
তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল লতিফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল লতিফ। পরে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে তাকে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন রাত ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক পিপি ও সাতড়্গীরা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী সরকার আমলে অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে লাগাতর কর্মসূচি পালন করতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ ও ভারতীয় গরুর খাটাল।
ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি অবৈধ বিপুল সম্পদের মালিক হন। তবে তার মৃত্যুতে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলো দায়েরের পর তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
নিহতের মেয়ে শাম্মি জানান, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ তার বাবা আব্দুল লতিফ ও ভাই রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন