শিরোনাম: দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৭০       চীনে করোনাভাইরাসে মৃতদের স্মরণে ৩ মিনিট নীরবতা পালন       নড়াইল সদর হাসপাতালের সেই নার্স করোনা আক্রান্ত নন        যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ১৩২০ জনের মৃত্যু       ঘরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, খাদ্যের কোনো অভাব নেই : প্রতিমন্ত্রী স্বপন        কাঠালিয়ায় চিকিৎসকদের সুরক্ষায় পিপিই বিতরণ        চট্টগ্রামে ৩ চিকিৎসকসহ ১৮ জন কোয়ারেন্টিনে       সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চাঁদপুরে কাজ করছে সেনাবাহিনী       রোববার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী       চলতি মাসের শেষে করোনার বিস্তার কমতে পারে       
কেউ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 25 March, 2020 at 8:30 PM
কেউ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন না : প্রধানমন্ত্রীকরোনাভাইরাস মহামারিতে সারাদেশের মানুষ আতঙ্কিত। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কেউ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন না। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না।’ বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব বলেন।
শেখ হাসিনার আহ্বান, ‘যতটুকু না হলে নয়, তার অতিরিক্ত কোনো ভোগ্যপণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। সর্বত্র বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। তার কথায়, ‘এ সংকটময় সময়ে আমাদের সহনশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে।’
সরকার প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি মিল মালিকদের কাছে এবং কৃষকদের ঘরে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে। চলতি মওসুমে আলু-পেঁয়াজ-মরিচ-গমের বাম্পার ফলন হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘জানি আপনারা এক ধরনের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যাদের আত্মীয়স্বজন বিদেশে আছেন, তারাও নিকটজনদের জন্য উদ্বিগ্ন। সবার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু এই সংকটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।’
শেখ হাসিনার কথায়, ‘মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, এলাকাবাসী ও সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা মনে করেন, কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে। যেমন-ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দিলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেয়া, যেখানে-সেখানে কফ-থুথু না ফেলা।
করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয় বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর, ‘এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও বয়স্ক মানুষদের জন্য জীবাণুটি প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। সেজন্য আপনার পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন এবং ভাইরাসমুক্ত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন।’
দেশের নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান। তিনি মনে করেন, ‘আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। সবসময় খেয়াল রাখুন আপনি, আপনার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হয়। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে ও সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।’
কৃষকদের প্রতি শেখ হাসিনার অনুরোধ, ‘কোনো জমি ফেলে রাখবেন না। আরও বেশি বেশি ফসল ফলান।’
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা আভাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপরও এই আঘাত আসতে পারে। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা। আমরা জনগণের সরকার। সবসময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। আমি নিজে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অন্যান্য খাতের মতো পোশাক শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। দেশের শিল্প উৎপাদন ও রফতানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এ তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসাবান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোনো গ্রাহককে ঋণখেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা দু’মাস থেকে বৃদ্ধি করে ছয় মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা চার মাস থেকে বৃদ্ধি করে ছয় মাস করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে নি¤œ-আয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আশ্বাস, নি¤œ-আয়ের মানুষদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকার প্রধান জানিয়েছেন, ভাষাণচরে ১ লাখ মানুষের থাকা ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি-বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা ও দেয়া হচ্ছে। তার কথায়, ‘দুর্যোগের সময়ই মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার, মানবতা প্রর্দশনের।’
বেতার-টেলিভিশন ও সংবাদপত্রসহ সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করেছে সরকার। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের সদস্যদের এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে একযোগে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft