
এট্টা জীবনের দাম কত? ময় মুরুব্বীগের মুকি শুনিচি জীবন অমূল্য। যা কোন দাম দিয়ে কিনা যায় না। কিন্তুক দিনকে দিন কমচে মানসির জীবনের দাম।
এই যিরাম দিপালী শিকদার কাকীর জীবনের দাম মাত্তর দুইশো টাকা। দুইশো টাকার জন্যি তার জানডাই খ্যায় হইয়ে গেচে। দুক্কুজনক ঘটনাডা ঘইটেচে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
শ্বাস কষ্ট নিয়ে মরো মরো অবস্তায় চিকিৎসে নিতি আইলো মেহেন্দিগঞ্জ উপজিলার পূব খড়কি গিরামের শংকর শিকদার কাকার বউ দিপালী কাকী। কাকী যকন বাচার জন্যি হাসফাস কচ্চিল তকন তারে নলের মাইদ্যমে অক্সিজেন দিয়া কতা কইলো ডাক্তার সাহেব।
অবস্থার কেরমে কেরমে খারাপের দিকি যাতি থাকলি তারে টানা দুই ঘণ্টা অক্সিজেন দিয়ার নিদ্দেশ দিয়া হইলো। রুগি রাকার জন্যি কোন জাগা বা বেড না পাওয়ায় হাসপাতালের টলির উপর শুয়ায়ে রুগিরে অক্সিজেন দিয়া হচ্চিল। হাসপাতালের টলি ব্যবহার করার জন্যি মেডিসিন ইউনিট-১ এর কম্মচারী সোহেল স্যানে হাজির হইয়ে ২০০ টাকা টলি ভাড়া দাবি করে। দাবি করা ২০০ টাকা সময় মতো না দিয়ায় রুগিরে টলিত্তে নামায়ে টলি নিয়ে চইলে যাওয়ার জন্যি বাগড়া বাদায় ঐ কম্মচারী।
কিন্তুক রুগির সাতে লোকজন টলিত্তে নামাতি নারাজ ছিল কারন টলিতি শুয়ায়ে তারে অক্সিজেন দিয়া হচ্চিল। টাকাও দেচ্চে না আবার কতাও শোনচে না দেইকে সোহেল মিয়া খাররা হইলো। রুগি যকন সলে সলে টলিত্তে নামছে না দেইকে রুগির নাকেত্তে অক্সিজেনের নল খুইলে দিলো। রুগির লোকজন তারে বহুত কাউমাউ করিল। কিন্তুক সোহেল মিয়ার সে দিকি তাগানোর সুমায় নেয়।
টলি খালি কইরে আরাটা কাস্টমার ধত্তি পাল্লি তার কামোয় হবে। তাই সে অক্সিজেনের নল খুইলে রুগিরে নিচে উলায় দিয়ার চিস্টা দিল। কিন্তুক কপালের ফের। নল খুলার দুই মিনিটির মদ্দিই শ্বাসকষ্টে দিপালী কাকীর জানডাই বাইরোয় গিলো।
রুগি মইরে গেলি কারো কি আর মাতা ঠিক থাকে সাতে সাতে ঠুসোয়ে সোহেলরে পাটায় ফেলিল লোকজনে। এই নিয়ে হুটোপাটা বাদলি কত্তিরপক্ক তারে সাসপেন কইরেচে। পাশাপাশি তার বেতন ভাতাও বন্দ কইরে দেচে। কিন্তুক যে জীবনডা চইলে গেলো সিডা কি আর ফেরবে ! ইতি অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন