
ফেসবুক লাইভে এসে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যশোর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক এস্কেন্দার আলী জনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি আবারও ফেসবুক লাইভে এসে যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ ও সদস্য সচিব আনছারুল হক রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর কোর্টের জিআরও খাইরুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতে এস্কেন্দার আলী জনির পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর চক্রবর্তী। জনি যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম মানিকের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ ও সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা বাদী হয়ে এস্কেন্দার আলী জনির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনি একসময় যশোর জেলা যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর থেকে তিনি দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ ও সদস্য সচিব আনছারুল হক রানার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে এস্কেন্দার আলী জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে নিয়মিত আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার বিকেলে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি পুনরায় ফেসবুক লাইভে এসে পূর্বের মতোই বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এদিকে আদালতের একটি সূত্র জানায়, জনির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ধারাগুলো জামিনযোগ্য ছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর ঈদের ছুটির কারণে নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে নিয়মিত আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হলে জামিনযোগ্য ধারার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন