শিরোনাম |
গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চেকগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলাবাগান থানায় নতুন একটি মামলা রুজু হচ্ছে। সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক পাওয়া যায়, যা আগামী মাসের ২ তারিখে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল।
বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এক ব্যবসায়ীর জমি উদ্ধারের বিষয়ে রিয়াদের সঙ্গে ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার লেনদেনের অংশ হিসেবেই ওই চেকটি ছিল। এছাড়া, রিয়াদের ঘর থেকে অন্তত ১০টি এফডিআরের কাগজ পাওয়া গেছে, যেগুলোর প্রতিটিতে সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকা করে জমা রয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদের একটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত কয়েক মাসে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
২৬ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর রোডের বাসায় চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে পাঁচজন। তারা হলেন, মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২), সাদমান সাদাব (২১), মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), ইব্রাহীম হোসেন (২৪) এবং আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫)। রিয়াদ নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায় বসবাস করেন। ইব্রাহীম চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের এবং আমিনুল ঢাকার বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইব্রাহীম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ছিলেন।
খবর পাওয়া গেছে, সারাদেশেই এমন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য চলছে। ‘মব’কে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়ার থেকে এ ধরণের কর্মকান্ড অস্বাভাবিকভাবে চলছে। দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে এ চাঁদাবাজির পরিবেশ বন্ধ হওয়া দরকার।