শিরোনাম |
❒ শালিখা উপজেলা কৃষি অফিস
মাগুরার শালিখা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সঞ্জয় হালদার সরকারি বাসা ভাড়া ফাঁকি দিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। কেবল তাই না, সরকারি এই কোয়ার্টারে থেকে নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকান্ডেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড করে আসলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতনরা রয়েছেন নিশ্চুপ।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মাগুরার শালিখা উপজেলা কৃষি অফিসে ডেপুটেশনে থাকা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সঞ্জয় হালদার সরকারি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও বছরের পর বছর কোনো ভাড়া দেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে তিনি ১০২ মাস বাড়ি ভাড়ার ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা হজম করেছেন। বাড়ি ভাড়া না কেটে বেতন ছাড়ের বিধান না থাকলেও শালিখা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসও বেতন বিল ছাড় করে আসছে বছরের পর বছর।
সূত্র জানিয়েছে, সঞ্জয় হালদারের বেতন অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া কর্তন হওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০২ মাসে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে, যা তিনি দেননি। আবার উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস রাষ্ট্রীয় এ অর্থ ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি আমলেও নেয়নি। সূত্রের দাবি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সঞ্জয় হালদার পরষ্পর যোগসাজস করে এই অনিয়ম করে আসছে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে পরিচিত শালিখা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার ওয়াহিদুন নবী অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সঞ্জয়কে এই সুবিধা দিয়ে আসছেন। যদিও ওয়াহিদুন নবী গ্রামের কাগজকে বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারে কেউ থাকেন কিনা তা উপজেলা কর্মকর্তা জানান। সেই অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া কর্তন করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখনো কোনো জবাব আসেনি। আসলে বকেয়া সমুদয় ভাড়া আদায় করা হবে।’ কেন এতদিন বিষয়টি যাচাই করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে, সঞ্জয় হালদারের বিরুদ্ধে নারীঘটিত নানা অভিযোগ এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। একজন নারীর সাথে ঘনিষ্ট মুহূর্তের কিছু ছবিও এসেছে। সূত্র বলছে, বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সাথে ঘনিষ্ট সময় পার করেন তিনি। যার একাধিক ছবি আছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে। সঞ্জয় এসব অপকর্ম করেন যশোরাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীমের সহযোগিতায়। ওইসময় সঞ্জয় দাপটের সাথে চলেছেন কৃষি বিভাগে। কেবল তাই না, বিধিবহির্ভূতভাবে বাগিয়ে নেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পদ।
এসব বিষয়ে সঞ্জয় হালদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি স্টোর রুমে থাকি। সেখানে মাসিক ভাড়া ৫০ টাকা। আমি প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে দিই। আর নারীর সাথে যে ছবি তা কম্পিউটারে তৈরি করা।’
শালিখা উপজেলা কৃষি অফিসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্টোর রুমে কেবলমাত্র উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা থাকতে পারবেন। ১৯৮৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, তাদের জন্য দু’কক্ষের স্টোর রুমে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৫০ টাকা হারে। এটি কোনোভাবেই উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারবেন না। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের বাড়ি ভাড়া কর্তন হবে বেতনের গ্রেড অনুযায়ী। একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই পরিপত্র উল্লেখ করে সরকারি বাড়িভাড়া কর্তন না করে বছরের পর বছর হজম করে চলেছে।