দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: পদ্মা সেতু: দুঃখ ঘুচাবে বাগেরহাটের কৃষক ও মৎস্যচাষিদের       কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোগে আম চাষিদের পরামর্শ        অ্যাম্বুলেন্স ফ্রি, বিদেশিদের ডাবল টোল চান জাফরুল্লাহ       পদ্মা সেতু: বিশ্বব্যাংকের অভিনন্দন       ওয়াশিংটনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন       পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সিএমপির আনন্দ শোভাযাত্রা       আখের রস-শরবত বিক্রির হিড়িক       পদ্মা নদীতে দৃষ্টিনন্দন নৌকাবাইচ       পদ্মা সেতু উদ্বোধন: নড়াইলবাসীর উল্লাস       পদ্মা সেতু উদ্বোধনে মাগুরায় র‌্যালি      
ইউপি নির্বাচন: যশোর সদর ও কেশবপুর
বিদ্রোহীদের আশংকায় নতুন ১৯ মুখ
কাগজ সংবাদ
Published : Sunday, 5 December, 2021 at 5:33 PM, Count : 1177
বিদ্রোহীদের আশংকায় নতুন ১৯ মুখযশোর সদর এবং কেশবপুর উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের ১৯টিতেই এবার নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এটা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানামুখি জল্পনা শুরু হয়েছে। নৌকার প্রার্থী হিসেবে যেভাবে গণভিত্তি থাকার কথা তাও কোনো কোনো প্রার্থীর যথেষ্ট নেই বলে মনে করছেন তারা। সে কারণে ইউনিয়নগুলোতে দল বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলেও মনে করছেন অনেকে। ইতিমধ্যে কেশবপুর উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নামও শোনা যাচ্ছে।
দেশে চলমান ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি যেসব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে যশোরে দুই উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ১৫টি এবং কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এদিন ভোট গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই ২৬ ইউনিয়নের জন্য নৌকা মার্কার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত তালিকায় যশোর সদর উপজেলার ১৫টির মধ্যে ছয়টিতে বর্তমান চেয়ারম্যানরা ফের মনোনয়ন লাভ করেছেন। নয়টিতে পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে নতুন মুখ। তাদের মধ্যে নারী রয়েছেন দুইজন। নতুন যারা দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন তারা হলেন হৈবতপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক, ইছালীতে ফেরদৌসী ইয়াসমিন, নওয়াপাড়ায় ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা, কাশিমপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, চুড়ামনকাটিতে দাউদ হোসেন, দেয়াড়ায় কৃষক লীগ নেতা লিয়াকত আলী, আরবপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মীর আরশাদ আলী রহমান, চাঁচড়ায় জেলা শ্রমিক লীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা পান্নু এবং ফতেপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন।
অন্যদিকে, কেশবপুরের ১১ ইউনিয়নের দশটিতেও এবার বর্তমান চেয়ারম্যানদের না দিয়ে নতুনদের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন। বাদ পড়েছেন গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করা ৫ জন চেয়ারম্যানসহ পদধারী নেতারা।
কেশবপুরে নতুন মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন ত্রিমোহিনীতে স্থানীয় যুবলীগের আহবায়ক শেখ অহিদুজ্জামান, সাগরদাঁড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা অলিয়ার রহমান, মজিদপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর স¤পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মনোজ কুমার তরফদার, বিদ্যানন্দকাটিতে আওয়ামী লীগ নেতা সামছুর রহমান, কেশবপুর সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক গৌতম রায়, পাঁজিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দীন, সুফলাকাটিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক গোলাম কিবরিয়া মনি, সাতবাড়িয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার বেগম ও হাসানপুরে ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য তৌহিদুজ্জামান, মঙ্গলকোটে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের বিশ্বাস।
যশোরে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সাথে ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকে বলেছেন, দল এবার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেছে। বিগত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বা সমালোচনা হয়েছে তারা এবার মনোনয়ন পাননি। অন্যদিকে, নতুনদের মধ্যে অনেকের সেভাবে স্থানীয় মানুষের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই উল্লেখ করে অনেকে বলেছেন, ‘এর মধ্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করবেন তাদেরকে সেই ধরনের নেতা হবে হবে যাদেরকে মানুষ এক নামে চিনবেন। কিন্তু, এবার সদর উপজেলার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হয়নি। যার কারণে নির্বাচনে খারাপ ফলাফল হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না’।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব নেতাকর্মী গ্রামের কাগজের সাথে কথা বলেছেন। অনেকে এও বলেছেন, যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তাদের মধ্যেও অনেক যোগ্য নেতা ছিলেন যাদেরকে মূল্যায়ন করা হলে ভালো হতো। এটা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা নেমে এসেছে। এ জায়গা থেকে অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও তাদের মত।
কেশবপুর থেকে প্রতিনিধি কামরুজ্জামান রাজু জানিয়েছেন, বর্তমান ত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনিছুর রহমান, সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুল, সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামছুদ্দীন দফাদার পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ায় তাদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পাশাপাশি গত ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক বি এম ইব্রাহিম হোসেন, সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও হাসানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদুজ্জামান শাহীন এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না পেয়ে শনিবার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও কথাও জানা গেছে।
উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক ইবাদুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের এলাকায় জনপ্রিয়তা নেই এবং দলীয় কোন পদে নেই এমন অনেককেই দেয়া হয়েছে নৌকা প্রতীক। ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের যোগ্য অনেক নেতাই মনোনয়ন না পাওয়ায় এ উপজেলা থেকে নৌকা প্রতীকের অনেক প্রার্থী পরাজিত হতে পারেন। নৌকা যে কেন পরাজিত হচ্ছে, সেটা এখন বুঝতে পারছি’।
উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামছুদ্দীন দফাদার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দল থেকে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে এ ইউনিয়ন থেকে ৪ বারের বিদ্রোহী প্রার্থী মশিয়ার রহমানের বোন শামছুন্নাহার বেগমকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। যার এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং কর্মী সমর্থক নেই। ক্ষোভ ও হতাশা থেকে নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি’।
পাঁজিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘দলের কোন পদ-পদবীতে নেই এমন ব্যক্তিকে এ ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে’।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন বলেন, দল থেকে যাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদেরকে বিজয়ী করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কাজ করবে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১২ ডিসেম্বর ও প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৯ ডিসেম্বর।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft