শিরোনাম: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার        নাভারণে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত       স্ত্রীকে নিয়ে পূজা দেখতে এসে যুবক ছুরিকাহত       গ্রামীণফোনের কলড্রপে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ       কনে যাচ্চি আমরা ?       জবাবদিহিতায় আসছে ৩ হাজার সার ব্যবসায়ী       যশোরে ইজিবাইক ছিনতাই ঘটনায় একজন আটক       জেলা মহিলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক      
বিশ্ব জোড়া পাঠশালা
আশা নিরাশায় ২০২০
মাহমুদা রিনি :
Published : Sunday, 30 August, 2020 at 12:15 AM
বিশ্ব জোড়া পাঠশালা ২০২০ এর শুরু থেকেই যখন সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কোভিড উনিশ করোনা ভাইরাস, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। আমাদের দেশেও তার পদার্পণ হলো মার্চের শুরুর দিকেই। তখন ভয়ের সাথে সাথে এক ধরনের আতঙ্কও কাজ করতো মনে! কি হয়, কে মরে কে বাঁচে, কখন না জনি কোন প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলি বা নিজেই হারিয়ে যাই এমনি সব দ্বিধা দ্বন্দ্বে কেটেছে কয়েকটা মাস। প্রতি মুহুর্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা, সেই সাথে সমানে বেড়েছে আমাদের বাঁচা মরার আশঙ্কা। তিন মাসে অতি প্রয়োজনেও তিনদিন ঘর থেকে বের হইনি। বেরলেও যুদ্ধংসাজে সজ্জিত হওয়ার আয়োজন করতে হয়েছে। সারাক্ষণ ধোয়া মোছা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় সময় কেটেছে। তখন ভাবনার বিষয় ছিল নানামুখী এবং অনিশ্চিত। আতংকিত সেই ভাবনার মাঝেও মনের ভিতর এক নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিত। এই মহামারী একদিন শেষ হবে। পৃথিবী টা নতুন রূপে সেজে উঠবে। বিশ্ব ব্যাপি একটা পরিবর্তন নিশ্চয়ই হবে। আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি নতুন প্রজন্ম একটা সুন্দর, সুশৃঙ্খল বাসযোগ্য পৃথিবী পাবে। ভয়ার্ত মনের এককোণে যেন আরেকটা আশার পৃথিবী বড় হতে শুরু করেছিল। কল্পনায় দেখতাম এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের পর পৃথিবীর মানুষ নতুন করে ভাবতে শিখেছে। জীবনকে তারা নতুন রূপে মূল্যায়ন করছে। জীবন ক্ষণস্থাযী ভেবে সময়কে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার এবং আত্মনিয়োগ করছে। কল্পনা করতাম সেই পৃথিবীর সংবাদ পত্র গুলোতে একটাও খুন- সহিংসতার খবর নেই। ধর্ষণের মত নৃশংস কুপ্রবৃত্তির ঘটনা আর একটাও ঘটবে না। নতুন পৃথিবীর অভিধান থেকে ধর্ষণ শব্দটা উঠে যাবে। গায়ে আগুন লাগাবে না কোন গৃহবধূর। যৌতুকের বলি হবে না আসমা, রাবেয়া, মালতিরা। শিশুরা ফুলের মত বেড়ে উঠবে। মানুষ শিক্ষা নেবে এই করোনা বিপর্যস্ত সময় থেকে। দেশের জন্য আত্মঘাতী হয় এমন সব কাজ থেকে মানুষ বিরত থাকবে। বিশেষ করে দুর্নীতির যে নাগপাশ আমাদেরকে জড়িয়ে ধরেছে তা থেকে দেশ মুক্তি পাবে। প্রকৃত অর্থে হারাম হালালের পার্থক্য মানুষ বুঝতে পারবে। ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার দূর হবে, এমন আরো কত স্বপ্ন যেন মনের কোণে উঁকি দিত। কিন্তু ছ'মাস না যেতেই আমরা ঠিক ঘুরে দাঁড়ালাম। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যাই করুক আমরা বাংলাদেশীরা করোনাকে থোড়াই কেয়ার করা শুরু করেছি। খুবই ভালো কথা, বাঙালি বীরের জাতি, কোন কিছুতেই তারা পিছপা হয় না। ভাবখানা এমন যেন মানুষ মরছে মরুক বা নিজেও যদি মরি তবু কুকর্ম থেকে আমাদের কেউ পিছু হটাতে পারবে না। সেই কুকর্মের তালিকায় কে নেই! সরকারি, বেসরকারি উচ্চ-নিন্ম সব শ্রেণির ভিতরেই যেন কিছু দাঁত নখ ওয়ালা রাক্ষস শ্রেণির মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে। যাদের পেট কিছুতেই ভরে না। তারা দেশের এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। যারা করোনা রোগীর রিপোর্ট পর্যন্ত পাল্টে ফেলে বেচে খায়। কত ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ ভাই জীবন দিলেন এই করোনায় আক্রান্ত হয়ে , আমাদের পুলিশ বাহিনীর কত ভালো কাজের নজিরও আছে। কিন্তু তার ভিতরেও কিছু হিংস্র দানব (সবাই নয়) ঠিকই এই সময়েও তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মেজর সিনহাকে জীবন দিতে হলো পুলিশের গুলিতে। সংশোধনাগারে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মারা হলো তিন কিশোরকে আরো জনবিশেক আধমরা হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এমন অসংখ্য ঘটনায় প্রতিনিয়ত ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে দেশের এবং সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস, আগামী দিনের স্বপ্ন। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে সারাদেশে ধর্ষণ মহড়া। গত চারমাসে ৩০৭ জন শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী মোট সহিংসতার শিকার ৭৮৮ জন। ৪৫৭ নারী ও ৩৩১ জন শিশু। এই হিসাবও আগস্টের আগ পর্যন্ত। মুহুর্মুহু এই ধরনের ঘটনার হিসাব পাল্টে যাচ্ছে। সম্প্রতি গরু চুরির অপরাধে মা এবং মেয়ে দুই নারীকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য দিবালোকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি দেখেছি আমরা। গরু চুরির মত অপরাধের সাথে নারী কিভাবে জড়িত হতে পারে বোধগম্য হলো না, শুধু দেখতে হলো। সময়ের আগে পিছে বা আড়ালে আরো কত কি ঘটে চলেছে তার ইয়ত্তা নেই। একদিকে কর্মহীন মানুষের আহাজারি, বেকার সমস্যায় যুব সমাজ পর্যুদস্ত, বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম। অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন সীমিত বা কর্মী ছাটাই এর কারণে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রথম শ্রেণি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তা এবং হতাশায় ভুগছে। শিক্ষা বর্ষ থেকে একটি বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগজনক সময় পার করছে। নানা দিক দিয়ে এই রকম পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র, সরকার, জনগণ কারোরই নেই। অতএব সবারই লক্ষ্য স্থির করে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজার কথা ছিল। অথচ দুর্ভাগ্য ক্রমে আমরা দেখছি একশ্রেণীর মানুষ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত আর কেউ "চাচা আপন প্রাণ বাঁচা" বলে পিঠ বাঁচাতেই পেরেশান। মাঝখানে আমরা সাধারণ মানুষ চিড়ে চ্যাপ্টা হবার উপক্রম। অর্থাৎ এত বিপদের সময়েও যে আশা জাগানিযা স্বপ্ন আমরা দেখতে শুরু করেছিলাম আমাদের সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার পথে প্রতিনিয়তই এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আবার যে কে সেই ধারায় ফিরে যাচ্ছি। এই এত বড় বিশ্ব মহামারী আমাদের চেতনার সলতেই আলো জ্বালাতে পারলো না। তবু আমরা আশা করি এই করোনা ভাইরাস একসময় পৃথিবী থেকে নির্মূল হবে। গুটি কয়েক খারাপ মানুষের জন্য গোটা দেশের ভাবমূর্তি নিশ্চয়ই ক্ষুণ্ন হবে না। আমাদের দেশটা শিক্ষা- সমৃদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আদর্শে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই একটা সুন্দর, সুশৃঙ্খল মানবিক পৃথিবীতে বসবাস করবে। মানুষের এই স্বপ্ন অটুট থাকুক এমনটাই শুভকামনা।
-------------- মাহমুদা রিনি





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft