gramerkagoj
রবিবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
gramerkagoj

❒ জুলাই জাতীয় সনদে সই স্থগিত

মৌলিক সংস্কার ইস্যুতে ঐক্যমত্য না হওয়ায় অনিশ্চয়তা
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই , ২০২৫, ১০:৫১:০০ এএম
কাগজ ডেস্ক:
GK_2025-07-31_688af6678949b.jpg

চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এ রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর নেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মাসের শেষ দিন হলেও অন্তত আটটি মৌলিক সংস্কার ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য না হওয়ায় সইয়ের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাক্ষর স্থগিত হলেও আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। বরং আজই সংশোধিত একটি সমন্বিত খসড়া সনদ দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, আজকের আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন। বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ২২তম বৈঠকে তিনি বলেন, আশা করছি বৃহস্পতিবার একটি সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য খসড়া সনদ সব দলের কাছে তুলে দিতে পারব।

আরও পড়ুন...

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির রিয়াদের রুদ্ধশ্বাস উত্থান

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে


তিনি আরও বলেন, মতামত থাকলে আজকের মধ্যেই জানাতে হবে। আমরা আজই আলোচনা চূড়ান্ত করতে চাই।

২০২৩ সালের অক্টোবরের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এরপর থেকে ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক ও সম্মিলিতভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এই কমিশন।

এখন পর্যন্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত ১২টি বিষয়ে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি, হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা পুনঃনির্ধারণ।

তবে ৮টি স্পর্শকাতর ইস্যুতে এখনো কোনো ঐক্যমত্য গড়ে ওঠেনি। এর মধ্যে রয়েছে— রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব, চারটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সিভিল সার্ভিস সংস্কার।

বুধবারের দীর্ঘ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব। বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে সাতটি আলোচ্য বিষয়ের একটিতেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন...

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ১০৪

টিভিতে আজকের খেলার সূচি


কমিশনের সদস্যরা সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফের আলোচনায় বসেন।

বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কারের অনেক অংশ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্বাচিত সরকার এলে বাকি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকলে এটি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তিনি গণভোট ও রেফারেন্ডামের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি তৈরির প্রস্তাব দেন।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সনদ প্রকাশ না হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে একত্র করে তা আদায় করা হবে।

কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ নিয়ে নীতিগত ঐকমত্য থাকলেও সংবিধানে তার সংযুক্তি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন খসড়ার আলোকে অগ্রগতি হবে।

আরও খবর

🔝