দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: পল্লী বিদ্যুতের উপহারের ঘর পেলেন ঝিকরগাছার জাহানারা       চেরাগ কনে পাইলো উরা!       যশোরে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার       মণিরামপুরে নৌকার সমর্থনে পথসভা       যশোরে বিপুল পরিমাণ ডলারসহ চার হুন্ডি ব্যবসায়ী আটক        যশোরে পূজা পরিষদের কম্বল বিতরণ        চাঁদা না পেয়ে এসি খুলে নিলেন দু’ ভাই!        জিন্নাতুল বাকিয়া ছবি’র চেহলাম অনুষ্ঠিত       প্রতারিতদের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে ইউনিক ফোর্সের ফের প্রতারণা       গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন যশোর ক্রিকেট কোচিং সেন্টার      
গৃহবধূ নাসরিনের নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
শাখারীপাড়ার আসমার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি মুখে মুখে
কাগজ সংবাদ
Published : Tuesday, 12 January, 2021 at 10:12 PM, Count : 1464
শাখারীপাড়ার আসমার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি মুখে মুখেযশোর সদর উপজেলার ঘুনী গ্রামের শাখারীপাড়ায় ননদ আসমা আক্তার দ্বারা গৃহবধূ নাসরিনের নির্যাতনের ঘটনায় একের পর এক মুখ খুলছেন স্বজনেরা। তাদের বক্তব্যে বেরিয়ে আসছে আসমার অনৈতিক কর্মকান্ডের ফিরিস্তি। প্রসাধনী ক্রিমে এসিড মেশানোকে এসিড নিক্ষেপে সমান অপরাধ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নারী নেতৃবৃন্দ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সালে আসমা আক্তারের বিয়ে হয় শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম পিন্টুর সাথে। বিয়ের পর আসমা আক্তার শ্বশুর বাড়িতে না গিয়ে তার স্বামীকে নিয়ে আসেন বাপের বাড়ি ঘুনী গ্রামে। মাঝে মধ্যে যখন শ্যামলাগাছি যেতেন তখন তার আচরণে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ থাকতো শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসব নিয়ে আসমার সাথে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০০৮ সালে আসমার বড়ভাই সাদিক ব্যাপারি স্বামী পিন্টুকে সৌদি আরব নিয়ে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আসমা আক্তার। ওইসময় তিনি যশোর শহরের হুশতলা, পালবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকা শুরু করেন।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রামে থাকাকালীন অনৈতিক কর্মকান্ড সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বিচারও হয়েছে। এ কারণে আসমা শহরে চলে আসেন। স্বামী থাকা সত্ত্বেও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে  ২০১১ সালের ১৫ জুন শুকুর আলী নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন। কাগুজে সেই স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে বিতাড়িত করেন আসমা। ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি আসমা ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণের আবুল হাশেমের ছেলে রাজু আহমেদের সাথে অপকর্মের কারণে উত্তরপাড়ার শাহাজান আলীর বাড়িতে সালিশ বসে। সেই সালিশে সভাপতিত্ব করেন ইসমাইল হোসেন। সালিশে রাজু আহমেদকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ২০১৪ সালে আসমার স্বামী পিন্টু দেশে ফিরে এলে এসব ঘটনায় সংসার ভেঙে যায়। এরপর আসমার অনৈতিক সম্পর্ক হয়ে যায় ওপেন সিক্রেট।
আসমার অনৈতিক কর্মকান্ডের চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন তার মেঝভাই ফারুকের স্ত্রী সাদিয়া খাতুন। তাকে জব্দ করতে আসমা কৌশলে তাকে গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে পাঠিয়ে দেন। সাদিয়া ফিরে এসে যাতে এ ঘটনা কারো বলতে না পারে সেজন্য বিদেশে থাকা অবস্থায় গোপনে মেঝভাই ফারুককে দিয়ে তালাক করিয়ে তালাকের কপি সাদিয়ার বাপের বাড়ি শার্শার উলাসী গ্রামে পাঠিয়ে দেন বহুল আলোচিত এই নারী। সাদিয়া খাতুন ভিডিও কলে গ্রামের কাগজকে জানান, সেই তালাকের কপি তার ভাই ভাবি বা স্বজনদের বাদ দিয়ে তার ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে দিয়ে টিপসই করিয়ে আনা হয়। তখন তিনি বুঝতেও পারেননি কোন কাগজে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। সাদিয়া দেশে ফিরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আসমা আক্তারের সাবেক শ্বশুর শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের আতিয়ার রহমান জানান, তার ছেলে আরিফুল ইসলাম পিন্টুর সাথে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তির মূল ছিল আসমা। ছেলের ছয় বছরে প্রবাস থেকে পাঠানো একটি টাকাও তিনি বা তার পরিবারের কেউ পাননি। সবই তুলে নিতো আসমা। তার ছেলের সব অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সে। ২০১৪ সালে তার ছেলে পিন্টু যখন বিদেশ থেকে ফেরত আসে তখন সে ছিল নিঃস্ব। ঢাকা থেকে বাড়িতে আনার বাসের টিকিটও তিনি করে দিয়েছিলেন। দুঃখ করে তিনি বলেন,‘আশা করে ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সংসার করার কোনো ইচ্ছা আসমার ছিল না। তার দরকার ছিল শুধু টাকা। তার জন্য সে যা খুশি তাই করতো। আমরা মানাতে না পেরে ছাটকাট করে নিয়েছিলাম।’
আড়াই বছর ধরে গৃহবন্দি করে নাসরিন খাতুনকে নির্যাতন এবং প্রসাধনীতে এসিড মিশিয়ে মুখমন্ডল বিকৃত করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের যশোর সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য গ্রামের কাগজকে জানান,প্রসাধনী ক্রিমে এসিড মেশানো নির্যাতনের নতুন মাত্রা ও এসিড নিক্ষেপের মতোই অপরাধ। বিয়ের নামে হটকারিতা আর আড়াই বছর ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ নাসরিন খাতুনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত মহিলা পরিষদ নাসরিনের পাশে থাকবে।







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft