
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কালীবাড়ি মোড় বা আটা চাঁদনী এলাকায় প্রতিদিন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা আটা চাঁদনী এবং এর চারপাশের অপরিকল্পিত অবস্থা শহরের প্রধান এই সংযোগস্থলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই চাঁদনী অপসারণ করে এলাকাটি উন্মুক্ত করা হলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল বা ট্রাফিক মোড় থেকে চাঁদনীর সামনে নলডাঙ্গা রোড, কোলাবাজার রোড, হাসপাতাল রোড এবং নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে থানার সামনে দিয়ে কলেজ রোড হয়ে সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এসে মিলিত হয়েছে আটা চাঁদনীর সামনে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এই জায়গাটি কালীবাড়ির মোড় বা আটা চাঁদনীর মোড় নামে পরিচিত। এক কথায় এটি কালীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র।
কিন্তু এই প্রাণকেন্দ্রের প্রধান সমস্যাই হলো জরাজীর্ণ আটা চাঁদনী। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার বা পরিকল্পিত উন্নয়ন না হওয়ায় চাঁদনীটি এখন প্রায় ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এর চারপাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
বিশেষ করে অফিস সময়, স্কুল-কলেজ ছুটির সময় এবং বাজারের ব্যস্ত সময়ে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। ফলে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময় এবং বাড়ছে দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি শুধু বাজার বা শহরের যোগাযোগের জন্য নয়, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এই সড়কটিই প্রধান ভরসা। কিন্তু যানজটের কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এছাড়াও এই পথ দিয়েই যাতায়াত করতে হয় কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি নলডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি সলিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি মাহাতাব উদ্দিন কলেজ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। যানজটের কারণে তাদেরও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিনের এই অসহনীয় যানজট আমাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। দোকানে বসে থেকেও অনেক সময় ব্যবসা করা যায় না। ক্রেতারা যানজট ও ভিড়ের কারণে এই এলাকায় আসতে চান না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
রিকশাচালক ইমতিয়াজ বলেন, এই মোড়ে আসলে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রিকশা ঘোরানো যায় না, সামনে এগোনোর জায়গা থাকে না। যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে যান, অনেক সময় তারা ভাড়া নিয়েও নেমে হেটে চলে যান। এতে আমাদেরও ক্ষতি হয়। আটা চাঁদনীর ভেতরে আটার ব্যবসা করা এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। অনেকের জীবিকা এই জায়গার ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে যদি আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব। তবে সরকার যদি আমাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে আমরা সেখানে যেতে রাজি আছি।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, আটা চাঁদনীর আশেপাশে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করে বড় বড় ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্ত করা হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি আমি সরোজমিনে গিয়ে আরো ভালো করে দেখে তারপর যা করা লাগে ব্যবস্থা করা হবে। আটা চাঁদনী ও আশপাশের এলাকায় যদি যানজটের সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে তাহলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আমিও বিষয়টি দেখেছি। এই আটা চাদঁনী যদি এখান থেকে অন্য কোথায় স্থানারিত করা যায় তাহলে অনেকাংশেই যানজট কমে আসবে। আর এ ব্যাপারে যদি স্থানীয় ব্যবসায়ীর চান যে এই আটা চাঁদনী অন্য কোথাও স্থানারিত করতে হয়, সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হবে।
মন্তব্য করুন