
যশোরের ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর দক্ষিণপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠক চলাকালেই প্রতিপক্ষের লোকজন চড়াও হওয়ায় সালিশ ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আরএস প্রিন্ট পর্চা ও রেকর্ড অনুযায়ী তারা প্রায় ৫৬ বছর ধরে পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমি, পুকুর ও বাঁশঝাড় ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু একই এলাকার মৃত আকবর ড্রাইভারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
তাদের দাবি, গত ২৪ মে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউলের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় দফা সালিশ চলাকালে আনোয়ার হোসেনের ভাইপো সিহাব উত্তেজিত হয়ে শাহাবুর নামের এক ব্যক্তির গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনায় উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে সালিশ ত্যাগ করলে বৈঠকটি ভেঙে যায়।
সালিশ ভেঙে যাওয়ার পরপরই প্রতিপক্ষের লোকজন বিতর্কিত জমির চারপাশে প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, 'জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ওই জায়গায় বর্তমানে ১৪৪ ধারা বহাল আছে।'
মন্তব্য করুন