শিরোনাম: খোঁজা হচ্ছে সংকট সৃষ্টিকারীদের       সভাপতি লাইজু সম্পাদক মিলি       নিয়ম রক্ষার ষষ্ঠী পেরিয়ে শুক্রবার মহাসপ্তমী       রাসেল হত্যা মামলায় নয় আসামির আত্মসমর্পণ       চাপে চ্যাবডা হয়ে মলাম তবু....       করোনায় আক্রান্ত চার কোটি ১৪ লাখ পার       পূজা পরিষদ নেতা দীপক রায়ের বাড়িতে দুর্গাপূজার উদ্বোধন       যশোরে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার       রাশেদ খাঁন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত       মণিরামপুরে জোড়া খুন মেয়েলি ঘটনায়       
সম্মানী বঞ্চিত ৭ হাজার আবৃতি সংগীত শিল্পী ও প্রমোটর
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Tuesday, 29 September, 2020 at 12:07 AM
সম্মানী বঞ্চিত ৭ হাজার আবৃতি
সংগীত শিল্পী ও প্রমোটরসাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিরোধে গড়ে তোলা কিশোর কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটর, আবৃত্তি ও সংগীত শিক্ষকরা সম্মানী বঞ্চিক হচ্ছেন। করোনা ইস্যুতে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ স্টাইলে চলছে প্রকল্পটি। যশোরের ৮ উপজেলায় ১শ’ জনসহ গোটা দেশে ৭ হাজার সৃজনশীল কর্মচারী ৫ মাস সম্মানী না পেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। অথচ এই ক্রান্তিকালে সরকারের অন্য সব সেক্টরে বেতন ভাতা সবই মিলছে সময় মতই।
শুধু প্রজেক্টের দোহাই দিয়ে শুরুতেই হোঁচট দিয়ে শঙ্কায় ফেলা হচ্ছে নিয়োগপ্রাপ্তদের। যদিও সম্মানীর ব্যাপারে জেলা পর্যায় থেকে প্রজেক্ট ডিরেক্টরের সাথে সংলাপ চলছে বলে দাবি মহিলা বিষয়ক  অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক সকিনা খাতুনের।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে এবং তৃনমূলে কিশোর কিশোরীরা জেন্ডার বৈষম্য, সেক্সুয়াল হেরেজমেন্টের শিকার হয়ে থাকে। সচেতনতা কম থাকা ও আত্মনির্ভরশীল না হওয়ায় এর শিকার হয়ে থাকে বেশি। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে কিশোর কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের আয়বর্ধক কার্যক্রমের আওতায় এগুতে সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’ স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সংগীত আবৃতিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রান্তিক কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিরোধে সক্ষম করা, সেক্সুয়াল রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ এন্ড রাইটস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও এই ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের লক্ষ্য ধরা হয়। নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার হার বৃদ্ধি করে সমাজে দারিদ্র দূর করার উদ্দেশ্যে কর্মকান্ড শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে যশোরের ৮ উপজেলায় ১০১টিসহ সারাদেশে ৫ হাজার ক্লাব স্থাপন করা হয় প্রকল্পের আওতায়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনায় গোটা দেশে সংগীত শিল্পী, আবৃতি শিল্পী ও জেন্ডার প্রমোটর মিলিয়ে ১১ হাজার লোকবল নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নিয়ে ৮ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার প্রতিটি ক্লাবে ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোরকে ক্লাব সদস্য করে কার্যক্রম এগুতে শুরু করে। কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প সেক্সুয়াল রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ এন্ড রাইটস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করার কাজটি শুরু হলেও এর চালিকা শক্তি জেন্ডার প্রমোটর, আবৃতি শিল্পী, সংগীত শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার সৃজনশীল মানুষকে সম্মানী থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় গঠিত ক্লাব ব্যবস্থাপনায় সরকার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করে। প্রকল্প পরিচালনা নীতিমালা, লোকবল নিয়োগ নীতিমালা, পরিচালনা কমিটি, নিয়োগ কমিটি করে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে সার্কুলারের মাধ্যমে জেন্ডার প্রমোটর, আবৃতি শিল্পী, সংগীত শিল্পী নিয়োগ করে। ওই বছরে ২৬ নভেম্বর তারা কাজে যোগদান করেন। সপ্তাহে দু’দিন ক্লাস বা কাজের বিপরীতে তাদের ৮ হাজার টাকা সম্মানীর চুক্তি হয়। নভেম্বরের শেষ কয়েকদিন ও মার্চ পর্যন্ত ৩ মাস তারা সম্মানী পেলেও করোনার ৫ মাস তারা কানা কড়িও পাননি। এই ৫ মাস সম্মানী থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকল্প থেকে ওই শিক্ষকদের বলা হচ্ছে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও জেন্ডারপ্রমোটরগনের দাবি, তারা কাজ করতে চান, ক্লাসও নিতে চান। কিন্তু করোনা সংকটে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে সরকারি নির্দেশনায় সব বন্ধ রয়েছে। দেশের অন্য সব সেক্টরে করোনায় কারো বেতন ভাতা বন্ধ হয়নি। অথচ তাদের কপাল পোড়া!
সম্মানী বন্ধ থাকায় প্রতি ক্লাবের ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোরের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শুরুতেই জেন্ডার প্রমোটর ও শিক্ষকদের মন ভেঙে গেলে প্রকল্পেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রকল্পে যশোরে নিযুক্ত ১শ’ জন কঠিন সময় পার করছেন। তারা দ্রুত তাদের বকেয়া ৫ মাসের সম্মানী দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক সকিনা খাতুন, প্রকল্পে সুপার ভাইজার আলমগীর হোসেন ও ছন্দা দত্ত গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, জেন্ডার প্রমোটর, আবৃতি শিল্পী ও সংগীত শিল্পীদের সম্মানীর ব্যাপারে তারা ঢাকাতে জোরালো যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চাকরি নিয়োগের সময়ই উল্লেখ ছিল হাজিরা ভিত্তিক সম্মানী। সে হিসেবে গত ৫ মাস কোনো ক্লাস হয়নি। ফিল্ড পর্যায়ে কোনো কাজও হয়নি। যে কারণে তাদের সম্মানী আসলেই আদায় করা সম্ভব হবে কিনা এটাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক একেবারে নতুন। তার সাথে জেলা পর্যায় থেকে সমন্বয় ও সংলাপ চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে আশাহত না হতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান তারা।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft