দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: বন্যায় সিলেটের আশ্রয়কেন্দ্রও তলিয়ে গেছে       এবার সরিষার তেল কেজিতে বাড়লো ১শ'        ইরাম ব্যারাম হলি বিপদ!       স্বপ্নের পদ্মা সেতুর টোল চূড়ান্ত        সচিব হলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন        অটো ভ্যান-রিকশা চোর সিন্ডিকেটের সদস্য আটক       ট্রাক চোর সিন্ডিকেটের সদস্য রিমান্ডে       কুষ্টিয়ায় ছাত্রীনিবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ       বাজেট অধিবেশন বসছে পাঁচই জুন       লোকালয়ে ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার      
করোনা সংক্রমণ: স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই যশোরে, বন্ধ হয়নি কোচিং সেন্টার
থেকেই যাচ্ছে ঝুঁকি
এম. আইউব
Published : Sunday, 23 January, 2022 at 10:07 PM, Update: 25.01.2022 9:49:46 PM, Count : 414
থেকেই যাচ্ছে ঝুঁকিকরোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও তা কাজে আসছে না। যশোরের চিত্র তেমনটিই জানান দিচ্ছে। ১১ দফা বিধিনিষেধের অধিকাংশই বাস্তবায়ন হচ্ছে না এখানে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিংমল, হোটেল কোনো জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ফলে, সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
করোনার নুতন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শুরু হয় মানুষের মধ্যে। বাড়তে থাকে ঝুঁকির মাত্রা। এই অবস্থায় গত ২১ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধের মধ্যে স্কুল, কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একশ’জনের বেশি মানুষের সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন, তাদের অবশ্যই টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআরে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট দেখাতে হবে। সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং শিল্প কলকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা সনদ নিতে হবে। বাজার, শপিংমল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ লোকসমাগমের স্থানে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার এবং যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। এই বিধিনিষেধ ২৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস ও ট্রেন চালানোর পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় বিধিনিষেধে। হোটেলে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রেও কোভিড টিকার সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এসবের কোনোটিই যশোরে এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। রোববার শহরের বিভিন্ন অফিস, হোটেল, শপিংমল ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা গেছে। বাধ্যতামূলক করা হলেও শহরে আসা বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। রোববার শহরের দড়াটানা, ঈদগাহ মোড়, চৌরাস্তা ও চিত্রা মোড়ে অবস্থান নিয়ে মাস্ক ছাড়াই অসংখ্য মানুষকে চলাচল করতে দেখা যায়। এইচএমএম রোড, জেস টাওয়ার, কালেক্টরেট মার্কেটের বহু দোকানিকে মাস্ক ছাড়াই বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। মাস্ক ছাড়াই আসে অসংখ্য ক্রেতাও।
এতো গেল মাস্কের বিষয়। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও ছিল উপেক্ষিত। যশোর শহরের কোথাও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। দেখা যায়নি হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও। হোটেলে বসে খাওয়ার সময় কোভিড টিকার সনদ থাকা বাধ্যতামূলক থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো হোটেল এটি চালু করেনি। দুপুরের খাবারের সময় দড়াটানা এলাকার একটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায় বহু মানুষ সেখানে খাওয়া-দাওয়া করছে। হাফিজ নামে একব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি হোটেলে খেতে টিকা সনদ এনেছেন কিনা-এমন প্রশ্ন শুনে তিনি যেন গাছ থেকে পড়েন। হোটেলের লোকজন তার কাছে এ বিষয়ে কিছু বলেছেন কিনা জানতে চাইলে ‘না’ সূচক জবাব দেন।  এ বিষয়ে হোটেলের কেউ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কালেক্টরেট মার্কেটের সব দোকানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন ছাড়াই কেনাবেচা হতে দেখা যায়। একই অবস্থা ছিল এইচএমএম রোড, বড়বাজার, হাটখোলা, হাটচাঁন্নিসহ অন্যান্য মার্কেটেও।
কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও এখনো পর্যন্ত অনেক কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে। কোচিং সেন্টারের মালিকরা সরকারি নির্দেশনার থোড়াইকেয়ার করছেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান রোববার রাতে বলেছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত। এ কারণে অভিযান চালাতে একটু সময় নিতে হচ্ছে। তারপরও অভিযান চালানো হবে।
রোববার একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কোচিং সেন্টার খোলা থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে সন্তানকে আনছি। যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে সেখানে কোচিং সেন্টার খোলা থাকাটা সমীচিন না।’
আব্দুস সালাম নামে একব্যক্তি বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে হলে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে না।’ 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft