
ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল অ্যাস্টন ভিলা। ঘরের মাঠ ভিলা পার্ক-এ ইতালির বোলোগনা এফসি-কে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
দুই লেগ মিলিয়ে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে ভিলা। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ আরেক ইংলিশ ক্লাব নটিংহাম ফরেস্ট—যা তৈরি করছে এক জমজমাট অল-ইংলিশ লড়াই।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন ভিলার তারকা স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্স। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ইতালিতে প্রথম লেগের ৩-১ ব্যবধানের জয়েও তার বড় অবদান ছিল। ফিরতি লেগেও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
এই গোলটি ছিল ভিলার জার্সিতে তার ১০০তম গোল, যা তাকে ক্লাব ইতিহাসে বিশেষ জায়গায় নিয়ে গেছে। ১৯৬২ সালের পর প্রথমবার কোনো খেলোয়াড় এই মাইলফলক ছুঁলেন।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটিই ছিল ওয়াটকিন্সের ১০ম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ক্লাবের সর্বকালের সেরা ইউরোপীয় গোলদাতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
২০২০ সালে অভিষেকের পর থেকে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর মধ্যে কেবল মোহাম্মদ সালাহ (১৫৯) ও আর্লিং হালান্ড (১৫৭) গোল করার দিক থেকে ওয়াটকিন্সের উপরে আছেন। কোপ্পা ইতালিয়া চ্যাম্পিয়ন বোলোনিয়া এবার আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের কোচ ভিঞ্চেনজো ইতালিয়ানো গত দুই মৌসুমে ফিওরেন্তিনাকে কনফারেন্স লিগের ফাইনালে তুললেও, এমেরির কৌশলের কাছে এবার তিনি পুরোপুরি পরাস্ত। প্রথম লেগে জোনাথন রো কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও কালকের ম্যাচে ভিলা রক্ষণ ছিল নিশ্ছিদ্র।
ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে অধিনায়ক জন ম্যাকগিন মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং রজার্স তার গোলখরা কাটিয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান। পুরো আসরে মাত্র একবার (গো অ্যাহেড ইগলসের বিপক্ষে) হারের মুখ দেখা ভিলা এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবিদার।
১৯৮২ সালে ইউরোপীয় কাপ জয়ের পর থেকে মহাদেশীয় আসরে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি অ্যাস্টন ভিলার। তবে বর্তমান ফর্ম আর ওয়াটকিন্সের অবিশ্বাস্য ছন্দ স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভক্তদের। সেমিফাইনালে অল-ইংলিশ লড়াইয়ে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে হারাতে পারলেই শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে যাবে তারা।
আগামী মাসে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার দৌড়েও ওয়াটকিন্স নিজেকে এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করছেন। এখন দেখার বিষয়, এমেরির মগজ আর ওয়াটকিন্সের পা ভিলাকে ৪৪ বছরের সেই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি এনে দিতে পারে কি না।
মন্তব্য করুন