মতামত
শিরোনাম: ১২ দামি ব্রান্ডের বিপুল নকল মবিল উদ্ধার       জনস্বার্থ সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত       ফরম পূরণের টাকা জমা না হওয়ায় ঝুঁকিতে যশোর মহিলা কলেজের ১২৭ পরীক্ষার্থী       ইউপি নির্বাচনে যশোর বিএনপির ৬০ ভাগ নেতাকর্মী অংশ নিচে চান       স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা       দুই শিশুকে মারপিটের ঘটনায় মামলা       বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম       বিভিন্ন স্থানে মোস্তফা ফরিদের মতবিনিময়       বনি হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মেহেদির আত্মসমর্পণ        মোস্তফা ফরিদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীর বিষয়টি গুজব      
পরিবর্তন যেন অতীব জরুরি
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 12 June, 2021 at 10:27 PM, Count : 294
পরিবর্তন যেন অতীব জরুরি পরিবর্তন শব্দটা বোধহয় ঠিক মানানসই হচ্ছে না, সোজা কথায় বদলানো দরকার। আমাদের হাড়ে-মজ্জায়, মস্তিষ্কে, স্বভাবে, চিন্তায়  বদলানো দরকার। শিশু থেকে বয়োঃবৃদ্ধ, ঝাড়ুদার থেকে উচ্চপদস্থ, ফেরিওয়ালা থেকে রাজনীতিওয়ালা সকলেরই দৃষ্টিভঙ্গির বদল অতীব জরুরি। প্রত্যেকের নিজের জায়গা থেকে নিজেকে বিচার না করে গালভরা বুলি আওড়িয়ে কোন লাভ নেই! বদল দরকার আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে-অভ্যাস বদলানো দরকার, কাজের পদ্ধতি বদলানো দরকার, চিন্তার পরিধি বদলানো দরকার, সর্বোপরি আমাদের সার্বিক কাঠামোগত সিস্টেম বদলানো দরকার। কেন বদলানো দরকার সেটা নিজেকেই প্রশ্ন করুন সবার আগে!
কিন্তু এই বদল তো আর ছেলের হাতের মোয়া নয় যে আমি-আপনি চাইলেই সবকিছু বদলে যাবে! সেটা যেহেতু সম্ভব নয় তাই বদল আনতে হবে। আমি সফেদ জামা গায়ে, সুগন্ধি মেখে কথার তুবড়ি ছোটালাম-এদেশের মানুষ ভালো না, নিয়ম কানুনের ঠিক নেই, সরকার ভালো না, অনিয়ম দুর্নীতির দেশ, আবর্জনার দেশ ইত্যাদি ইত্যাদি, আর দিন শেষে বাড়ির ময়লার প্যাকেটটা নিয়ে রাস্তায় ফেলে আসলাম অথবা টুক করে ড্রেনে ফেলে দিলাম। কাজটি সেরে ঘরে এসে আরামসে সোফায় বসে সংবাদ পত্রের পাতায় চোখ বুলিয়ে হতাশায় বলে উঠলাম "ধুর দেশটা গোল্লায় গেল! দেখার কেউ নেই!" সত্যিই দেখার কেউ নেই! থাকলে কি আর ময়লা ড্রেনে ফেলতে পারতেন? শুধু ময়লার প্যাকেট একটা উদাহরণ মাত্র, এমন আরো অসংখ্য ছোট বড় কাজ আমরা সারাদিন করছি যা আমাদের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাচ্চা নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন, বাচ্চা চকলেট, চিপস খেয়ে নির্দ্বিধায় প্যাকেটটা রাস্তায় ফেলছে, আপনি নির্বিকার। আপনি তো নিয়ম মানছেনই না বরং বাচ্চাটাকেও অনিয়ম শেখাচ্ছেন। বর্ষাকালে রাস্তার ময়লার সাথে ড্রেনের ময়লা পানি উপচে উঠে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যখন পা ফেলা দায় হয়ে পড়ে তখন সব দোষ কতৃপক্ষের! যত্রতত্র ময়লা ফেলতে আমরা যতটা সিদ্ধহস্ত, সমালোচনা, পরনিন্দা- পরচর্চাতেও ততটাই বাকপটু। শুধু ভুলে যাই নিজের কর্তব্যটা ঠিক মত পালন করতে! শুধু ড্রেনের ময়লা পানিতেই তো শেষ নয়! বর্ষার পানিতে রাস্তার যে হালহকিকত হয় সে তো আরো দশকাটি উপরে! প্রতি বছর রাস্তার কাজ হচ্ছে আবার একবছরের বৃষ্টির পানিতে ধুয়েও যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় তৈরি হয় নানান মডেলের খানাখন্দ। গাড়ি উল্টিয়ে, পিছলে পড়ে বা বিভিন্ন কায়দায় ঘটে দুর্ঘটনা। প্রাণ যায় অসংখ্য পথচারীর। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রাস্তা তৈরির  জন্য আমাদের দেশের যে উপকরণ ব্যবহৃত হয় সেগুলো এতই মোলায়েম যে একবছর ভারী বর্ষণ হলেই ধুয়ে শেষ! আসন্ন বর্ষায় পরিবেশের এই নাজেহাল অবস্থা মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, যেমন প্রতিবছর হয়। তবু আমরা এর কোন পরিবর্তন আশা করবো না কারণ আমরা নিজেরা বদলাবো না, আমাদের চারপাশের পরিবেশ বদলাবে না।  আমাদের জীবন যাপনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে না। ড্রেন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আমাদের নীতি নৈতিকতাহীন বিকলাঙ্গ রুচির পরিচয় পাওয়া যাবে।
অথচ আমরা যদি খেয়াল করি, উন্নত দেশগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বা নিয়ম শৃঙ্খলার সুব্যবস্থার কথা! তারা কিভাবে পেরেছে? জাপানের মত সুশৃঙ্খল দেশও একসময়  যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিল। এরকম আরো অসংখ্য নজির পাওয়া যায়, ঐসকল দেশে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়মের মধ্যে আনা কি কোন যাদুবলে সম্ভব হয়েছে? নিশ্চয়ই নয়! তাদেরকেও কঠিন আইনের মাধ্যমে ও আত্মনিয়ন্ত্রিত নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নিয়ম মানতে বাধ্য করা হয়েছে। পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া অন্য সবকিছুই প্রাকৃতিক একটা নির্দিষ্ট নিয়মের আবর্তে চলে। শুধুমাত্র মানুষকে নিয়মের গণ্ডিতে বেধে রাখতে হয়। বাধন আলগা হলেই সে সীমালঙ্ঘন করে। শুধু পরিবেশ বিপর্যয়ই নয়, দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, লুটপাট, নারীর প্রতি সহিংসতা, কেলেংকারী, নারীপাচার,  অর্থপাচার সহ আরো অনেক কিছুতেই আমরা মাত্রা ছাড়িয়েছি। অথচ বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে সদিচ্ছা থাকলেও আমরা একটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো না! আমার বিশ্বাস সদিচ্ছা অনেকেরই আছে, কিন্তু সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস জনজীবনে মারাত্মক একটা ধাক্কা দিয়েছে, তারপরও আমরা উল্লেখ্য হারে সচেতন হইনি। সত্যিই কি আমরা পারি না ঘুরে দাঁড়াতে! আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাস যোগ্য আবাসভূমি রেখে যেতে! ভেবে দেখতে আমাদের জন্য কোনটা আগে প্রয়োজন! মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন নাকি বাহ্যিক কাঠামোগত উন্নয়ন! উল্লেখ করতে চাই 'আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ম্যাগাজিন' থেকে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পায় আমাদেরই বাংলাদেশ-ভারতের জাফলং মেঘালয়  সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত মাওলাইনং গ্রামটি। গ্রামটি ছবির মতো পরিচ্ছন্ন। বিশেষ করে এই গ্রামটিতে ভদ্রতা বা কারোর সাথেই বিরূপ ব্যবহার নয়, এমন শিক্ষা দেয়া হয় ছোট বয়স থেকেই। এই গ্রামে কেউ ধুমপান করে না, পলিথিন ব্যবহার করে না। কি আশ্চর্য! অত্যাধুনিক কোন শহর নয়, সাধারণ শিক্ষিত এবং  কৃষিনির্ভর খাসিয়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রাম যা পারে, আধুনিকতার বড়াই করা একটা ডিজিটাল শহরে বাস করে আমরা তা পারি না। এইসব নিশ্চয়ই একদিনে বা সহজে হয়ে যায়নি! অনেক দিনের চেষ্টায় বা অধ্যাবসায়ে তারা এমন সুন্দর একটি সমাজ তৈরি করতে পেরেছে। আমরা কেন পারি না, বা আমাদের পারতে হবে, শেষমেশ বাধ্য হতে হবে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে এমন চিন্তা ভাবনা আমাদের মাথায় আনা কেন সম্ভব না এটাই প্রশ্ন! সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনায় হয়তো আমরাও গড়ে তুলতে পারি এমন একটা সমাজ। সময়ের দাবিতে যা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।









« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft