শিরোনাম: বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেটে খুলনার অবিশ্বাস্য জয়        যশোরের ৭৭ হাজার শিক্ষার্থী পেল এক কোটি ২৮ লাখ প্যাকেট বিস্কুট       প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় তিন প্রার্থী       খুলনায় কাস্টমস কর্মচারীর কারাদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা       ভাষা, দিন দিন হচ্চে হাসা!       ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন ফরিদুল হক       আধুনিক স্টেডিয়ামের দাবি যশোরের ক্রীড়ামোদীদের       জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ প্রথম স্থানে পুলিশ লাইন স্কুল       সাবেক এমপি টিটোর পাশে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য       যশোরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের জালিয়াতি মামলা       
যাত্রা হোক নিরাপদ, ঘর হোক নিশ্চয়
স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চিত আশ্রয়, হাজারো মানুষ মরে প্রতিদিন রাস্তায়
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 21 November, 2020 at 9:52 PM
যাত্রা হোক নিরাপদ, ঘর হোক নিশ্চয়আমাদের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা আহত এখন প্রতিদিনের নিয়মিত খবর। ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে এমন নিশ্চয়তা বোধ হয় স্বয়ং বিধাতাও দিতে পারবেন না--  বিশেষ করে আমাদের দেশে।
প্রতিদিন টিভি সংবাদ, পত্রিকার পাতায় সারাদেশে কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংবাদ চোখে পড়ে। প্রতিনিয়ত যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। একটি মৃত্যু একটা পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। অথচ এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। মারা যাচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কোন বয়সের মানুষ।
সম্প্রতি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি  প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, চলতি বছরে শুধু অক্টোবর মাসেই ৩১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৯৪ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ জন নারী ও ৪১ জন শিশু। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২৭০টি, নিহত হয়েছিলেন ৩০৪ জন। আগস্ট মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৭৯ জন নিহত ও ৩৬৮ জন আহত হয়েছেন। অনুরূপ ভাবে জুলাই মাসেও ২৯৩ দুর্ঘটনায় ৩৫৬ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এর পরিসংখ্যান বলছে প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যুর হার আগের মাসের থেকে বাড়ছে। উল্লেখ যোগ্য যে এই দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ হচ্ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ১০১১ টি। নিহতের সংখ্যা ১০২৬ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২৪ জন অর্থাৎ প্রায় ৭১ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এর দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এইসব তথ্য উঠে এসেছে।
যাইহোক এই যখন অবস্থা তখন আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকি পূর্ণ সময়ের ভিতর দিয়ে চলেছে। একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার হার যে সকল দেশে মারাত্মক ঝুঁকি পূর্ণ বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান আমরা সংখ্যা দিয়ে হিসাব করতেই পারি কিন্তু একটি দুর্ঘটনার শিকার যে পরিবার সেই পরিবারের ক্ষতির পরিমাণ আমরা সারাজীবনেও করে উঠতে পারবো না। চোখের সামনে আমরা এমন অনেক সুখী পরিবারকে নিমেষেই নিঃস্ব হয়ে যেতে দেখেছি। প্রতিটি মৃত্যুই দুঃসহ বেদনার, তারপরও যখন দেখি কোন  বাবা মায়ের সন্তান, কোন ভাই এর বোন অথবা ভাই,  পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বা একই পরিবারের কয়েকজন যখন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়  সেই পরিবারের কি অবস্থা হয়! উল্লেখ্য আমার দেখা একটা মর্মান্তিক  দুর্ঘটনা যা আমি কখনোই ভুলতে পারি না, 'বাস দুর্ঘটনায় বাবা, মা ও এক বছরের ছোট ভাই হারিয়ে চার বছরের একটি শিশুর বেঁচে থাকা'। সারা পৃথিবী চেষ্টা করলেও কি এই শিশুটির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব! এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে আমাদের চারপাশে। শুধু তাই নয় দেশের অনেক স্বনামধন্য গুণী মানুষ যাঁদেরকে দেশের সম্পদ হিসেবে ভাবা হয় এমন অনেক মানুষকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হয়েছে। আমরা মিশুক মুনীর, তারেক মাসুদের মতো অসংখ্য খ্যাতনামা মানুষদেরও হারিয়েছি সড়ক দুর্ঘটনায়। আর দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যারা বেঁচে থাকেন তাদের অপরিসীম যন্ত্রণার কথা বলে শেষ করা যাবে না।  যেন চলমান দুর্বিষহ যন্ত্রণা সেই পরিবারের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে।
বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ। জনসংখ্যা বাড়লে রাস্তার ব্যবহারও বাড়বে। কেউ কেউ বলেন মুখ দিবেন যিনি আহারও দেবেন তিনি কিন্তু রাস্তা দিবেন বা দেশের আয়তন বাড়িয়ে দিবেন এমন কথা কেউ বলেন না! আবার রাস্তা যদি হয় এবড়োখেবড়ো, খানা খন্দে ভরা তাহলে সেই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটতে অনেকটা বাধ্য। আর আমাদের দেশে কোন রাস্তাই দুই বছরের বেশি টেকে না। যত তোড়জোড় আয়োজন করে রাস্তা বানানো হোক না কেন অদৃশ্য কোন কারণে তা এক বছরের বৃষ্টিতে ধুয়ে ছাল চামড়া উঠে যেই কে সেই এবড়োখেবড়ো। অর্থাৎ নিরাপদ সড়ক চাই বলে যতই মুখে ফেনা তুলে ফেলা হোক না কেন এই মৃত্যু ফাঁদ থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় আছে কিনা তা আমাদের বোধগম্য হয় না। আর সবচেয়ে বড় যে ঘাপলা আড়ালেই থেকে যায় তা হলো মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষের দায়িত্বহীনতা। কোন পক্ষই সঠিক নিয়ম কানুনের ধার ধারে না। গাড়ির চালক, হেলপার সঠিক নিয়ম নির্দেশনা মানছে কিনা, কিম্বা তারাও তাদের প্রাপ্য অধিকার সঠিক নিয়মে পাচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েই গেছে। এগুলো সঠিক ভাবে মনিটরিং পদ্ধতির আওতায় আছে বলে মনে হয় না।  যখন বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে তারপর কিছুদিন নিয়ম কানুনের অব্যবস্থপনা নিয়ে তোলপাড় আলোচনা হয়। তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। রাস্তায় মরে সাধারণ জনগণ। আর  অধিকাংশ সড়কে একসাথে ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, করিমন, আলমসাধু, মহেন্দ্র, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক সব চলতে থাকে। যে কারণেও অনেক সময় বড় গাড়ি গুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়।
সেই সাথে বিভিন্ন জায়গায়  আছে অসহনীয় যানজট। রাস্তায় যানজটের কারণে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাপি যে ভয়াবহ মহামারী কোভিড উনিশ  করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব চলছে, সেই তাণ্ডবে  মৃত্যু নিয়ে বিশ্ব বাসী এখনো মারাত্মক উদগ্রীব। এত অল্প সময়ে  এত মৃত্যু সত্যি আমাদের হতবিহ্বল করে দেয়।  অন্যদিকে নিরবে নিভৃতে  সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ভয়াবহতা তার চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। সেই তুলনায় এটা নিয়ে জনসচেতনতা অনেক কম। করোনা ভাইরাস যতটা  মানুষের মনোবলের ভীত ধরে নাড়াতে পেরেছে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, দুর্ঘটনার ভয় ততটা মানুষের মনোজগতে গেড়ে বসতে পারেনি। এই সচেতনতার অভাব কার! দায়ী কে! বা এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কি তা আমাদের বোধের আওতায় আসে না।
সরকার, পরিবহন মালিক- শ্রমিক কতৃপক্ষ এবং  জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো একদিন নিয়ন্ত্রণে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা, আমরা এমনটাই আশা করি, আশা করতে চাই।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft