
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। বিষয়টি জানিয়েছে শাফাক নিউজ।
ভিসা অনুমোদন বিলম্বিত হওয়ায় প্রস্তুতি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রস্তুতি ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নেওয়া হয়। দলটির ৭ জুন সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ-জি’তে খেলবে ইরান। তাদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এরপর একই শহরে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে এই তিন ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জন্য।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।
এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইরান দলের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন হচ্ছে, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন বিদ্যমান।
এই বাস্তবতায় ইরানের অংশগ্রহণ শুধু ক্রীড়া নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূরাজনীতির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্বকাপ চলাকালে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন