gramerkagoj
রবিবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
gramerkagoj

❒ আর কত শিশুর রক্ত ঝরলে বিশ্ব বিবেক জাগবে?

খাবারের আশায় ১২ কিমি হেঁটে এসে ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ গেল আমিরের
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ আগস্ট , ২০২৫, ০৩:০৫:০০ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
GK_2025-08-01_688c836f148d8.jpg

খাবারের আশায় ছেঁড়া জামা গায়ে, খালি পায়ে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে গাজায় গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছেছিল এক শিশু। নাম আমির। কিছু ত্রাণ প্যাকেট পাওয়ার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে প্রাণ হারায় সে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই)। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ও জিএইচএফ-এর প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী অ্যান্থনি অ্যাগুইলার। ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী অফির গুটেলজন ও সাংবাদিক নোগা টারনোপলস্কির সঙ্গে ‘আনএক্সপেক্টেবল’ পডকাস্টে এই বর্ণনা দেন তিনি।

অ্যাগুইলার বলেন, আমির আমার হাত চেপে ধরে চুমু খায়, বলে ‘শুকরান (ধন্যবাদ)’। কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তটুকু ছিল খুবই ক্ষণস্থায়ী। পরক্ষণেই মরাগ করিডোরে শুরু হয় পিপার স্প্রে, টিয়ার গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ও গুলির বর্ষণ।

তার ভাষায়, আশপাশে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষদের ওপরও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। “চারদিকে মানুষ পড়ে যাচ্ছিল, নিহত হচ্ছিল,” বলেন অ্যাগুইলার।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের করদাতাদের অর্থে এই বর্বরতা চালানো হচ্ছে।

ফ্রান্সের ইউরোপীয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, গাজায় জিএইচএফ-এর পরিচালনায় রক্তস্রোত বইছে। এটা লজ্জাজনক, অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করে। এই পদ্ধতিতে গাজাবাসীদের দীর্ঘপথ হেঁটে কেন্দ্রে গিয়ে ত্রাণ নিতে হয়, যা মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করে, এভাবে ত্রাণ দিলে তা হামাসের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি কমে। তবে ইউএসএআইডির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ ও ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, হামাস ত্রাণ ছিনিয়ে নিচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ঘটনার অন্যতম সাক্ষী অ্যাগুইলারকে জিএইচএফ ‘অসদাচরণে বরখাস্ত হওয়া অসন্তুষ্ট কর্মী’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা দাবি করেছে, অ্যাগুইলার পুনরায় চাকরি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে তার বর্ণনা আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল আলোড়ন তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০,২৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জিএইচএফ-এর বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ১,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের অনেকে শিশু। শুধু ৩১ জুলাই ভোর থেকে কমপক্ষে ১৫ জন ত্রাণপ্রার্থী নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজায় ত্রাণ প্রবাহ ভয়াবহভাবে অপ্রতুল। দুর্ভিক্ষে ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের ৮৯ জনই শিশু।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল শেষমেশ জিএইচএফ ছাড়াও অন্য সংস্থাগুলোকেও ত্রাণ বিতরণের অনুমতি দিয়েছে। তবে মানবিক দুর্যোগ এখনো অব্যাহত, এবং প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আর কত শিশুর রক্ত ঝরলে বিশ্ব বিবেক জাগবে?

সূত্র: আল জাজিরা

আরও খবর

🔝