শিরোনাম |
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী ‘জুলাই পুনর্জাগরণ নাট্য উৎসব ২০২৫’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ উৎসব চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘রি-রিভোল্ট’, পরিবেশনায় টিম কালারস। এ নাটকের রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব নায়লা আজাদ। নাটকটি ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল মুহূর্তগুলোর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে তীরন্দাজ রেপার্টরির নাটক ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’, যা রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দীপক সুমন। একই সময়ে একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় স্পন্দন থিয়েটার সার্কেলের ‘দেয়াল জানে সব’, রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শাকিল আহমেদ সনেট।
পরবর্তী দিনগুলোয় দর্শকরা দেখতে পাবেন: ‘দ্রোহের রক্ত কদম’ – নির্দেশনায় ইরা আহমেদ, পরিবেশনায় এথেরা। ‘৪০৪: নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি’ – নির্দেশনায় লাহুল মিয়া, পরিবেশনায় ফোর্থ ওয়াল থিয়েটার। ‘এনিমেল ফার্ম’ – নির্দেশনায় সাইদুর রহমান লিপন, পরিবেশনায় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘আর কত দিন’ – নির্দেশনায় খন্দকার রাকিবুল হক, পরিবেশনায় অন্তর্যাত্রা। ‘অগ্নি শ্রাবণ’ – নির্দেশনায় ইলিয়াস নবী ফয়সাল, পরিবেশনায় ভৈরবী। ‘মুখোমুখি’ – নির্দেশনায় ধীমান চন্দ্র বর্মণ, পরিবেশনায় থিয়েটার ওয়েভ। ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’ – নির্দেশনায় আজাদ আবুল কালাম, পরিবেশনায় প্রাচ্যনাট।
উৎসবের শেষ দিন ৮ আগস্ট পরিবেশিত হবে ‘আগুনি’, নির্দেশনায় কাজী নওশাবা আহমেদ, পরিবেশনায় টুগেদার উই ক্যান। এ নাটকে অংশ নিচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের পঞ্চাশজনেরও বেশি যোদ্ধা, যা উৎসবের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও গভীর করে তোলে।
উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ও এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটক মঞ্চস্থ হবে। দর্শকদের জন্য প্রতিটি প্রদর্শনী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ নাটকের মাধ্যমে ইতিহাস, প্রতিবাদ ও মানবিক চেতনায় ফিরে দেখার।