
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ভুমি অফিসের মাত্র পাঁচ গজ দুরে চত্বর দখল করে নৌকার নাগরদোলা স্থাপন করে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই নাগরদোলার আয়োজন করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আব্দুল হান্নান শান্তা নামে এক ব্যক্তি প্রশাসনিক ও এক শ্রেনীর বখাটেদের সুবিধা দিয়ে ঈদ মেলা উপলক্ষে এ ব্যবসা করে যাচ্ছে। ঈদ মেলায় শিশুদের বিনোদনের আড়ালে অশ্লীল নানা কর্মকান্ড চলে বলে স্থানীয়রা দাবী করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের আগে নেহালপুর ভুমি অফিসের মাত্র পাঁচ গজ দুরে চত্বর দখল করে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে নৌকার নাগরদোলা স্থাপন করে স্থানীয় আব্দুল হান্নান শান্তা নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগ উঠেছে, ভুমি অফিস চত্বরে প্রশাসনিক কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই মাঠ দখল করে নৌকার এ নাগরদোলা স্থাপন করা হলেও স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আব্দুল হান্নান শান্তাকে কোন বাঁধা দেয়নি।
জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের দিন হতে ২দিন চলে এ নাগরদোলা। প্রতিজন শিশু-কিশোর ৫০ টাকা ফি দিয়ে এক রাইডে ৩০থেকে ৪০জন একসঙ্গে দোলনায় চড়ানো হয়। প্রতিটি রাইড মাত্র ৫মিনিট স্থায়ী হয়। আর প্রতি রাইডের জন্য তার প্রায় ২ হাজার টাকা আয় হয়। এক ঘন্টায় ১২ রাইডে তার আয় হয় ২৪ হাজার টাকা।
প্রতিদিন ৭ ঘন্টা চলে এই দোলনা। তাতে করে এই দোলনার ব্যবসা করে দিনে আয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে গত ঈদে ২দিনে শান্তা আয় হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। তবে গতবার দোলনায় আয় টাকার একটি অংশ স্থানীয় প্রশাসনিক ও এক শ্রেনীর বখাটের দিয়ে খুশি করে রেখেছে বলেও প্রচার রয়েছে। যার কারনে ভুমি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের রহস্যজনক ভুমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান শান্তা ভুমি অফিসের মাঠ দখল করার কথা অস্বীকার বলেন, নায়েবের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে কিছু দিনের জন্য নাগরদোলাটি স্থাপন করেছি। এখন একটু সমস্যা হচ্ছে, কিছু দিনের মধ্যে ওই জায়গা থেকে দোলনা সরিয়ে নিবেন।
স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর দোলনাটি উচ্ছেদের জন্য এসিল্যান্ড স্যারের নিকট চিঠি দিয়েছি। দুই এক দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহিন দায়ান আমিন বলেন, ইতিমধ্যে দোলনাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগেই তিনি সরিয়ে নিবেন বলে জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন