
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দেবরাজপুর গ্রামে সরকার ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নকল বিড়ির রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় অসাধু বিড়ি ব্যাবসায়ী। উপজেলার দেবরাজপুর ও পারখিদ্দা গ্রামের বেশ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি ১৯৬নং আজিজ বিড়িসহ বিভিন্ন ধরনের বিড়ি নকলভাবে তৈরি করে তাতে নকল ব্যান্ডল লাগিয়ে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের জেলার বাজারেও বিক্রি করছে।
সরোজমিন ওই এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দেবরাজপুর গ্রামের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়ায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি বাড়িতে নকল বিড়ি তৈরির কাজ চলছে। গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষেরা বিশেষ করে মহিলারা এ বিড়ি তৈরি করছেন। তারা বিভিন্ন বিড়ির পাতা, লেবেল, ব্যান্ডল ও তামাক পাতা নকল করে বাড়িতে তৈরি করে তা মহাজনের নিকট পৌঁছে দিচ্ছেন। নকল বিড়ির ১০০০ স্টিক তৈরি করলে তারা মজুরি হিসেবে ৫০ টাকা পান।
বিড়ি তৈরির কয়েকটি ধাপ রয়েছে। যেগুলো আলাদা আলাদাভাবে তারা করে থাকেন। এসব বিড়ি তৈরি করে রাতের আঁধারে বিভিন্ন হাট-বাজারে এজেন্ট ও বড় ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে থাকেন ব্যাবসায়ীরা।বিশেষ করে বারোবাজার,দুলা মুন্দিয়া,ও মিলগেট দিয়ে এই চালান যেয়ে থাকে।
নকল ব্যান্ডেল লাগিয়ে নকল বিড়ি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে পূর্বে এই গ্রামের শাহজাহান আলী, আমীর হোসেনের বাড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে বিড়ি তৈরির মালামালও জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী । তবুও তারা আইনকে তোয়াক্কা না করে নকল বিড়ির ব্যবসা পুরাদমে চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
কালীগঞ্জের দেবরাজপুরের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী হলেন শাহজাহান আলী। তিনি শুধু বিড়ি নয়, নকল গুলও তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করেন। বিড়ি তৈরির মেশিন ও সরঞ্জাম রয়েছে তার বাড়িতে। গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার মহিলা ও পুরুষ মিলে তার বিড়ি তৈরির আউটসোর্স ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করে। কালীগঞ্জের বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তিনি বিড়ি তৈরির সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও তৈরিকৃত নকল বিড়ি পরিবহন করে থাকেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, দেবরাজপুর গ্রামের নকল বিড়ি তৈরির খবর আমাদের জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে সেখানে যদি আইনবিরোধী কাজ হয়ে থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
দেব্রাজপুর গ্রামে নকল ব্যান্ডেল লাগিয়ে নকল বিড়ির ব্যবসার জন্য সরকার প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলও এসব নকল বিড়ি কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মন্তব্য করুন