
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান — এমন শঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) লাহোরে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পর পাকিস্তান দলের ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন করা হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শেষ মুহূর্তে অনিবার্য কারণে এটি স্থগিত করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে সুপার সিক্স পর্বের শেষ ম্যাচে। রবিবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দুই প্রতিবেশী দেশ সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই করবে। সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পাকিস্তানকে জিততেই হবে, এবং সঙ্গে রানের গড়ও বাড়াতে হবে। অন্যদিকে, ভারতের জন্য কেবল জিতলেই যথেষ্ট হবে। তবে হারের ব্যবধান বেশি হলে তাদেরও বিপদ হতে পারে।
সুপার সিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, একই গ্রুপ থেকে যে দলগুলো উঠে আসে, তাদের গ্রুপের জয়পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হয়। ‘সি’ গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে উঠে এসেছে, যেখানে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে, পাকিস্তান ২ পয়েন্ট নিয়ে এবং জিম্বাবুয়ে খালি হাতে। কারণ, ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে, পাকিস্তান জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে।
সুপার সিক্সে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। এবার সামনে ভারত। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার সিক্সে উঠে আসা ভারত হাতে পেয়েছে ৪ পয়েন্ট, পাশাপাশি জিম্বাবুয়েকে ২০৪ রানে হারিয়ে পয়েন্ট বাড়িয়েছে ৬ এবং রানরেট +২.৯৭৬। এই অবস্থায়, পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে খেলতে হলে কেবল ভারতকে হারানো যথেষ্ট নয়, রানের গড়েও এগিয়ে থাকতে হবে।
পাকিস্তান যদি আগে ব্যাট করে, তাহলে ভারতকে কমপক্ষে ১০৫ রান বা তার বেশি ব্যবধানে হারাতে পারলেই শেষ চারের চাবি পেয়ে যাবে তারা। আর যদি পরে ব্যাট করে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব রানটা তাড়া করে ম্যাচটা জিততে হবে পাকিস্তানকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, লক্ষ্য যদি হয় ২৫১ রান, পাকিস্তানকে সেই রানটা ২৯.৪ ওভার কিংবা তার চেয়ে কম বলের ভেতরই তাড়া করে জিততে হবে। ব্যাপারটা কঠিন সন্দেহ নেই, তবে অসম্ভবও নয়। যুব এশিয়া কাপের ফাইনালেই তো ভারতকে ১৯১ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানের এই দলটাই। বৈভব সূর্যবংশীর তেজ ১০ বলে ২৬ রানেই খতম, অন্যদিকে সামির মিনহাস করেছিলেন ১৭২ রান যেখানে ভারতের গোটা দল মিলে করেছিল ১৫৬ রান। মাত্র ৪০ দিন আগেই যে দলটা এমন কা- ঘটিয়েছে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার জন্য তারা সে রকমটা করতেই পারে।
যুব এশিয়া কাপ ফাইনালের পর ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। বড়দের রেখে যাওয়া এই সংস্কৃতি যুবরাও অনুসরণ করছে, যা স্পষ্ট করছে ক্রিকেটে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব।
মন্তব্য করুন