আজ মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: বিপুল পরিমাণ বোমা ও গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার       কলেজ স্টুডেন্ট শেড এখন চায়ের দোকান!       সীতাকুন্ডে জেলেদের জালে ১৩ মহিষ       সীতাকুন্ডে বিপুল অস্ত্রসহ মশিউর বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগী গ্রেফতার       দুর্নীতির লাগাম টানতে অনলাইন ডাটাবেজ হচ্ছে হাসপাতাল ও ডাক্তারদের        লেখাপড়ার স্বপ্নপূরণে রিক্সা চালিয়ে কলেজ করে রাসেল       স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩ দিনের সফরে মিয়ানমারে        হঠাৎ হিরো বনে গেলেন পাক পেসার উসমান       পিএসজির পয়েন্ট কেড়ে নিলো মার্সেই       অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিতে ব্রাজিল      
ব্লু হোয়েল আসক্তি থামাতে যা প্রয়োজন
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 10 October, 2017 at 7:15 PM
ব্লু হোয়েল আসক্তি থামাতে যা প্রয়োজনঅনলাইনভিত্তিক মরণঘাতী গেমস ব্লু হোয়েল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও গোটা পৃথিবীতে এমন আত্মঘাতী খেলায় বহু কিশোর-কিশোরীর প্রাণ গেছে। বাংলাদেশেও এমন গেমে হতাশাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের আসক্তি লক্ষ্যনীয়। এরইমধ্যে স্বর্ণা নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাতে ব্লু হোয়েলের আসক্তিকেই দায়ী করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ইন্টারনেট সার্চিং এবং যেকোনো ধরনের গেম খেলার প্রতি শিশু-কিশোরদের ঝোঁক থাকলে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তাদের আত্মঘাতী হতে প্ররোচিত না করে।
প্রাণঘাতী ব্লু হোয়েল গেম খেলে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডের ১৩ বছর বয়সী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার থেকেই বলা হচ্ছে।
ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি যেমন মৃত্যুর আগে সমুদ্রের তীরে চলে আসে, ঠিক তেমনি ব্লু হোয়েল খেলার বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে ৫০ ধাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় গেমে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী।
রাশিয়ায় ২০১৩ সালে ‘এফ৫৭’ নামে এ গেমটির প্রচলন শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পর ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক শিক্ষার্থী এ গেম তৈরি করেন। মূল্যহীনদের সমাজ থেকে সরাতেই গেমটি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি ফিলিপের।
গেম খেলে ১৬ জনের আত্মহত্যার পর ফিলিপকে আটক করা হলেও বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ার খবর জানিয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা।
ইন্টারনেটে সার্চ করে বিভিন্ন দেশে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মরণঘাতী ব্লু হোয়েলের আসক্তির তথ্য পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
অধ্যাপক কায়কোবাদ বাংলানিউজকে বলেন, হতাশাগ্রস্ত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে এমন গেম তৈরি করা হয়। এ গেম তৈরি করে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করা হয় এবং যার শেষ পর্যায়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।  
তিনি বলেন, আমাদের সমাজেও নানা সমস্যা রয়েছে। আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের সচেতন করতে হবে, যাতে তারা হতাশাগ্রস্ত না হয়।
ইন্টারনেট সার্চিংয়ে সচেতনতা দরকার যাতে সন্তানরা এগুলোর মধ্যে ডুবে না যায়, বলেন অধ্যাপক কায়কোবাদ।
অনলাইনে ব্লু হোয়েলের আগেও এমন খারাপ গেম এসেছে এবং সেগুলোতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটতো বলে জানিয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির।
তবে তাদের জানামতে এ ধরনের গেমের কোনো লিঙ্ক সম্পর্কে কেউ তাদের জানায়নি বলে জানান প্রযুক্তিবিদ সাবির।
ব্লু হোয়েলের উপস্থিতি বাংলাদেশে যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা মারাত্মক উল্লেখ করে সুমন বলেন, এর পেছনে কে কাজ করছে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের আচরণে কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে অভিভাবকদের তাদের মনের চিন্তাগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং গেমের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। ব্লু হোয়েলের মতো গেমের বিষয়ে সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই খারাপ কিছু থেকে রক্ষা করা যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে ব্লু হোয়েল গেমের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এ গেম কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে- সে বিষয়ে বিটিআরসি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সচিব মো. সরওয়ার আলম।
তবে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, গেমটি অ্যাপস না কোনো লিঙ্কে যাচ্ছে- এমন কারিগরি দিকটি নিশ্চিত হতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও দরকার। পাশাপাশি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টারনেট প্রোভাইডারদেরকেও সহযোগিতা করতে হবে।
আর সব মিলিয়ে ব্লু  হোয়েলে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft