শিরোনাম |
❒ চরের মানুষের বদলে যাওয়া জীবন
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত চরজাজিরা ও মোল্লার চর—এই দুটি চরে গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গবাদিপশু কেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবনযাপন। প্রায় ৬০টি পরিবার এখানে বসবাস করে, যাদের প্রধান জীবিকা হলো মহিষ পালন। প্রতিটি পরিবারের ঘরে মহিষ রয়েছে, অনেকের বাড়িতে গরু, ছাগল, ভেড়া ও দেশি মুরগিও দেখা যায়।
বর্তমানে এই দুই চরে প্রায় ১ হাজার মহিষ রয়েছে। খোলামাঠে দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়িয়ে মহিষগুলো ঘাস খায়, আর রোগবালাইও তেমন একটা হয় না। বছরে তিনবার কৃমিনাশক ও নিয়মিত এফএমডি (ক্ষুরারোগ) ও এইচএস (হেমোরেজিক সেপটিসেমিয়া) টিকা প্রয়োগেই যথেষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। পর্যাপ্ত ঘাস, আলো, বাতাস ও মুক্ত পরিবেশে পালিত হওয়ার ফলে এসব মহিষ প্রতি বছর নতুন বাচ্চা দেয়।
মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা জানান, চরাঞ্চলের মহিষগুলো প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পালিত হওয়ায় এদের দুধ সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৃহত্তর বাজারেও এই দুধ ও দুধজাত পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন...
আগামী পাঁচ দিন ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস
ইসরাইলের চার কৌশলগত স্থাপনায় ইয়েমেনের হামলা
গত ১৫ জুলাই চরজাজিরায় পিপিআর নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় এফএমডি টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, উবিনিগ-এর প্রতিনিধি ও বিএলআরআই-র সদস্যসহ একটি প্রতিনিধি দল। তারা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে, হেঁটে ও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে চরজাজিরায় পৌঁছান এবং সরেজমিনে টিকাদান কার্যক্রম ও মহিষ পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিনিধি দল চরবাসীর আগ্রহ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে গবাদিপশু পালনের প্রশংসা করেন।
চরবাসীরা জানান, বর্ষাকালে দেড় থেকে দুই মাস চরগুলো পানির নিচে থাকে, ফলে ঘাসের ঘাটতি দেখা দেয়। তখন মহিষগুলোকে পার্শ্ববর্তী গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এই সময়ের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ‘সাইলেজ’ বা শুকনো ঘাস (হে) সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, চরাঞ্চলের গবাদিপশু ও পশুপালকদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।