
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও শাণিত করতে হন্ডুরাসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি পুরো ম্যাচ বেঞ্চে থাকলেও জয় পেতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচে স্কালোনি প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে ৯০ মিনিট খেলেছেন কেবল অগাস্তিন গিয়াই। তবে দর্শকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল মেসিকে মাঠে দেখা। পেশির ক্লান্তি ও সামান্য চোটের কারণে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফল আসে ৩৭তম মিনিটে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ফাউল করলে স্পট-কিক পায় আলবিসেলেস্তেরা। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা তাদের লিড বাড়িয়ে নেয়। লাউতারো মার্টিনেজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড জিউলিয়ানো সিমিওনে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন। তার এই গোলেই ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয়।
গোলের পর স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনলেও মেসিকে মাঠে নামাননি। ফলে পুরো ম্যাচই বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে।
ম্যাচের আগে মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি জানান, মেসি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন।
স্কালোনির ভাষ্য, মেসি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো অনুভব করছেন। বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের যেকোনো একটিতে তাকে কিছু সময়ের জন্য মাঠে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২৫ মে ক্লাব ফুটবোলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে সামান্য চোট পান ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। এরপর জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেও তাকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে আগামী ১৬ জুন ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
তবে বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে আগামী ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির শিষ্যরা। সেই ম্যাচে মেসিকে মাঠে দেখা যেতে পারে কি না, সেটিই এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
মন্তব্য করুন