
যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! গত ২৫ মে দুপুরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশের একটি বিশাল শিমুল গাছ হঠাৎ ভেঙে পড়ে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা নিলু দাসের একমাত্র বসতঘরের ওপর। কোনো ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে যায় তার স্বপ্নের ঠিকানা।
আকস্মিকভাবে গাছটি ঘরের ওপর পড়ে গেলে খাট-পালং, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ ঘরের প্রায় সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায়। প্রাণহানি না ঘটলেও পরিবারটি কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও ৩১ মে পর্যন্ত সড়ক কর্তৃপক্ষ গাছটি অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এখনো ভাঙা ঘরের ওপর পড়ে রয়েছে বিশাল শিমুল গাছটি। গাছটি সরানো না হওয়ায় নতুন করে ঘর নির্মাণও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামদিয়া গ্রামের দাসপাড়ার অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। দিনমজুর নিলু দাসও অত্যন্ত অসচ্ছল। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে তিনি একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন, যা ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় সেই শেষ সম্বলটুকুও ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “নিলু দাস অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে গাছটি সরানো বা নতুন ঘর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারি সহায়তা জরুরি। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত নিলু দাস বলেন, “অনেক কষ্ট করে একটা ঘর বানিয়েছিলাম। হঠাৎ গাছ পড়ে আমার একমাত্র আশ্রয় নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আছি। গাছ সরানো ও ঘর তৈরির সামর্থ্য আমার নেই। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত গাছটি অপসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক, না হলে নিলু দাসের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
মন্তব্য করুন