শিরোনাম: বিএনপি-জামায়াত ভাসানীকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল : মেনন       বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব : শিল্পমন্ত্রী       ‘ক্লিনিকগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রসব সেবা চালু করা হবে’       নতুন আইনের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো       মতপার্থক্য চরমে: রাজ্যসভায় বিজেপির বিরোধী শিবসেনা       বাবরি মসজিদ : রায় বাতিল চেয়ে রিভিউ করবে মুসলিম ল বোর্ড       পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানি বন্ধের চিন্তা       পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে সরকারের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীরা : ফখরুল       ‘বিএনপি পেঁয়াজে আশ্রয় নিয়েছে’        গোটাবায়া রাজাপাকসের জয়      
এবার কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 17 October, 2019 at 5:01 PM
এবার কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরাপ্রতিদিনই জ্ঞান বিজ্ঞানের নানা উন্নয়নের খবর শোনা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরির কথা জানা গেছে। এটি তৈরি করছেন নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী। তারা বলছেন, মাত্র ১০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরি করা সম্ভব হবে।
তাদের দাবি সত্যি হলে এর মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি হবে। তখন প্রিম্যাচিউরড বেবি বা অপরিণত শিশুদের প্রাণ বাঁচানো অনেক সহজ হবে। বিভিন্ন কারণে মায়ের পেটে ৩৭ সপ্তাহ পেরুনোর আগেই জন্ম নেয় বহু শিশু, যারা অপরিণত শিশু নামে পরিচিত। বিশ্বব্যাপী এখনো নবজাতক শিশুমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ অপরিণত শিশু জন্ম।
জানা যায়, একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের মতো দেখতে এই কৃত্রিম জরায়ুর ভেতরে থাকবে অপরিণত শিশুটি, তার সাথে জুড়ে দেয়া পাইপ দিয়ে তার জন্য আসবে রক্ত ও অন্যান্য তরল। ঠিক মায়ের গর্ভের মতোই পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে সেখানে।
নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্সিমা মেডিকেল সেন্টারে এই মূহুর্তে এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরির কাজ চলছে, যা প্রধানত খুবই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুদের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে। এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভের নকশা তৈরি করছেন লিসা ম্যান্ডিমেকার।
তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম মাতৃগর্ভ হবে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের মত। নির্ধারিত সময়ের আগেই পৃথিবীতে চলে এসেছে যে শিশু, মায়ের পেট থেকে বের করার পরপরই তাকে সেই ব্যাগে ঢোকানো হবে। সেখানে সে চার সপ্তাহ অবস্থান করবে। তারপর নতুন করে সে আরেকবার ভূমিষ্ঠ হবে পৃথিবীতে।’
তিনি আরো জানান, এই মূহুর্তে পাঁচটি বড় বড় বেলুন বানানো হয়েছে, প্রত্যেকটির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে অসংখ্য পাইপ। এই বেলুনগুলোর মধ্যে শিশুরা মাতৃগর্ভে যে তরলের মধ্যে সাঁতার কাটে, তার ব্যবস্থা করা হবে। আর বিভিন্ন পাইপের মাধ্যমে সেখানে তরল ও রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হবে।
লিসা বলছেন, প্রতিটি বেলুন তৈরি করা হবে একটি শিশু মাতৃগর্ভে সর্বশেষ যে ওজনে রয়েছে, তার দ্বিগুণ আকৃতিতে, যাতে শিশুটির চলাফেরা মাতৃগর্ভের মতই স্বাভাবিক থাকে।
এই গবেষণা দলে রয়েছেন এই ল্যাবের গাইনি চিকিৎসক গিড ওয়েই। তিনি গত ২৭ বছর যাবত এই পেশায় আছেন। কর্মজীবনে তিনি বহু নবজাতকের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন, বহু মা-বাবার আক্ষেপ আর হতাশাও দেখেছেন।
চিকিৎসক গিড ওয়েই বলেন, ‘কৃত্রিম মাতৃগর্ভের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা তরলে পূর্ণ থাকবে, যেখানে একটি ইনকিউবেটর থাকে বাতাসে পূর্ণ। এখন অপরিণত অবস্থায় জন্মানো শিশুকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়, যা আসলে ঐ শিশুটির জন্য একটি বৈরি অবস্থা। কারণ ইনকিউবেটরের বাতাস শিশুর ফুসফুসের ক্ষতি করে। তার বদলে এখন অপরিণত শিশুদের কৃত্রিম মাতৃগর্ভে ঢুকিয়ে দেয়া হবে।’
তিনি আরো জানান, কৃত্রিম মাতৃগর্ভে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে কৃত্রিম প্লাসেন্টা বা নাড়ি দিয়ে সংযুক্ত করা হবে, ফলে সে থাকবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তরলের ভেতর ঠিক যেভাবে সে ছিল তার মায়ের গর্ভে। সেখানে পানি এবং সব ধরনের খনিজ উপাদান পরিমাণ মতো থাকবে। ফলে আম্বিলিকাল কর্ডের মাধ্যমে শিশু তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন এবং অন্য পুষ্টি উপাদান পেতে থাকবে।
ওই অবস্থায় চার সপ্তাহ থাকার পরে শিশুটিকে বের করা হবে। নতুন করে ভূমিষ্ঠ হবে সে। আর এভাবেই বাঁচানো যাবে লক্ষ প্রাণ।
অনেক মা-বাবার কাছে এটা একটা স্বপ্ন সত্যি হবার মত ব্যপার। কারণ এখনো প্রতিবছর বিশ্বে দেড় কোটির বেশি শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়, যার অর্ধেকের বেশি শিশু মারা যায়।
লিসা বলছেন, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখুনি মানুষ ভাবতে পারছে না হয়ত, কিন্তু এর মাধ্যমে হয়ত বাঁচানো যাবে অসংখ্য শিশুর জীবন।
কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে গর্ভধারণ জায়গায় কৃত্রিম পদ্ধতি কতটা নৈতিক হবে, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকেরা মনে করেন, এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরির ফলে আগামী দিনগুলোতে নারীরা সন্তান ধারণকালীন জটিলতা এড়াতে প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft