gramerkagoj
বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুলাই ২০২৪ ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
gramerkagoj
‘শেখের বেটি হামাক দুই শতক জমি দিছে, ফির পাকা ঘর বানে দিছে’
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ জুন , ২০২৪, ০৪:৪৮:০০ পিএম
আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
GK_2024-06-11_66682b79ab888.jpg

‘জীবনটা শেষ হয়া গেলো। এক শতক জমি কিনির পাই নাই। শেখের বেটি হামাক দুই শতক জমি দিছে, ফির পাকা ঘর বানে দিছে। নামাজ পরি দোয়া করিম আল্লাহ তার ভালো করুক। এহন কবার পাইম হামার একটা পাকা বাড়ি আছে।’
বদলে যাওয়া জীবনের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মনোয়ারা বেগম (৫০)।
আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় উপহারের ঘর পেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার কাকিনা মহিষামুড়ি আশ্রায়ন প্রকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডি কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে গৃহহীন পরিবারের মাঝে মজিববর্ষের ঘর হস্তান্তর ও উদ্বোধন করেন।
ঘর পেয়ে মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘৪০ বছর আগোত যখন মোর বিয়াও হয়। তখন ওমরা (স্বামী) পরার জমিত ছিল। ওতে সংসার করি বয়শটা শেষ। আগোত ভাঙা ঘরোত নিন্দে না ধরে। এ্যালা একনা নিন পারির পাইম।’
একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর পেয়েছেন শাহেরন বেওয়া (৬০)। এখন প্রকল্পের ঘরে থাকেন। স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ঘর পেয়ে অনেক খুশি তিনি।
ঘর ও জমি পাওয়ার আনন্দে মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘আগোত কষ্টের শেষ ছিল না। পরের জমিত থাকির নাগছিলো। পলিথিনের ছাউনি ঘরোত পানি পরছিল। এমন কষ্ট হছিল তা কওয়ায় যায় না। এখন কবার পাইছু হামার একটা পাকা বাড়ি ও জমি আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ঘর বানে দিছে, আর কারও সাহস হইবে না, এই ঘর করি দিবার।’
মনোয়ারা, শাহেরন বেওয়া ও মোর্শেদার মতো একই প্রকল্পের ঘর পেয়েছে ওখানের ২৭৫টি পরিবার। যেখানে রয়েছে বিদ্যুৎ, গাছপালা, টিউবওয়েল, রান্নাঘর ও বাথরুম নানা সুযোগ-সুবিধা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় পাওয়া ঘরে বসবাস করছে ২৭৫ পরিবার। পড়ে থাকা খাস জমি কাজে লাগিয়ে ভূমিহীন আশ্রয়হীনদের ঘর বানিয়ে দিয়েছে সরকার। এখন পুরো গ্রাম আলোকিত। একসময়ে ভিক্ষা করতেন জালাল উদ্দীন (৭০)।
তিনি অন্যের জমিতে থাকতেন। এখন উপহারের ঘরে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘হামরা ঘর পামো জমি পামো, এটা বিশ্বাস করিবার পাই নাই। হঠাৎ একদিন উপজেলা থাকি ইউএনও স্যার আসি আইডি কার্ড নিলো। কইছিল তোমাক সরকার ঘর দেবে। সে কথামতো ঘরও পাইছি। এখন আর রোদ বৃষ্টির ভয় নাই। এ্যালা ঘর পায়া খুশিতে আছি।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারগুলো ঘর পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছে। সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধাই তাদের দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যারা আত্মকর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে, সরকার তাদের পাশেও দাঁড়াচ্ছে। আমরা চাই এসব ভূমিহীন পরিবার অন্যের সহায়তা ছাড়াই আত্মনির্ভরশীল হোক।

আরও খবর

🔝