gramerkagoj
বৃহস্পতিবার ● ৩০ মে ২০২৪ ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
gramerkagoj

❒ যশোরে ২৮ হাজার মে.টন চাল ও ১৫ হাজার মে.টন ধান কেনার টার্গেট

এবার কৃষকের ঘরে যাবেন কর্মকর্তা
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মে , ২০২৪, ১২:০১:০০ এ এম , আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ মে , ২০২৪, ১২:২৩:০৬ পিএম
এম. আইউব:
GK_2024-05-14_66437a8675c6f.webp

যশোরে চলতি বোরো মৌসুমে চাল ও ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার ৮৩৯ মেট্রিকটন চাল ও ১৫ হাজার ৭০২ মেট্রিকটন ধান কেনা হবে। গত ৮ মে থেকে শুরু হয়েছে চাল ও ধান কেনা কার্যক্রম। চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
এ বছর প্রথমবারের মতো ধানের আর্দ্রতা নির্ণয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষকের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষক যাতে ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে এসে আর্দ্রতার কারণে হয়রানির শিকার না হন সেই কারণে এ নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোর সদর উপজেলায় দু’হাজার ৫৬৩ মেট্রিকটন ধান ও আট হাজার ৭৬৩ মেট্রিকটন চাল, বাঘারপাড়ায় এক হাজার ৬১৭ মেট্রিকটন ধান ও এক হাজার ৩৪ মেট্রিকটন চাল, অভয়নগরে এক হাজার ৩৯১ মেট্রিকটন ধান ও পাঁচ হাজার ৪৭৮ মেট্রিকটন চাল, কেশবপুরে এক হাজার ২৭৭ মেট্রিকটন ধান ও ৮১০ মেট্রিকটন চাল, মণিরামপুরে দু’হাজার ৮২৩ মেট্রিকটন ধান ও দু’হাজার ২১৭ মেট্রিকটন চাল, ঝিকরগাছায় এক হাজার ৯১১ মেট্রিকটন ধান ও এক হাজার ৪১০ মেট্রিকটন চাল, শার্শায় দু’হাজার ৩২৮ মেট্রিকটন ধান ও আট হাজার ৬৮ মেট্রিকটন চাল এবং চৌগাছায় এক হাজার ৭৯২ মেট্রিকটন ধান ও এক হাজার ৫৯ মেট্রিকটন চাল কেনা হবে চলতি বোরো মৌসুমে।
এই মৌসুমে ধান ৩২, সিদ্ধ চাল ৪৫ ও আতপ চাল ৪৪ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে। ৩১ আগস্ট বোরো সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও জুনের মধ্যে ৭০ শতাংশ ধান-চাল সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহের সময় কৃষককে হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে এসে কৃষক যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য প্রতি ইউনিয়নে তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে একটি করে ময়েশ্চার মিটার (ধানের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র) দেয়া হয়েছে। যেসব কৃষক খাদ্যগুদামে ধান দেবেন বলে আবেদন করেছেন তাদের কাছে গিয়ে ওই মিটার দিয়ে ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে আসবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের বেশি থাকলে তাদের আরও শুকিয়ে ১৪ শতাংশে আনতে বলবেন তারা। এমনকি জেলা প্রশাসকদের এডিবি ফান্ডের কৃষির অংশ থেকে আরও ময়েশ্চার মিটার কিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে দেয়ার জন্য বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী।
এদিকে, গুদামে ধান বিক্রিতে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না কৃষক। খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে যশোরাঞ্চলে খোলা বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা মণ। তাও আবার ঝাড়ার সাথে সাথে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপারিরা। আর খাদ্য গুদামে ধানের দাম এক হাজার ২৮০ টাকা মণ। তাও সাথে সাথে টাকা পাওয়া যাবে না। এরবাইরে শুকানোর ব্যাপার রয়েছে। অপরদিকে, চাষি জমি থেকে কেটে এনে মাড়াইয়ের পরপরই নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন। সেখানে খাদ্য গুদামে নানা প্রক্রিয়া পার করতে হয়। এ কারণে গুদামে নেওয়ার মতো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না চাষি। ফলে, অ্যাপে ধান বিক্রি করতে পর্যাপ্ত সাড়া মিলছে না। যদিও মঙ্গলবার অ্যাপে আবেদনকারী কৃষকের লটারি হওয়ার কথা ছিল। সার্ভার সমস্যার কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত লটারির ফলাফল জানা যায়নি বলে জানান সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
এ ব্যাপারে যশোরের সদ্য যোগদান করা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান বলেন, অ্যাপে ধান বিক্রির জন্য কৃষকের সাড়া কম। এ কারণে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা কম নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও খবর

🔝