gramerkagoj
রবিবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
gramerkagoj
জুমার দিনের ফজিলত ও সুন্নত আমল
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ আগস্ট , ২০২৫, ১০:০৯:০০ এএম
ইসলামী জাহান ডেস্ক:
GK_2025-08-01_688c3e14f321b.jpg

ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিনকে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একাধিক সহিহ হাদিসে এ দিনের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন— জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

আরেকটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন— সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

জুমার দিনের বিশেষ সুন্নত আমল
জুমার দিনের ইবাদতের ফজিলত অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় বেশি। হাদিসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই দিনে পালন করলে অনেক সওয়াব লাভ হয়। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো : ১. গোসল করা। ২. পরিচ্ছন্ন ও উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. খুতবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা।

এই আমলগুলোর ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন— যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, উত্তম পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে (যদি তার কাছে থাকে), অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে না গিয়ে নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা শুরুর পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ থাকে, তার জন্য এ আমল পূর্ববর্তী জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সব ছোটখাটো গুনাহ মোচনের কারণ হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)

আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: একটি মহৎ আমল
জুমার দিন মসজিদে আগেভাগে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন— হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারো। (সুরা জুমা, আয়াত : ০৯)

রাসুল (সা.) বলেন— ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করেন এবং আগমনকারীদের নাম ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেন। যারা প্রথম আসে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; এরপর আসা ব্যক্তি গাভী কোরবানি করল; এরপর মুরগি; তারপর ডিম। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা তাদের লিপিবদ্ধ করা বন্ধ করে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনে। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন— যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত আলো প্রকাশিত থাকবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
এই দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং তিনি। তিনি বলেন— জুমার দিনই হলো সর্বোত্তম দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তিনিই এই দিনে ইন্তেকাল করেছেন, শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সব সৃষ্টিকে বেহুশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনের অন্যতম ফজিলত হলো—এই দিনে একটি দোয়া কবুলের বিশেষ সময় রয়েছে।
হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন— জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যা কিছু চায়, তিনি তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এক অপার বরকত ও রহমতের দিন। এ দিনে সুন্নত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করলে গুনাহ মাফের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগও মেলে। তাই জুমার দিনকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

আরও খবর

🔝