
ঈদুল আজহার আনন্দ যখন কড়া নাড়ছে সবার দুয়ারে, তখন সমাজের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোর এক অনন্য উদ্যোগ দেখা গেল যশোরে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, সম্পূর্ণ ঘরোয়া আবহে ছিন্নমূল নারীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একবেলা উন্নতমানের খাবারের। আর এই অতিথিদের নিজ হাতে পরম মমতায় আপ্যায়ন করলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার দুপুরে শহরের অভিজাত কনভেনশন সেন্টার লাক্সারি ডাইনে আমেরিকান সাহায্য সংস্থা এডুকেশন চ্যারিটেবল হিউম্যানিটেরিয়ান অর্গানাইজেশনের (ইকো) উদ্যোগে এবং ইমদাদ সিতারা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের। যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চার শতাধিক ছিন্নমূল নারী। সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যিনি নিজ হাতে এই হতদরিদ্র মা-বোনদের পাতে খাবার তুলে দিয়ে আপ্যায়ন করেন। অভিজাত এক পরিবেশে এমন আতিথেয়তা ও উন্নতমানের খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত নারীরা।
শহরের আরএন রোডের জেসমিন খাতুন জানান, আমি কখনো এত ভালো জায়গায় আসিনি। আমাকে কেউ ডেকে অতিথি হিসেবে কখনো খাবার খাওয়ায়নি। আজকে আমি খুব খুশি। মন্ত্রী স্যার আমার প্লেটে নিজ হাতে খাবার দিয়েছে। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি একজন মন্ত্রী নিজ হাতে আমাকে খাবার তুলে দেবেন। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।
নাজমা বেগম নামে অপর এক নারী বলেন, আজ পোলাও, রোস্ট, ডিমের কোরমা আর গরুর মাংস দিয়ে খাবার খেয়েছি। কতদিন এসব খাবার খাই না। ঈদেও কখনো খাইনি। খুব খুশি হয়েছি। মন্ত্রী সাহেব আমাদের এত ভালোবেসে খাওয়াবেন স্বপ্নেও ভাবিনি। মন্ত্রী ও যারা এ আয়োজন করেছে সেই সংস্থা ইকোর জন্য মন থেকে দোয়া করছি।
ভিন্নধর্মী এ আয়োজনের বিষয়ে এডুকেশন চ্যারিটেবল হিউম্যানিটেরিয়ান অর্গানাইজেশনের (ইকো’র) প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের বলেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ঈদের আগেই ছিন্নমূল এই নারীদের একবেলা উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানো। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় মহৎ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা এমন আয়োজন করতে পেরে খুশি।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সমাজের বিত্তবান ও ইকো, ইমদাদ সিতারা ফাউন্ডেশনের মতো মানবিক সংগঠনগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে উৎসবের দিনগুলোতে কোনো মানুষই আর নিজেকে একা ভাববে না। আর এভাবেই সম্মিলিত প্রয়াসে ঈদের সত্যিকারের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে, এমনটাই প্রত্যাশা তার।
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আলাউদ্দিন আল মামুন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামার আরিফ নূর।
মন্তব্য করুন