রাতভর টানা ভারী বৃষ্টিতে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চলতি মৌসুমের আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
ভারী বর্ষণে ঝিকরগাছা পৌর সদরের পারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেতরেও পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলার গঙ্গানন্দপুর, মাগুরা, শিমুলিয়া, গদখালী, পানিসারা, ঝিকরগাছা সদর, নাভারণ, নির্বাসখোলা, হাজিরবাগ, শংকরপুর ও বাঁকড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নিম্নাঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘের, সবজি ক্ষেত, ফুলের ক্ষেত ও বসতবাড়িতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কবরস্থান ও হঠাৎপাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি শহীদ মশিয়ুর রহমান কলেজ মাঠ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া কলেজপাড়া, সরকারি শিশু পরিবার এলাকা, কুটিপাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাদ্দামপাড়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পারবাজার এলাকার কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন কয়েকটি অংশ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিরআলী এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এসব এলাকায় হাঁটুপানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর ও কলোনিপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফায়ার সার্ভিস ও টিএনটি পাড়া এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষকপাড়া, পূজা মন্দির এলাকা ও বিএম হাইস্কুল মাঠেও পানি জমে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ঝিকরগাছা পৌরসভার কলেজপাড়ার বাসিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি আঁখি খাতুন বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ওই এলাকার কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার এসব এলাকা অবহেলিত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সহকারী অধ্যাপক কে এম ইদ্রিস আলী বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন, কালভার্টসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছে।
পৌর নির্বাহী সন্তোষ কুমার হাজরা বলেন, পৌরসভার কর্মচারীরা বন্ধ থাকা ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। শনিবার থেকে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ আরও জোরদার করা হবে।