অর্থকড়ি
শিরোনাম: চুড়ামনকাটিতে আ’লীগের প্রতিপক্ষ থাকতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী       উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে ভালোর আশায় শেষ হলো টাউনহল মাঠের গণসংগীত উৎসব       জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে চাকরির নামে প্রতারণা       খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না       কেশবপুরে শিশু রত্না হত্যা মামলায় দাদার বিরুদ্ধে চার্জশিট       ঘের থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার       যশোরের ৩৫ ইউনিয়নে ভোট রোববার       স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক       ফরিদপুরে গ্রাম্য ডাক্তারকে মারপিট        জয়তী সোসাইটির মানববন্ধন       
দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা
মোটরযানের নকল লিফ স্প্রিংপাতিতে সয়লাব বাজার
উজ্জ্বল বিশ্বাস
Published : Sunday, 21 November, 2021 at 9:01 PM, Count : 230
মোটরযানের নকল লিফ স্প্রিংপাতিতে সয়লাব বাজারযশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মার্কেটে মোটরযানের নকল লিফ স্প্রিংপাতিতে সয়লাব হয়ে গেছে। হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে এসব নকল পাতি। ভারত থেকে আমদানি করা লিফ স্প্রিংপাতি নকল করে পাতি বিক্রি করছে একটি চক্র। এটি করে বিক্রেতারা লাভবান হলেও ক্রেতা ও আমদানিকারকরা বিপাকে পড়ছেন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমদানি। ফলে, সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ভারতের যমুনা অটো ইনডিয়া লিমিটেডের-JAI তৈরি লিফ স্প্রিং পাতির বাংলাদেশে একমাত্র পরিবেশক যশোরের মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজ। শুরুতে লিফস্প্রিং পাতি গত ১০ বছর ধরে সুনামের সাথে আমদানিকৃত লিফস্প্রিং পাতি সারাদেশে সাপ্লাই দিয়ে আসছে। যমুনা অটো ইনডিয়ার এ পাতিগুলো বেশ টেকসই। যার কারণে সবাই JAI ব্র্যান্ডের পাতির খোঁজ করেন। এ কারণে গত এক বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন মার্কেটে JAI ব্র্যান্ডের নকল পাতি বিক্রি হওয়া শুরু হয়। যা এখন যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মিলছে, তাও আবার অর্ধেক দামে। তবে, দোকানিরা বলছেন, সবই ঔঅও কোম্পানির পাতি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাজারে ঔJAI কোম্পানির টাটা-১৬১৩/১৬১৫-এর ১৬ এমএম-মডেলের লিফস্প্রিং পাতির বাজার দর ছয় হাজার থেকে ছয় পাঁচশ’ টাকা, ১৩ এম মডেলের পাতি বিক্রি হচ্ছে চার হাজার সাতশ’থেকে পাঁচ হাজার দুশ’, টাটা-১৬১৩/১৬১৫-এর টিসি হেলপার ১৬ এমএম-এর দর পাঁচ হাজার তিনশ’ থেকে পাঁচ হাজার ছয়শ’ সহ সবমিলিয়ে ৩৮টি মডেলের ঔঅও ব্র্যান্ডের মোটরযানের পাতি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিক্রি করছে বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক যশোরের মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজ।
এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রানা জানান, প্রতি বছর তার প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র এই পাতি বিক্রি হতো ২৪-২৫ কোটি টাকার। কিন্তু তা হঠাৎ করেই দু’-তিন কোটিতে নেমে এসেছে। গত এক বছরে এমনটাই হয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ দোকানেই ভুয়া বা নকল পাতি বিক্রি হচ্ছে।
বিশেষ করে যশোর শহরের মুড়লি মোড়ের জয়পাতি এন্ড টায়ার হাউজ, ব্যাটারিপট্টির রহমান ট্রেডিং, করিমপাম্প ও বকচর এলাকার তন্ময় ট্রেডিং, ঢাকা রোডের স্কয়ার আইরন, নিউমার্কেট ট্রাকস্ট্যান্ডের তানিশ এন্টারপ্রাইজ মূলত দেশি ফিটিং পাতি বিক্রি করছে ভারতীয় জয় ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে।
এ ব্যাপারে জয় পাতি এন্ড টায়ার হাউজের কর্মকর্তা তৌফিস তামিম বলেন, দু’ ধরনের পাতিই তিনি বিক্রি করেন। একটি হচ্ছে দেশি ফিটিং এবং অন্যটি ভারত থেকে আমদানি করা।
ব্যাটারিপট্টি বউ বাজারের রহমান ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী শাহফুর রহমান রিংকু বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আনা কিছু পাতি তিনি বিক্রি করেন। যার দাম জয় ব্র্যান্ডের অরজিনাল পাতির চেয়ে অনেক কম। তবে তারা পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকেন। এ পাতিগুলোর কাঁচামাল ভারত থেকেই আসে, পরে তা চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানায় প্রস্তুত করে মার্কেটে ছাড়া হয়। তুলনামূলক অন্য কোম্পানির চেয়ে দেশি ফিটিংয়ের পাতিগুলো বেশ টেকসই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কেট ঘুরে আরও জানা গেছে ভারতের জয় কোম্পানির পাতিগুলোর যে দাম তার অর্ধেক দামে দেশি ফিটিংয়ের পাতিগুলো বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এসএম আলম স্প্রিং কোম্পানি এসব পাতি সারাদেশে ভারতের জয় কোম্পানির লোগো হুবহু নকল করে মার্কেটে সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যশোরের মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রানা। এ ঘটনায় যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান ও জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, এ ব্যাপারে তাদের কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ভুয়া পাতি বিক্রির ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের আমদানি করা কাগজ দেখিয়েছেন। কিন্তু যা শতভাগ সঠিক নয়, কারণ একটি রানিং পণ্য কীভাবে ২০১৮ সাল থেকে দোকানে পড়ে থাকে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে তাদের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft