মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আজ মহেশপুরের ফতেপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূঁজার মেলা

আব্দুর রহমান, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) থেকে
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আজ মহেশপুরের ফতেপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূঁজার মেলা

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর বকুলতলা বাজারে আজ ৩রা বৈশাখ ঐতিহ্যবাহী চড়কপূঁজার মেলা অনুষ্ঠিত হচেছ। নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী উপজেলার ফতেপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূঁজার মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উপলক্ষে পূঁজা কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কপোতাক্ষ নদ থেকে চড়ক গাছটি তুলে বকুলতলা বাজারে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পঞ্জিকা অনুযায়ী ৩রা বৈশাখ এবং হিন্দুদের মতে ২রা বৈশাখ বৃহস্পতিবার বকুলতলা বাজারে এই চড়কপূঁজা বা বানফোঁড় অনুষ্ঠিত হবে। চড়কপূঁজার উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে চড়কপূঁজার উৎসব এখানে পালিত হয়ে থাকে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে তাই তাদের দেখাদেখি আমরাও এই উৎসবটি আনন্দের সাথে পালন করে থাকি।

মেলার প্রধান আর্কষন চড়কপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কিছু লোক সন্যাসী সেজে পিঠে লোহার বরসি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে রসির সাথে বেঁধে ঘুরানো হয়। এবার একে একে ৮ জন সন্যাসীকে এই ভাবে পিঠে বড়সি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানো হবে।

এবার যারা সন্যাসী সেজেছেন বা পিঠে বরসি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে উঠে ঘুরবেন তারা হলেন, শ্রী অসিত কর্মকার(মনা),মহাদেব হালদার,বিপ্লব কর্মকার,সাধন বাবু রায়,ভীম হালদার,অধীর কুমার,বসুদেব,আনন্দ মিস্ত্রী। চড়ক পাক দেয়া হয় দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রবীন সন্যাসী মনা কর্মকার জানায় তিনি ৩ যুগের বেশি সময় ধরে বানফোঁড় করে আসছে। তার পূর্বপুরুষ এই বানফোঁড় বা চড়কপূজার করে এসেছে আমরা তাদের দেখাদেখি এই পূঁজা করে আসছি। দীর্ঘদিন করে আসলেও তার কোন সমস্যা হয় না।

মেলার সভাপতি আরো জানান, তারা এই চড়ক পূজা সন্ন্যাসীদের পিঠে বরসি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানোকে চড়কপূজা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। এবছর ১৬ই এপ্রিল ৩রা বৈশাখ সন্ন্যাসীদেরকে চড়ক গাছে ঘুরানো হবে।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাটি দেখতে আসে। এমনকি পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলা উপভোগ করতে এসে থাকে। তবে এবছর এই চড়কপূজার গিড়ে যে মেলাটি হয় থাকে তার উপরে প্রসাশনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি করা হয়েছে। যেকারণে কোন মেলার জমজমাট আসর বসবে না।

গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি শ্রী সাধন হালদার বলেন, এই মেলা আগে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে শ্রী অমুল্য বাবু জজ সাহেবের জমিতে হাট খোলায় অনুষ্ঠিত হতো (বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্প করা হয়েছে)। এর পরে মহেশপুর চাঁদপুর দাসপাড়ায় (বর্তমানে কাশেম চেয়ারম্যান বাড়ি করেছে) এবং বকুলতলা বাজারে অনুষ্ঠিত হতো। এই চড়ক পূজার মেলা কখন থেকে কিভাবে শুরু হয়েছে তার সঠিক কোন ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে প্রবীন হিন্দুরা মনে করেন, ৪/৫শ বছর পূর্ব থেকে এই পূজা চলে আসছে।

ব্রিটিশ আমলে ফতেপুরের জজ সাহেব শ্রী অমুল্য কুমার চট্রোপাধায়, কলকাতা কলেজের অংক শাস্ত্রের শিক্ষাবিদ নগেন্দ্রনাথ মজুমদার, শ্রী মিলাম্বর মুখ্যোপাধ্যায়, কাশ্মীর মহারাজের মন্ত্রী পরে কলকাতা মিউনিসিপ্যালের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, পি মুখার্জী তৎকালীন ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভারসিটি থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে বঙ্গ দেশে উচ্চ পর্যায়ের সরকারী চাকুরী করেন।

এই সকল ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় সে সময় এই মেলা পরিচালিত হতো। বর্তমানে এখানকার হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমানোর কারনে মেলাটি অদূর ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন ইতিহাস থেকে জানা যায়, সেন বংশের শাসন আমলে কাশ্মির থেকে চড়ক পূজা শুরু হয়। সে সময় শিব ভক্ত একজন হিন্দু ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তাকে বিভিন্ন উপায়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করা হয়।

পরে তার পিঠে বরসি ফুঁটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে শিবকে পূজা করার পর তার রোগ মুক্তি হয়। সেখান থেকে এই চড়ক পূজার সৃষ্টি হয়েছে বলে এক ইতিহাস থেকে জানা যায় তবে এ নিয়েও মতৈনক্য রয়েছে। আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাকে কেন্দ্র করে পূরা চৈত্র মাস পাড়ায় পাড়ায় বালাকি গান করতো।

সন্ন্যাসীরা গভীর রাতে শীব পূজা করতো এবং সপ্তাহ ধরে ফল-ফুল্ললী খেয়ে জীবন ধারন করতো। পূজা কমিটির লোকজন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মেলার ২/৩দিন আগে ফতেপুরের কপোতাক্ষ নদ থেকে চড়ক গাছ তুলা হতো।

এ বিষয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তি। বর্তমানে চড়ক পূঁজা ছাড়া অন্যা কোন আনুষ্ঠানিকতা আর হয় না। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্রমান্বয়ে ভারত চলে যাওয়ায় মেলাটি আস্তে আস্তে ঐহিত্য হারিয়ে ফেলছে।

পূজা কমিটির লোকজন এবারও বিপুল পরিমানে লোক সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করছিলো কিন্তু আইনশৃঙ্খলা,নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে এটি সীমিত করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই উৎসব পালনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তথ্য কেন্দ্র খোলা হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম পুলিশ সহ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

এ দিকে এই মেলাকে কেন্দ্র করে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংকে টাকা তোলার হিড়িক

গেমসের ট্রায়াল দিতে ঢাকায় জিনাত

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ জনের নামে মামলা, আটক ৩

নড়াইলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

X