
যশোরের মণিরামপুরে রাজমিস্ত্রি ইমামুল হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হুসাইন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, নাতনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইমামুল হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিয়েছিল বলেও তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হুসাইন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের এনামুল সরদারের ছেলে। নিহত ইমামুল হোসেন একই গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হুসাইন বলেন, ইমামুলের নাতনির সঙ্গে একই গ্রামের বাপ্পীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ইমামুলের সঙ্গে তাদের জমি-সংক্রান্ত বিরোধও চলছিল। এসব ঘটনার জেরে সোমবার রাতে ইমামুল বাড়ি থেকে বের হয়ে মণিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর তিন রাস্তার বাঁশতলা মোড় এলাকায় মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার পথরোধ করা হয়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, হুসাইন প্রথমে চাপাতি দিয়ে ইমামুলকে কোপ দেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।
এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমামুল হোসেনের নাতনি সুমাইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করছিল ফারাসাতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। বিষয়টি জানতে পেরে ইমামুল প্রতিবাদ করলে রাব্বি তাকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। সোমবার রাতে রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের সামনে একা পেয়ে হুসাইন, রাব্বি ও তাদের সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সোমবার রাতেই হুসাইনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং অন্য জড়িতদের নাম উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মন্তব্য করুন