শিরোনাম: ফিল্মিস্টাইলে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই        তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে       যশোরে মারা যাওয়া এক নারীর তাকানো নিয়ে চাঞ্চল্য!       তায়কোয়ান্দোকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা       ফসকে গেল যমেক হাসপাতালের দু ’চাঁদাবাজ        শ্যামনগরে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস       বেনাপোল সীমান্ত থেকে কোটি টাকার সোনার বারসহ নারী আটক       খুলনায় কর্মহীন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ       সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১       মোল্লাহাটে ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক      
আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত রুপ
মিজানুর রহমান
Published : Wednesday, 22 July, 2020 at 12:54 AM
আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত রুপরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আলবার্ট আইনস্টাইন উভয়ই সংগীত ও প্রকৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, এবং তারা আপেক্ষিকতা তত্ত্ব সহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে নিজেদের ভিতর গভীর আলোচনা করেছিলেন। একবার তাদের আলোচনা মোড় নিয়েছিলো ‘সত্য’, ‘সুন্দর’ এবং এ-বিষয় দু’টি মানবচেতনা নিরপেক্ষ কিনা সে-প্রশ্নের দিকে। ‘সত্য’ ও ‘সুন্দর’-কে রবীন্দ্রনাথ যখন মানব চেতনা নিরপেক্ষ হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন, আইনস্টাইনের পাল্টা প্রশ্ন ছিলো, “যদি মানুষ কখনো বিলুপ্ত হয়, তাহলে বেলভাদ্রের অ্যাপোলো কি আর সুন্দর রবে না?”। রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিয়েছিলেন,‘না’। প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন আইনস্টাইন, “সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে আপনার ধারণা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু সত্যের ক্ষেত্রে নয়”। আইনস্টাইনের যুক্তি ছিলো-বৈজ্ঞানিক সত্যকে বাস্তবতা-নিরপেক্ষ হিসাবে গ্রহণ করা উচিৎ। তখন রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিলেন, “যদি এমন কোন সত্য থাকে, যার সাথে আমাদের চেতনার কোন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা যৌক্তিক সম্পর্ক নেই, তাহলে মানুষের কাছে সেই সত্যের কোন অস্তিত্ব থাকাই সম্ভব নয়”। আইনস্টাইন সম্ভবত কিছুটা বিজয়দৃপ্ত হয়ে বলেছিলেন, “তাহলে আমি আপনার চেয়ে বেশি ধার্মিক”।
এই দুই মহাপুরুষের ঐ আলোচনা থেকে মানব মনের সাথে সৌন্দর্য, সত্য ও আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মের সম্পর্ক সম্বন্ধে একটা ভিন্ন ধারণা লাভ করা যায়। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা হলো মানুষের পাঁচটি প্রধান আচরণগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভূক্ত, যা আধুনিক মানুষের বিকাশ লাভের সাথে গড়ে উঠেছে এবং প্রত্যেকটি সংস্কৃতিতে এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। অন্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল ভাষা, উন্নততর যন্ত্রসামগ্রী, সংগীত ও কলা। মানব প্রজাতিকে তার স্রষ্টায় বিশ্বাসের দরুণ 'ঐড়সড় জবষরমরড়' বলে আখ্যায়িত করা হয়। যে বিশ্বাসকে সর্বজনীন বললে খুব বেশি ভুল বলা হবে না। ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বা আচরণের অবশ্যই জীববিজ্ঞান ভিত্তিক কারণ রয়েছে, যা বংশগতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ঠিক যেমন ভাবে প্রভাবিত হয় আমাদের বুদ্ধিমত্তা। মানুষ সর্বদাই একটা কিছুর সন্ধানে নিয়োজিত কিন্তু কখনোই তার সন্ধান মেলে না। এই সন্ধান জীবিকার সন্ধান নয়, সম্পর্কের সন্ধান নয়, এমনকি অর্থেরও নয়। তাহলে কি? উত্তর হলো স্রষ্টা। মানুষ উপলব্ধি করছে, সে যাই করুক না কেনো, তাঁর উপস্থিতি ছাড়া সবকিছুই অপূর্ণ থেকে যায়। অনেকের কাছে ধর্ম হচ্ছে স্রষ্টার প্রত্যক্ষ প্রকাশ। আবার অনেকে মনে করেন এই বিষয় দু’টি অবিচ্ছেদ্দ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত নয়।
আধ্যাত্মিকতা মানে বিশেষ কোন অনুশীলন নয়। এটা জীবন যাপনের একটি ধরন। সেখানে পৌঁছতে গেলে, অনেক কিছু করার আছে। এটা আপনার বাড়ির বাগানের মতন। যদি মাটি, সূর্যের আলো, পানি গাছটি সঠিক নিয়মে না পায় তাহলে ফুলটি ফুটবে না। আপনাকে উপাদান গুলো নির্দিষ্ট ভাবে যোগান দিতে হবে, যত্ন নিতে হবে। সেরকম ভাবেই আপনি যদি আপনার শরীর, মন, আবেগ, শক্তি-সামর্থ্য- এগুলোকে বিশেষভাবে পরিচর্যা করেন তাহলেই আপনার মধ্যে আলাদা কিছু একটা প্রস্ফুটিত হবে। যতক্ষণ আপনার বিচারবুদ্ধি অপক্ক থাকবে ততক্ষণ তা সবকিছুকেই সন্দেহের চোখে দেখবে। কিন্তু যখনই সেটি পরিণত হবে, তখন সেটি সবকিছুকে এক আলাদা মাত্রায় অনুভব করতে শুরু করবে।
যখনই কোন মানুষ তার নিজের অভিজ্ঞতার বৃত্তের বাইরে বৃহত্তর কিছু অনুভব করেছে, সেটাকেই চিরাচরিত ভাবে স্রষ্টা বলে ভেবেছে। স্রষ্টার গোটা ধারণাটাই হলো– আপনার চেয়ে বৃহত্তর কিছু। সেটা অনুভূতি হতে পারে, প্রকৃতির কোনও দিক হতে পারে। কিন্তু এটাকে কি আধ্যাত্মিক বলা যায়? না, এটা স্রেফ জীবন। যখন আমরা বলছি ‘স্রেফ জীবন’ আমি কিন্তু ব্যাপারটাকে একেবারেই ছোট করছি না। জীবনই শ্রেষ্ঠতম। কিন্তু যখন আপনার জীবন কোনো কিছু দ্বারা বিহ্বল ও প্রগাঢ়ভাবে আনন্দময় হয়ে ওঠে, তখনই আপনার মাঝে এই প্রশ্ন জাগে যে এটার সৃষ্টিকর্তা কে?
আপনি যদি জীবনের উৎস বা প্রক্রিয়াকে জানতে চান, তাহলে এটা মানতেই হবে যে আপনার নিকটতম সৃষ্টির নজির হচ্ছে আপনার নিজের শরীর। আর যদি আপনি নিজের মধ্যে সৃষ্টির উৎসের সন্ধান খুঁজে পান, তার মানেই আপনি আধ্যাত্মিক।
একজন অনীশ্বরবাদী আধ্যাত্মিক হতে পারেন না। একজন ঈশ্বরবাদীও আধ্যাত্মিক হতে পারেন না। এর কারণ হলো এই দুজনের মধ্যে তফাৎ নেই। একজন বিশ্বাস করেন স্রষ্টা আছেন, অন্যজন বিশ্বাস করেন স্রষ্টা নেই। সত্য আপনার জানা নেই, এটা স্বীকার করার মত সততা যদি আপনার না থাকে তাহলে সেটা একটা বড়  সমস্যা। তাই, আদতে এই দুই ধরণের মানুষই মূলত এক, কেবল বিশ্বাসগুলো আলাদা। একজন আধ্যাত্মিক মানুষ হলো সেই ব্যক্তি যিনি বুঝেছেন যে তিনি সত্য কি তা জানেন না এবং তাই তিনি বিশ্বাসের সাথে অনুসন্ধান করছেন।
গোটা বিশ্বের সমস্যাটা বিভিন্ন মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে সংঘর্ষ। কোনো একটা বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকার বিষয়টি যত না আধ্যাত্মিক তার চেয়ে অনেক বেশী মনস্তাত্বিক হয় গেছে। কোন কিছুকে আঁকড়ে ধরে থাকলে নিরাপদ মনে হয়, মনে হয় আপনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। এটা অত্যন্ত অপরিণত চেতনার ফল। আপনি যদি সৃষ্টি সম্বন্ধে কিছুই না জানেন তাহলে সমস্যাটা কি? আদতেও আপনি আমি কোনও কিছুই জানিনা এবং এই না জানাটা মোটেও কোনো অপরাধ নয় বরং আপনার যা কিছু আছে তা দিয়ে আপনি নিজের অন্তরকে কিভাবে আনন্দময় করে তুলবেন সেটা ভাবুন। আমাদের কাছে প্রকৃতিতে সৃষ্ট পাহাড়, সমুদ্র, নীল আকাশ   নির্মল প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতা সুন্দর মনে হতে পারে। এ সব কিছুর আনন্দ অবশ্যই উপভোগ করা উচিত কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, মাছের কাছে সমুদ্রে বসবাস করাটা, কিম্বা একটা ছাগলের কাছে পাহাড়ে বিচরণ করাটা কিন্তু আধ্যত্মিক অভিজ্ঞতা নয়। তাদেরকে শহর দেখাতে নিয়ে এলে শহরের অভিজ্ঞতাটা তাদের কাছে আধ্যাত্মিক মনে হতে পারে। আসলে উদ্দেশ্যটা হল আপনার পরিধিগুলোকে ভাঙ্গা। আপনি একটা খোলসের মধ্যে রয়েছেন। এটা ভেঙে বেরিয়ে আর একটা বড় খোলসে ঢুকে পড়লেন। অর্থাৎ কিছুদিন পর এই বড় খোলসের অভিজ্ঞতাটাও আগের ছোট খোলসটার মতই লাগবে।
আপনার উদ্দেশ্য যদি অনন্তকে ছোঁয়া হয় এবং সেটা যদি আপনি শারীরিক উপায়ে পেতে চান তাহলে আপনি পৌঁছতে চাইছেন অসীমের কাছে। আপনি ১,২,৩,৪... করে কি অনন্ত অবধি গুনতে পারবেন? পারবেন না। এরম করে কেবল অনন্তকাল ধরে গোনা চলবে। শরীরি উপায়ে কখনও অসীমে পৌঁছনো যায় না। প্রত্যেকটা মানুষই অসীম হতে চাইছে। সে যেটা চাইছে সেটা তাকে দেওয়া হলে দুই-তিন দিন ঠিক থাকবে। কিন্তু চতুর্থ দিনেই আবার অন্য কিছু একটা চাইবে। এটা ভুল গন্তব্যে চলা 'জীবন প্রক্রিয়া'। আপনি যদি অনন্ত প্রকৃতিকে জানতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই শরীরের চেয়ে বৃহত্তর কিছু উপলব্ধি করতে হবে। এই জিনিসটার স্বাদ হয়তো আপনি অনেকভাবেই পেয়েছেন। যখন সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বা পাহাড় দেখেছিলেন বা যখন চোখ বন্ধ করে কল্পনায় ভেসেছিলেন, এরকম অনেক কিছুতেই। জিনিসটা হয়তো আপনি ছুঁয়েছেন, কিন্তু মূল ব্যাপার হল সেটাকে ধরে রাখার। সে কারণে প্রকৃতির প্রত্যেক বস্তুর সাথেই আপনার সমানভাবে নিবিষ্ট হওয়া উচিত। ঠিক ততটাই যতটা আপনি নিজের শরীর, নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি নিবিষ্ট। কোনও ভেদাভেদ ছাড়াই আপনি যদি জীবনের প্রত্যেকটি বস্তুর প্রতি একইভাবে নিবিষ্ট হন তাহলেই আপনি স্রষ্টাকে খুঁজে পাবেন, স্রষ্টায় সমর্পিত থাকতে পারবেন এবং আপনি সর্বদাই আধ্যাত্মিক থাকবেন। আলাদাভাবে আপনাকে আধ্যাত্মিকতা শেখার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
সৃষ্টির আদি থেকে মানুষ স্রষ্টার 'সন্ধান' করে চলেছে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, মাজার, কবরস্থান, শ্মশান, পাহাড়, জঙ্গল, মরুভূমি যার যেখানে মন চায়- ধর্ম সাধনা করে চলেছে যুগের পর যুগ। সবার একটাই আরাধনা- বিধাতা, আল্লাহ, মহাপ্রভু, পরমেশ্বর বা জগদেশ্বরের সন্ধান, কৃপা ও প্রেম লাভ। যিনি মহাজগতের মহান স্রষ্টা, বিধাতা ও প্রতিপালক। কিন্তু তিনি কি আসলেই তার সৃষ্টি থেকে অনেক দূরে থাকেন? মালিকে তার ফুল বাগানেই খুঁজে পাওয়া যায়, স্রষ্টাকে তার সৃষ্টির ভেতরেই পাওয়া যায়, অন্য কোথাও নয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘পূর্ব-পশ্চিম সবই আল্লাহর। তুমি যেদিকেই মুখ করো, সেদিকেই আল্লাহকে পাবে। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এবং সর্বজ্ঞ’। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১১৫) সুতরাং সৃষ্টির মাঝেই খুঁজতে হবে স্রষ্টাকে। সৃষ্টিকে অবজ্ঞা করে স্রষ্টার সন্ধানে সমাজ ছেড়ে বনে-জঙ্গলে, পাহাড়ে-মরুভূমিতে, মাজারে, শ্মশানে আরাধনা করে মহাপ্রভুর সন্ধান পাওয়া যাবে কি? তিনি তো সীমাহীন ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এই জগৎটাকে। সৃষ্টির প্রত্যেকটি অংশ মহান স্রষ্টার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। মহাবিশ্বের অতি ক্ষুদ্র ও নগণ্য একটি জিনিসকেও আল্লাহ প্রতিপালন করেন পরম মমতায়। নিজ সন্তানের প্রতি পৃথিবীর সব মায়ের সম্মিলিত ভালোবাসার চেয়েও সৃষ্টির ওপর স্রষ্টার ভালোবাসা অনেক বেশি। সন্তানকে ভালোবাসলে যেমন বাবা-মা খুশি হন, তেমনি সৃষ্টিকে ভালোবাসলে খুশি হন সৃষ্টিকর্তা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত। সুতরাং আল্লাহর কাছে সব থেকে প্রিয় ওই ব্যক্তি, যে আল্লাহর পরিবারের সদস্য অর্থাৎ সৃষ্টির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। সৃষ্টির প্রতি করুণা নিজের প্রতি স্রষ্টার করুণাকে আকৃষ্ট করে। স্রষ্টার সৃষ্টিকে যে যত বেশি ভালোবাসবে স্রষ্টাও তাকে ততবেশি ভালোবাসবেন। আল্লাহর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ও মর্যাদাবান হলো মানুষ। মানুষকে আল্লাহ সবার চেয়ে সুন্দরতম অবয়বে নিজের প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। আর এই বোধটি আপনার বিশ্বাস ও কর্মে প্রতিফলিত হলেই আপনি প্রকৃত অর্থে শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিকতায় আছেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft