
মিলনায়তনের প্রতিটি বৃদ্ধা মায়ের মাঝে খুশির ঝিলিক। সে খুশি যেন বিগত দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। ইতিপূর্বেও তারা পেয়েছেন ঈদ উপহার, নানান ধরনের সাহায্য সহযোগিতা, অংশ নিয়েছেন তাদের জন্য আয়োজিত ফল উৎসব, পিঠা উৎসবের মতো আরও কত কত অনুষ্ঠানে। কিন্তু শুক্রবার তাদের মাঝে সে খুশি ছাপিয়ে গেছে অতীতের সকল সময়কে। কেনোনা এই প্রথম কোনো মন্ত্রীকে কাছে পেলেন মায়েরা। ৪০০ মা তাই আনন্দে উদ্বেলিত ছিলেন। আর তাদের জন্য অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও তার পক্ষ থেকে মায়েদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ‘বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবারই হোক বৃদ্ধদের জন্য নিরাপদ আনন্দ আশ্রম’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুক্রবার জয়তী সোসাইটির নিজস্ব মিলনায়তনে ৬০ উর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির আয়োজনে বৃদ্ধা মায়েদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়েরা অনুষ্ঠানে অংগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে চলমান ৬০উর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির উপরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বাবাদের চেয়ে মায়েরা পিছিয়ে থাকেন। তাই জয়তী সোসাইটি আজ মায়েদের জন্য কাজ করছে। আমি চেষ্টা করবো আগামীতে এ চারশ’ মা যেন আগের চেয়ে ভালো থাকেন। দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা যা চালু ছিল আগে থেকে, এসকল জনবান্ধব কর্মসূচি যা এতকাল মায়েদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছায়নি। তাই যাতে মায়েদের কাছে সেবা পৌঁছায় সে লক্ষ্যে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে সে অনুদান সংসারের প্রধান হিসেবে নারীর কাছে প্রতি মাসে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে সম্প্রতি যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডে দুুই হাজার ৪২জন মাকে তাদের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যা আগামীতে তাদের কাছে প্রতি মাসে পৌঁছে যাবে। জয়তীর প্রতিটি মাকেও আগামীতে এ সেবার আওতায় আনা হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে সারাদেশকে এ সেবার সাথে সম্পৃক্ত করবে। আমারও চেষ্টা থাকবে যেন আগামী পাঁচ বছরের মধ্য যশোরের সব মায়েদের মাঝেও এ কার্ড পৌঁছে দেয়া যায়। যশোরের সন্তান হিসেবে, আপনাদের সন্তান হিসেবে সে চেষ্টা থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার। আজ আমার যতটুকু অর্জন এটি আমার বাবা মায়ের দোয়া বা তারা আমাকে এ পর্যায়ে আসবার জন্য তৈরি করেছিলেন বলেই আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। শুধু আমি নই আজ এ মঞ্চে যারা এসেছি তারা বাবা মায়ের কারনেই এখানে আসতে পেরেছি। বিগত সময়ের সরকারেরা কেনো এসকল মায়েদের পাশে দাঁড়াননি এটি একটি বড় প্রশ্ন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান সবার পাশে রয়েছেন। তরিকুল ইসলামের সন্তান হিসেবে সরকারি একটি দায়িত্বে রয়েছি তাই সেই সাথে আমিও আপনাদের আশস্ত করছি আমার নৈতিক দায়িত্ব এসকল মায়েদের জন্য সরকারের তরফ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিশ্চিত করা। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ব্যক্তিগতভাবেও সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং প্রতিটি বাবা মাকে ভালো রাখতে সবাইকে আহবান জানান।
এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগামীতে জয়তী সোসাইটির অঙ্গীকার বৃদ্ধা মায়েদের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্র আনন্দ আশ্রম বাস্তবায়নের কথা জানান এবং ঈদুল আযহার পরে বৃদ্ধা মায়েদের জন্য বিনামূল্য মেডিকেল ক্যাম্পের ঘোষণা দেন। যে মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ বিতরণ ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিনামূল্য অপারেশনের উদ্যোগও নেয়া হবে বলে মন্ত্রী আরও জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জয়তী সাসাইটির সভাপতি কাজী লুৎফুন্নেসা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস। আলোচনা করেন ৬০উর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির সদস্য ও দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৬০উর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সালেহা বেগম। উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন, ৬০উর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সহ-সম্পাদক পরিতোষ বিশ্বাস, সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, দাতা সদস্য ডা.আহসান কবির, শামসুন্নাহার পান্না, রাফফাত আরা ডলি, মমতাজ আহসান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মোট ৪০০ জন মায়ের মাঝে ঈদ উপহারে চাল, চিনি ও সেমাই বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জয়তী সোসাইটির ইউনিট ম্যানেজার বর্ণালী সরকার ও শাহনাজ পারভিন রূপা।
মন্তব্য করুন