ্নের ঢেউ। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যশোরজুড়ে বেড়েছে উন্নয়নের নানা প্রত্যাশা। আজকের কর্মসূচি ও জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর উন্নয়নের একটি রোডম্যাপ এঁকে দেবেন এমন প্রত্যাশা যশোরবাসীর। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, আজ বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে শার্শার উলশী খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিটে যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।
প্রধারমন্ত্রীর পূণঃখালখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে উলাশী-যদুনাথপুর 'জিয়া খাল' আবারও ফিরে পাবে হারানো রূপ। বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল নিজ হাতে কোদাল ধরে মাটি কেটে খনন কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় অর্ধশতাব্দী সূচনা হবে আজ। আর এই কাঙ্খিত ক্ষণে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী সেজেছে নতুন রূপে। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে খালের দুই পাড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল জনসভার মঞ্চ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পাড় সংস্কার, রংতুলির কাজ সব মিলিয়ে পুরো এলাকা পেয়েছে নতুন সাজ। খালের মাঝখানের শুকনো অংশে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ গ্যালারিও নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে, আজকের জনসভা ও অন্যসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর উন্নয়নের বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যশোরবাসী। বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকার প্রধানের আগমনে আজকে উৎসবের শহরে পরিণত হবে যশোর। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেধেছেন যশোরবাসী। এই সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটবে এমনটিই আশা সবার। নানা প্রত্যাশা ও দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আশাবাদ এ অঞ্চলের গণমানুষের।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উন্নয়নের নানা প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন। ইতোমধ্যে স্মারকলিপি ও মানবন্ধনের মাধ্যমে একাধিক দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালু, যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, যশোর নড়াইল ও যশোর বেনাপোল মহাসড়ক দ্রুত ছয় লেনে উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং যশোর বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে রুপান্তর দাবি রয়েছে।
গতকাল যশোর ইদগাহ মাঠ ও মঞ্চের শেষ প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো যশোর সফরে আসছেন তারেক রহমান। এ সফর উপলক্ষে প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, "আমরা সৌভাগ্যবান এবং গর্বিত যে, এই সফরটি যশোর থেকেই শুরু হচ্ছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সকালে বিমান থেকে নেমে তারেক রহমান প্রথমে তার পিতার স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর সেখান থেকে ফিরে এসে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। "সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি যশোরের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন এবং পরে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন।"
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলছেন, “উলাশী খাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া যশোর মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতাকেই যশোরবাসী উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “যশোরের অধিকাংশ উন্নয়ন বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে যশোরবাসীর প্রত্যাশা অনেক।” পু লিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আজকের যশোর সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে গোটা যশোর। যেকোনো মূল্যে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলো নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল অফিসাররা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন