সম্পাদকীয়
শিরোনাম: লালপুরে মাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা       আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূণ : বাদশা       বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের মৃত্যুতে শোক সভা       ঢেউ টিন, চাল-ডাল কম্বল ও অর্থ নিয়ে বাড়িতে হাজির ছবির হোসেন       ৬০ পৌরসভার ভোটগ্রহণ শেষ        পিকে হালদারের টাকা ভারত, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে       শিশু তহবিল জালিয়াতিতে ডাচ সরকারের পদত্যাগ       ফেনিতে ককটেল বিস্ফোরণে এক আনসার সদস্যসহ ৪ জন আহত       রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত, সুস্থ ৩৮       পুনর্বাসনের আগে বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিপাকে হাজারো পরিবার      
শাস্তি বাড়লেও কমছে না ধর্ষণ-নির্যাতন
Published : Thursday, 14 January, 2021 at 9:10 PM, Count : 61
শাস্তি বাড়লেও কমছে না ধর্ষণ-নির্যাতন   আন্দোলনের মুখে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার পরও থামানো যাচ্ছে না পাশবিকতা। গত বছরের শুরুতেই রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। এ ঘটনার পর সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-শিক্ষকসহ সচেতন মহল। মাস দুয়েকের মাথায় দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শুরু হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো দেশ। কিন্তু তারপরও নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেনি, বরং মাসের পর মাস ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের সংখ্যা বেড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে স্বামীর সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী। ওই ঘটনার কদিন পর ৪ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে একদল যুবকের পাশবিক কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
গত ৯ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারী নির্যাতন বিশেষ করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানানো হয়। শাহবাগ থেকে সেই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই গণআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করে। এর মধ্যে অন্যতম হলোÍ ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আগের আইনে ধর্ষণের শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
গত ১৪ অক্টোবর এ সংশোধিত আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। কিন্তু শাস্তি বাড়িয়ে অধ্যাদেশ জারির পরও ধর্ষণ-নির্যাতন কমছে না।
নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি বেসরকারি সংগঠনের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, আইনের প্রয়োগ এবং শাস্তি বাড়ানো সত্ত্বেও থামেনি এসব পাশবিকতা। বরং করোনা মহামারির মধ্যে আগের চেয়ে বেড়েছে ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনা।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এমজেএফ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬২৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেশি। এরপর ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু রয়েছে।
৩১ ডিসেম্বর মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালে এক হাজার ৬২৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ জন নারী, ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪১৩। সরকার সংশ্লিষ্টরা আশা করছিলেন, ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
১৪ অক্টোবর অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকরের পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবিতে গত বছরের মাঝামাঝি সময় আন্দোলনে উত্তাল ছিল রাজপথ।
আমরা আশা করি শুধু বিধান করেই নয়, দ্রুততম সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft