gramerkagoj
শনিবার ● ২ মার্চ ২০২৪ ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
gramerkagoj
পেঁপে খাচ্ছেন কিন্তু বীজ কি করছেন?
প্রকাশ : শনিবার, ১১ নভেম্বর , ২০২৩, ১১:৫৮:০০ এ এম , আপডেট : শুক্রবার, ১ মার্চ , ২০২৪, ১১:০১:৫০ এ এম
কাগজ ডেস্ক:
GK_2023-11-11_654f132a51699.jpg

পাকা পেঁপে খেতে কে না পছন্দ করেন। স্বাস্থ্যের জন্য কাঁচা এবং পাকা পেঁপে দুটোই বেশ উপকারী। তবে পাকা পেঁপে খেলেও আপনি পেঁপের বীজ খেয়েছেন কি কখনো? ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ পেঁপের বীজেও রয়েছে ভরপুর পুষ্টিগুণ। পেঁপে খাওয়ার পর আমরা সাধারণত এর বীজ ফেলে দেই। কিন্তু এখন থেকে ভুলেও এই ভুলটি আর করবেন না। পেঁপের বীজে কী কী গুন রয়েছে জানেন কি?
এই বীজে একটি বিশেষ ধরনের এনজাইম থাকে যা প্যাপেইন নামে পরিচিত, এর সাহায্যে হজমশক্তি উন্নত করা যায়। খাবার পর এক চামচ পেঁপের বীজ খেতে হবে। এতে করে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও ফোলা সমস্যা হবে না। শুধু তাই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ ওজনও কমাতে সক্ষম এই পেঁপের বীজ।
কী ভাবে খাবেন?
পেঁপে খাওয়ার আগে বীজগুলি ফেলে না দিয়ে সেগুলি একটা পাত্রে সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে নিন। এ বার সেই বীজগুলি গুঁড়ো করে একটি কাচের পাত্রে ভরে রাখুন। এই বীজের স্বাদ তেতো হয়। যে কোনও স্যালাড কিংবা স্মুদি বানানোর সময়ে এই গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন, পুষ্টিগুণ পাবেন আর তেতোও লাগবে না।
তবে পেঁপের বীজ বেশী পরিমাণে খাওয়াটা আবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। প্রাণীদের ওপর চালানো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পেঁপের বীজ প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় : গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ছত্রাক ও পরজীবী ধ্বংস করতে পারে পেঁপের বীজ। দেহে প্রোটিন বিপাকে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ থেকেও শরীরকে রক্ষা করে এই বীজ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে : দেশে এখন চলছে ডেঙ্গুর মৌসুম। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জানলে অবাক হবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পেঁপের বীজের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলেই অণুচক্রিকা কমতে শুরু করে। এই সময়ে নিয়মিত পেঁপের বীজ এবং পেঁপে পাতা খেলে অণুচক্রিকা আবার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে : পেঁপের বীজের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে পরিপাকক্রিয়া ভালো থাকে। হজমের সমস্যা থাকলে এই ঘরোয়া উপায়ে তা দূর করতেই পারেন। হজমশক্তি ভাল হলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হজমের গোলমাল যাঁদের আছে, এই ঘরোয়া টোটকায় ভরসা রাখলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে : ঋতুস্রাবের সময়ে অনেকেরই অসহ্য যন্ত্রণা হয়। ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে নানা ওষুধের উপর ভরসা রাখেন। ঋতুস্রাব চলাকালীন পেঁপের বীজের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। ব্যথা অনেক কম হবে।
প্রদাহ কমাতে : সাধারণত পেঁপের বীজ প্রদাহ কমাতে কার্যকর। পেঁপের বীজ ভিটামিন সি, অ্যালকালয়েড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ। এই সব উপাদান আর্থ্রাইটিস বা প্রদাহের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
কিডনির স্বাস্থ্যে : কিডনি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ছোট্ট এই অঙ্গ আমাদের শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। গবেষণা বলছে, পেঁপের বীজ কিডনির কার্যক্রম ভালো রাখে।
ত্বকের জন্য : পেঁপের বীজ ত্বক-সম্পর্কিত যেকোনও সমস্যা নিরাময়ের জন্য খুবই উপকারী। কারণ এতে অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, তারা আপনার ত্বককে নরম এবং চকচকে করে তোলে।
হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে : পেঁপের বীজ যে কোনও হৃদরোগের প্রতিষেধক। একই সময়ে, এই বীজগুলিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি পাওয়া যায়, যা ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন এগুলো খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ক্ষতিকর জীবাণুনাশ : পেঁপের বীজে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক। পেঁপের বীজ দেহে বাসা বাঁধা নানা ক্ষতিকর জীবাণু নাশ করে। এছাড়া দেহে প্রোটিন বিপাকে সাহায্য করে ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
হজম প্রক্রিয়া : খাবার ভালোভাবে হজমের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী একটি ফল। শরীরের ভেতর প্রোটিন ফাইবারকে ভাঙতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত করে পেঁপে বীজ।
ক্যান্সার প্রতিরোধ : আপনি জেনে হয়তো অবাক হবেন, পেঁপে ত্বকের যত্ন ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পানি ও দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বীজের মিশ্রণ তৈরি করে নিয়মিত পান করলে যকৃত ভালো থাকে।
তবে পেঁপে যেমন উপকারী তেমন কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও করতে পারে। যেমন-
অতিরিক্ত পেঁপে খেলে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেঁপে কিন্তু গর্ভবতী নারীদের জন্যও ক্ষতিকর। পেঁপে খেলে গর্ভপাতের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জি : কাঁচাপেঁপের বোটা থেকে বের হওয়া সাদা তরল চামড়ায় অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে।
প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে : পেঁপের বীজের নির্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে সক্ষম। বীর্জে শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে এবং শুক্রাণুর নড়াচড়ার ক্ষমতা কমার পেছনেও দায়ী হতে পারে পেঁপে।
গর্ভপাত : পেঁপে অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এর বীজ ও শেকড় গর্ভপাত ঘটাতে পারে। কাঁচাপেঁপে জরায়ু সংকুচিত করে ফেলে। পাকাপেঁপেতে এই ঝুঁকি কিছুটা কম। তবে গর্ভবতী হলে পেঁপে এড়িয়ে চলাই ভালো।
খাদ্যনালীতে বাধা : পুষ্টিকর বলে কোনকিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে অতিরিক্ত খেলে খাদ্যনালীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দিনে এক কাপের বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।
জন্মদোষ : পেঁপে পাতায় থাকা ‘পাপাইন’ নামক উপাদান গর্ভের সন্তানের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সন্তান বুকের দুধ খাওয়ানোর বয়সে মায়ের পেঁপে খাওয়া ক্ষতিকর কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে সাবধানের মার নেই, তাই গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর্যন্ত পেঁপে এড়িতে চলা উচিত।
রক্তে শর্করার পরিমাণ : পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। তাই যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তাদের জন্য পেঁপে বিপজ্জনক হতে পারে।
পেঁপের কালো বিচিগুলোও শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এগুলোতে টক্সিক এনজাইম কারপাইন থাকে, যা মস্তিষ্কে অসাড়তা তৈরি করে কার্ডিয়াক ডিপ্রেশন বা প্যারালাইসিস তৈরি করতে পারে।
কাঁচা পেঁপের রস বিষাক্ত ও ক্ষতিকর। কাঁচা পেঁপের নির্যাস শরীরে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। এটি পান করলে বদহজম, বিষক্রিয়া ও অ্যাবডোমিনালে ব্যথা হতে পারে।
এরকমই কিছু ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

আরও খবর

🔝