শিরোনাম: বিষমুক্ত সবজি চাষের মডেল যশোরের লেবুতলা       যশোরে ৫৩ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ       এবার রায়পুর কলেজের প্রভাষক অমলেন্দুকে স্থায়ী বরখাস্তের আবেদন       নয়ন হত্যা মামলার আসামিদের হুমকিতে শঙ্কায় বাদীর পরিবার       ইডা কোন নিয়ম কওদিনি বাপু!       মুজিব সড়কে সন্ত্রাসীদের হামলায় দু’ ভাই আহত       এহসান এসের বিরুদ্ধে আরও দু’ মামলা       যশোরে ইজিবাইক ও রিকশা চুরির ঘটনায় মামলা       যশোরে হাঁস মারাকে কেন্দ্র করে হামলা, মামলা       রওশন আলী কলেজের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা      
পর্যটকদের আতঙ্ক তলিয়ে থাকা গাছের গুঁড়ি
সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনে অস্তিত্ব সংকটে কুয়াকাটার লেম্বরবন
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Thursday, 1 October, 2020 at 6:37 PM
সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনে  অস্তিত্ব সংকটে কুয়াকাটার লেম্বরবন কুয়াকাটার অন্যতম পর্যটন স্পট লেম্বুর বন। হাজারও বৃক্ষরাজির সারি সারি পাখির কলাবর আর সুর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য শেষ বিকালে পর্যটকদেও ঢল নামত এই বনাঞ্চলে। কিন্তু সাগরে অব্যাহত ভাঙ্গনে ক্রমস সৈকত ঘেষা এই বনাঞ্চলটির দুইÑতৃতীয়াংশ বিলিন হয়ে গেছে। এখন গাছের গুঁড়ি গোড়া। ভাটায় সৈকতে এ গাছের গুঁড়ি দেখা গেলেও জোয়ারের সময় সাগরের পানিতে তলিয়ে থাকায় এখন পর্যটকদের কাছে এই বনাঞ্চল ঘেষা সৈকতটি দুর্ভোগ আর আতঙ্কেও সৈকতে পরিনত হয়েছে। প্রতিনিয়তই এ গাছের গুঁড়িতে পা আটকে পর্যটকরা দুর্ঘটনার শিকার হলে ও এ গাছের গুঁড়ি উওোলনে প্রশাসন কিংবা বিচ ম্যানেজম্যান্ড কমিটি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। সবচেয়ে বেশি দুঘূটনা ঘটেছে রাতের আঁধাওে ও সমুদ্র জোয়ারের সময়।
কুয়াকাটা সৈকত থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে লেম্বর বনাঞ্চলটি এখন লেম্বর চর হিসেবে পরিচিত পেয়েছে পর্যটকদের কাছে। ঝাউ, ছইলা, কেওড়া, গড়ান,নারিকেলসহ হাজার হাজার ফলজ ও বনজ প্রজাতির গাছের সমাহার ছিল এই বনাঞ্চলে এক যুগ আগে ও এই বনে দেখা মিলতো বিভিন্ন বন্য পাখি। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাগরের ঢেইয়ের ঝাপটায় মুল থেকে বালু সরে বাগানের গাছ উপরে পড়ে সৈকতে ভাঙ্গনের কারনে বিলিন হয়ে যাওয়ায় এখন গোটা বনাঞ্চল এলাকা বালুচরে পরিনত হয়েছে। কোথাও কোথাও সৈকতের দু একটি গাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসেবে।
স্থানীয়রা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবং সমুদ্রের তলদেশে পলি জমায় পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রকৃতি। ফলে সাগরে বিশাল বিশাল ঢেই তিরে আসছে পড়ছে। এ কারনে  গত ১৩ বছরে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনের এক হাজার ১০০একর বনভুমি ও শত শত বসত ঘর সাগরে বিলিন হয়েছে। সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনে  অস্তিত্ব সংকটে কুয়াকাটার লেম্বরবন
মহিপুর বন বিভাগ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা বনের আয়তন দুই হাজার ১৬৫ দশমিক ৮০ একর। ২০০৫ সালে সরকার খাজুরা –গঙ্গামতি ও লেম্বুর বন কে নিয়ে জাতীয় উদ্যান ঘোষনা করে। পর্যটকদের কাছে আকষনীয় করে গড়ে তুলতে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে প্রাকৃতিক বন সংলগ্ন এ সৈকত ঘেঁষে ১০হাজার হেক্টর ভুমির উপর ঝাউবন বাগান গড়ে তোলা হয়। তবে ২০০৭ সালে ঘুর্নিঝড় সিডর, আয়লা, মহাসেন ,বুলবুল ও সর্বশেষ আমফান তান্ডব ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের ঝাপটা ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বনাঞ্চল।
লেম্বুর চর ঘুরতে আসা পর্যটক জাহিদ জানান, তারা বনাঞ্চল মনে করে এখানে ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু এসে দেখেন বালুর চর। গোটা সৈকত হাজার হাজার গাছের ঁেগাড়া পড়ে আছে। জোয়ারের সময় এ সৈকতে নামলে গাছের গুঁড়িতে পা আটকে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। পর্যটকরা আরোও বলেন, কয়েক বছর আগে ও তারা যখন কুয়াকাটা ভ্রমনে এসে ছিলেন তখন হাজার ও বৃক্ষরাজির  সমাহার ও বনজ গাছের সারি ছিল। মাঝে মধ্যে বন্য পশুপাখি ও দেখা যেত।  কিন্তু মাত্র এক দশকের মধ্যে গোটা বনাঞ্চলের ধবংস যঞ্জ দেখে তারা হতাশ।
কুয়াকাটা সৈকত পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে দেখতে নিয়েজিত ট্যুারিষ্ট গাইডরা বলেন, তারা লেম্বুর বনে পর্যটকদের নিয়ে আসেন। কিন্তু পর্যটকরা এখানে আসে প্রশ্ন করে বনাঞ্চল কোথায় ,আগে এখানে প্রচুর বনাঞ্চল ছিল, এখন ছড়িয়ে ছড়িয়ে থাকা কিছু গাছই অবশিষ্ট দাঁড়িয়ে আছে।
কুয়াকাটা বাসিন্দারা বলেন, সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের মনোমগ্ধকর দৃশ্য ছাড়া শুধু মাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে কুয়াকাটায় প্রতি বছর প্রায় কোটি পর্যটকদের সমাগম ঘটে। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই আজ বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সাগরের ভাঙ্গনে বনাঞ্চল ছাড়াও বিলিন হচ্ছে মুল সৈকত। সরকারের উচিত জরুরি ভিক্তিতে সৈকতে প্রচুর বৃক্ষরোপন করে আবার তৈরি করা এবং ভেঙ্গেপড়া গাছের গুঁড়ি উঠিয়ে পর্যটকদের নিরিবিলি পরিবেশ ভ্রমনের ব্যবস্থা করা।
উপকূলীয় বন বিভাগ ও পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে আমরা নতুন করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করতেছি কুয়াকাটায়।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft