শিরোনাম: আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেয়ার চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট       ঝিনাইদহে অবৈধ ঔষধ জব্দ, আটক-১       চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ৫০ হাজার গাছ লাগাবে সিটি কর্পোরেশন       ফেনীতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল       ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৭৩৮ জন       তিন চ্যালেঞ্জ সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে : কাদের       গড় বিল করতে গিয়ে ভুল হয়েছে : বিদ্যুৎ সচিব       ভারতীয় সেনারা পিএলএর কাছে কিছুই না : চীনের হুঁশিয়ারি       সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই : রিজভী       করোনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দিনাজপুরের চিকিৎসকরা      
চুকনগরে অসহায় এক আনোয়ারার জীবন কাহিনী!
ইব্রাহিম রেজা, চুকনগর (খুলনা)
Published : Friday, 29 May, 2020 at 10:42 PM, Update: 31.05.2020 1:03:55 PM
চুকনগরে অসহায় এক আনোয়ারার জীবন কাহিনী!ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া গ্রামে পুত্র খালিদ হাসানকে নিয়ে এক খুপরিতে বসবাস করেন আনোয়ারা বেগম (৫৫)। ওই গ্রামের মৃত শরিয়তুল্যাহ মামুদের কন্যা তিনি। ২০ বছর আগে বিয়ে হয় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শফিউদ্দিন ঢালীর পুত্র আব্দুর রহমানের সাথে।
বিয়ের পর স্বামী তাকে নিয়ে খুলনা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন। আব্দুর রহমান সেখানে রিকশা চালিয়ে জিবীকা নির্বাহের পথ বেছে নেন। এভাবেই কেটে যায় ছয়টি বছর। এর মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র খালিদ হাসান ও কন্যা রিক্তা খাতুন। দু’সন্তানকে নিয়ে সুখেই চলছিল রহমান ও আনোয়ারার সংসার। সেদিনও প্রতিদিনের মতো রিকশা চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যান আনোয়ারার স্বামী আব্দুর রহমান। কিন্তু সেই যে গেলেন, আর বাসায় ফেরেননি।
প্রতিটা মুহূর্তে স্বামীর আসার প্রতিক্ষায় কেটে যায় তিনটি মাস। কিন্তু স্বামী আর ফিরে আসেননি। এক পর্যায়ে দু’সন্তানকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন আনোয়ারা। উপায়ন্তর না দেখে দু’সন্তানকে নিয়ে এক সময় ফিরে আসেন ভায়েদের সংসারে। কিন্তু তার তিন ভাইও অস্বচ্ছল, নিজেদের সংসারের খরচ মিটিয়ে বাড়তি তিনজনের ভরণ পোষণ যোগানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ভায়েদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে দু’সন্তানকে মানুষ করার যুদ্ধে অবতীর্ণ হন আনোয়ারা।
ভায়েদের ঘরের পাশে একচালা দিয়ে সেখানে বসবাস করেন। বছর চারেক আগে মেয়ে রিক্তাকে বিয়ে দিয়ে পুত্র খালিদ হাসানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার নতুন যুদ্ধ শুরু করেন আনোয়ারা। ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পাওয়া খালিদ অর্থের অভাবে এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছেন কারিগরী বিভাগে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেত-খামারে কাজ করেন তিনি। মা আনোয়ারা বেগমও লোকের বাড়িতে কাজ করেন। এভাবে কোনো রকমে খাওয়া পড়ার ব্যবস্থাটা হয়ে যায়। কিন্তু মাথা গোঁজার মতো একটা ঠাঁই আজও হয়নি খালিদদের।
এর মধ্যে আনোয়ারার তিন ভাই আখতার, মোখতার ও গাফফার মিলে কাঁচা ঘর ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু সেখানে তাদের ঠাঁই মেলেনি। অগত্যা বাড়ির পেছনে পৈত্রিক জমিতে ৪/৫টা বাঁশের ওপরে টালি আর পলিথিনের ছাউনি, পলিথিন আর প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে মা ছেলে বসবাস করেন।
সরেজমিনে সেখানে গিয়ে ঘরটি দেখে মনে পড়ে যায় পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সাড়া জাগানো কবিতা ‘আসমানী;র সেই লাইনগুলি-‘আসমানীদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/রহিমদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও/বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি/একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি।’
এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে আনোয়ারা বেগম বলেন, খাওয়া দাওয়া কোনো রকমে চলে যায়, স্বামীর ঘরে মেয়েটাও সুখে আছে। তবে একটা ঘরের ব্যবস্থা হলে মা ছেলের মাথা গোঁজার মতো একটা ঠাঁই হত। ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর পাওয়ার জন্যে সম্প্রতি প্রতিবেশী একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। ওই সাংবাদিক ছেলের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় সহযোগিতা করেন বলেও জানান আনোয়ারা বেগম।
এব্যাপারে ওই সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি ওই গ্রামের সন্তান। তাদের দূরাবস্থার কথা আমি জানি। তাছাড়া খালিদ ছেলেটাও অতিশয় ভদ্র ও ধার্মিক। একারণে আমার সামথ্য অনুযায়ী যেটুকু পারি সেটা করে থাকি। ঘরের জন্যে আনোয়ারা বেগমের কাগজপত্র চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেয়া আছে।’
আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, ‘হ্যাঁ ওদের কাগজপত্র জমা আছে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ‘‘জমি আছে ঘর নেই’’ প্রকল্পের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা আপাতত স্থগিত রয়েছে। যখন ওই কার্যক্রম পুণরায় শুরু হবে তখন আমার ইউনিয়নে আমি ওই পরিবারটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করব।’





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft