শিরোনাম: ফিল্মিস্টাইলে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই        তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে       যশোরে মারা যাওয়া এক নারীর তাকানো নিয়ে চাঞ্চল্য!       তায়কোয়ান্দোকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা       ফসকে গেল যমেক হাসপাতালের দু ’চাঁদাবাজ        শ্যামনগরে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস       বেনাপোল সীমান্ত থেকে কোটি টাকার সোনার বারসহ নারী আটক       খুলনায় কর্মহীন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ       সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১       মোল্লাহাটে ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক      
ছাত্ররাজনীতি ও পরবর্তী কর্মসংস্থান
মোঃ রিয়াজ উদ্দীন রেজা
Published : Friday, 24 July, 2020 at 12:40 PM
ছাত্ররাজনীতি ও পরবর্তী কর্মসংস্থানছাত্ররাজনীতি হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়োজিত, অধিকার আদায়ে সোচ্চার, ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে থেকে সর্বদা হীনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী, ইতিবাচক সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত, শিক্ষাঙ্গনে দূর্নীতি অনিয়ম প্রতিরোধে অকুতোভয়, ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নীতিবান আর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির বাতিঘর বা কারখানা।
বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্বপ্রাচীন ছাত্র সংগঠনটি হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একাধারে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন এর জন্য সংগ্রাম ও সাফল্যের পথপ্রদর্শক। আমরা জানি বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি পরবর্তী কর্মসংস্থান হচ্ছে সর্বাধিক আলোচিত ও সমালোচিত বিষয়। সুশীল সমাজ রীতিমতো এই বিষয়টিকে নিয়ে নানাবিধ সমলোচনা করে থাকে। ছাত্রসমাজের নানাবিধ অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে করতে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগুলোর শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কর্মসংস্থান এর জন্য চরম হতাশায় জীবন অতিবাহিত করার ঘটনা এখন দৃশ্যমান। ছাত্র রাজনীতি পরবর্তী সময়ে এসব কর্মীরা কি করবে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় হয়তো সবাই সফল হতে পারে না, আবার অনেকে মূল নেতৃত্বের পাশে থেকে সংগঠন কে সুসংগঠিত করতে পারাতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে। এসকল ব্যক্তিবর্গের কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা দেওয়া অতীব জরুরি। সুশীল সমাজের ছাত্র রাজনীতি কে ঘিরে কটুক্তি পূর্ণ বক্তব্য , "ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে বেকারত্ব সৃষ্টির কারখানা" এটাকে মিথ্যা পরিণত করার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা এখনি গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে সিনিয়র কোন ছাত্রলীগ কর্মীকে যখন চাকরির জন্য চরম হতাশায় দিনাতিপাত করতে দেখি, তখন তাদের এই অসহায়ত্ব আমার হৃদয়ে বেদনা জাগ্রত করে। আমি বিশ্বাস করি ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মী মেধাবী। তাদেরকে শুধু কর্মসংস্থান এর জন্য সুনির্দিষ্ট পথ দেখিয়ে দিলে পরবর্তীতে তারাই সব কিছু নিজের মত করে গুছিয়ে নিতে পারবে। এ উদ্যেশ্যে জেলা কমিটির "মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক" সেল সক্রিয় করা যেতে পারে বলে মনে করি। মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-সম্পাদক উপজেলা , কলেজ পর্যায়ে সমন্বয় করে ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক নানাবিধ সভা, সেমিনারের আয়োজন করতে পারে। এসবের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও শিক্ষাজীবন পরবর্তী কর্মসংস্থান এর নানাবিধ বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর কর্মসংস্থান এর জন্য চাইলে আমার অনুসন্ধানলব্ধ নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করতে পারে-
১. সরকারি চাকরিঃ একথা স্বীকার্য সত্য, পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। এজন্যই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে পড়ালেখাটাও ঠিক ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন, "শুধু ভালো কর্মী হলেই চলবে না, ভালো ছাত্রও হতে হবে।" আমরা জানি, বর্তমানে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হয়। তাই ছাত্র জীবনে রাজনীতির পাশাপাশি চাকরির পড়াশোনাতেও মনোনিবেশ করতে হবে। গত দশ বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ। বেড়েছে নানাবিধ সুবিধাও। আর সেজন্য বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে সরকারি চাকরি হচ্ছে প্রথম আকর্ষণ। এসব সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অভূতপূর্ব সব উন্নয়নের কল্যাণে।
২. বেসরকারি চাকরিঃ দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীদের সংখ্যা বেশি। ছোট খাটো প্রাইভেট কোম্পানি কিংবা বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পেতে যোগ্যতা একটা ফ্যাক্টর। ইংরেজি ভাষায় অনর্গল কথা বলার দক্ষতার সাথে কম্পিউটার পরিচালনা দক্ষ হওয়াটাও এখন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার অন্যতম রিকোয়ারমেন্ট। সেজন্য এসব বিষয়ে ছাত্র জীবনে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে বেকার যুবদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটার বেসিক কোর্স ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার বেসিক কোর্স করা যেতে পারে।
৩. ফ্রিল্যান্সিংঃ বর্তমান সময়ে তরুনদের কাছে সবচাইতে আলোচিত একটি শব্দ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) । ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা  কাজ করিয়ে নেওয়ার নাম হচ্ছে আউটসোর্সিং। আর যারা এই আউটসোর্সিং এর কাজ করে থাকে তাদের কে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অধীনে সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আইটি স্কিল ট্রেনিং পদ্ধতি “লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট” ( LEDP) চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগসহ ৫০ দিনব্যাপি (২০০ ঘণ্টা) প্রফেশনাল আউটসোর্সিং ট্রেনিং প্রদান করা হয়ে থাকে। দেশের ৬৪ জেলাতেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম রয়েছে। ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন , ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স গুলোতে মূলত ট্রেনিং দেওয়া হয়ে থাকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমানে অনলাইনে এই প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ইউটিউবে ফ্রিল্যান্সিং এর অসংখ্য ভিডিও আছে, যা দেখে যেকেউ ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এই আইটি সেক্টরে কাজ করে বেকারত্ব নিরসন সম্ভব।
৪. স্টার্ট আপঃ যিনি নিজের মেধা খাটিয়ে পণ্য উৎপাদনের জন্য কোন ব্যবসায়ীক উদ্যোগ গ্রহন করেন তাকে বলে উদ্যোক্তা। আর তার নতুন উদ্যোগকে বলে স্টার্ট আপ। প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে সরকার "স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড" কোম্পানি গঠন করছে । যারা চাকরিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না , ব্যবসা করতে চান এবং নিজেদের যুগান্তকারী বিজনেস আইডিয়া আছে কিন্তু অর্থের অভাবে ব্যবসা শুরু করতে পারছে না। তারা এই "স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড" এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এছাড়া সম্প্রতি স্বপ্নবাজ তরুণদের উদ্ভাবনী ভাবনা, উদ্যোগ ও স্টার্টআপকে ব্যবহার করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ প্রতিযোগিতা। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ একাডেমি-আইডিয়া প্রকল্প এবং দেশের তরুণদের স্বপ্নের ও সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলা’র যৌথ উদ্যোগে এই স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সরকারের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রসংসনীয়।
৫. যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর নানাবিধ কর্মসূচিঃ বেকার যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। এছাড়াও বেকারত্ব নিরসনে রয়েছে নানাবিধ কর্মসূচি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হচ্ছে যুব প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় একজন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ প্রদানের পর ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবে।
দেশে চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধারণা করা যাচ্ছে করোনা উত্তরন পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান সমস্যা বড় আকার ধারণ করতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করি। আর সেজন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনি গ্রহণ করা।
আশা রাখি , করোনা উত্তরন পরবর্তী সময়ে জ্ঞান ও মেধা নির্ভর রাজনীতির শুভ সূচনা করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের জন্য পথপ্রদর্শক হবে, সকল সমলোচনাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে আপন গতিতে।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজের ধমনীতে প্রবাহিত আবেগের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে সর্বদা সোচ্চার ছিল , আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ ।

জয় বাংলা।। জয় বঙ্গবন্ধু ।।

লেখক:  মোঃ রিয়াজ উদ্দীন রেজা, কর্মী, যশোর জেলা ছাত্রলীগ।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft