gramerkagoj
রবিবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
gramerkagoj

❒ সাদিক কায়েম

জুলাই বিপ্লব শহীদদের নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে, কেউ এককভাবে ক্রেডিট নিতে পারে না
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই , ২০২৫, ০৪:৫১:০০ পিএম
কাগজ ডেস্ক:
GK_2025-07-31_688b4a9c6979e.jpg

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েম জুলাই আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সেই অভ্যুত্থানে ছাত্রশিবিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাই সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েমকে রাখা হয়েছিল।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম স্পষ্টভাবে বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড বা নায়ক যদি কেউ হয়ে থাকেন, তারা হচ্ছেন আমাদের শহীদ ও গাজীরা। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই আজ আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল এ দেশের সাধারণ ছাত্র ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। সে সময় আমরা মতাদর্শ ভুলে গিয়ে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণে একক লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিলাম।

তিনি দাবি করেন, সরকার গঠনের পর থেকে তিনি নিজেকে কখনও সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নেননি। তার ভাষায়, “আপনারা কেউ একটা সিঙ্গেল ডকুমেন্ট দেখাতে পারবেন না, যেখানে আমি সমন্বয়ক পরিচয়ে কিছু দখল করেছি বা আত্মসাৎ করেছি।”

সাদিক বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত আমরা কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউর সময়েও ৯ দফা কর্মসূচি তৈরি, তা বিভিন্ন অংশীজন ও মিডিয়ায় পৌঁছে দেওয়া, সেকেন্ড লেয়ারের নেতাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রতিদিনের পরিকল্পনা করা — এই দায়িত্ব আমরা কাঁধে নিয়েছিলাম।

তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বহু ছাত্রসংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন, এবং সবার সহায়তায় আন্দোলন সংগঠিত ছিল।

সাদিক কায়েম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনাগুলো জাতির সামনে না আনলে ইতিহাসে বিকৃতি ঘটবে। এর মাধ্যমে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর দেখা যাচ্ছে, যারা আগে গুমের নাটক করেছিল কিংবা আন্দোলন থেকে আত্মগোপনে ছিল, তারা আজ বড় বিপ্লবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে তারা আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে থেকেছেন। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ছাত্র এবং নানা রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বিপ্লবের মূল ধারার বাইরে রাখা হয়েছিল।

তার বক্তব্যে উঠে আসে আক্ষেপ, জুলাইয়ের যোদ্ধারা আজ বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা অনৈতিক এবং শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

বক্তব্যের শেষে সাদিক কায়েম বলেন, মতের অমিল থাকবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবের প্রশ্নে আমাদের একত্রিত থাকতে হবে। বিভাজন নয়, ঐক্যই হবে আমাদের পথ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা’ আগামী দিনেও সব স্তরের ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখবে এবং ইতিহাসের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরবে।

আরও খবর

🔝