মতামত
শিরোনাম: চিরবিদায় নিলেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম       মানবতার ফেরিওয়ালাদের দেখা নেই       এক সপ্তায় চালু হচ্ছে যমেক হাসপাতালের আইসিইউ       হাজার হাজার মানুষের লাশ কাটা গোবিন্দও লাশ হলেন       ডাক্তার সেজে ওটির সামনে রোগী দেখেন সহকারী ফিরোজ       যশোরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পণ্য হোম ডেলিভারি দেবে চাল ডাল ডটকম       খাজুরায় জুয়াড়ীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা, জুয়ার কোটে অভিযান       মেডিকেলে ভর্তিতে যশোরে ভ্যানচালকের মেয়ের অভূতপূর্ব সাফল্য       হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বি টিম : হানিফ       প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে দেয়ায় যুবক গ্রেফতার      
আলো চাই,আরও আলো
মবিনুল ইসলাম মবিন :
Published : Thursday, 25 March, 2021 at 8:21 PM, Count : 473
আলো চাই,আরও আলো গত বছরের ঠিক এই সময়টায় গোটা পৃথিবীতে বেজে ওঠে করোনার ভয়ঙ্কর ঘণ্টা। যার ধ্বনিতে রচিত হয় অকাতরে মৃত্যু, আতঙ্ক, বেঁচে থাকার লড়াইসহ নানা অচেনা ঘটনার উপাখ্যান। বছর জুড়ে চলা মানব শাসনের সেই পরিস্থিতি কেটে যাচ্ছে তা বলা যাবেনা। কারণ আবার চোখ রাঙাচ্ছে করোনা নামক দৈত্য। ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ সংহার করে সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নয়ন-অগ্রগতি এক কথায় সবকিছুর ছন্দপতন ঘটেছে। আগের সেই স্বাভাবিক অবস্থা কবে ফিরবে বা আদৌ ফিরবে কিনা এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
এমন এক অবস্থায় আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালির এক অনন্য দিন। জাতি আজ স্পর্শ করল স্বাধীনতার ৫০ বছর; যা পরম গৌরবের-অহংকারের। সুবর্ণ জয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি গ্রামের কাগজ পরিবারের কাছেও স্মরণীয়। ২২ বছর আগে এমন দিনে আত্মপ্রকাশ করা গ্রামের কাগজও আজ পা রাখছে নতুন বছরে। ২৩শে পদাপর্ণের শুভ এই ক্ষণে আমাদের অগণিত পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। সত্যিই আমরা  এতোগুলো বছর পার করতে পেরেছি শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসার জোরে।
সুসময় বলে গণমাধ্যমের কোনো ইতিহাস আসলে নেই। সে সংবাদকর্মী হোক আর মালিকই হোক। সবার জীবনই যেন ‘কখনো মেঘ-কখনো রোদ্দুর’-এর মতো অবস্থা। সংকট, মহাসংকট, টানাপড়েন নিত্য সাথী। নিয়তি যেন নির্ধারিত হয়েছে শুধু সমস্যার পাহাড় মাথায় নিয়ে ঘোরার। যা থেকে বেরুনো যায়না, এ গন্ডি ভেদ করা যায়না। ‘আমরা ভালো আছি’-বলে কেউ কেউ তৃপ্তির ঢেকুর হয়তো তোলেন, কিন্তু সেটাও আসলে মেকি। অনেকটা সরল অংকের জটিল নিয়মের মতো। দৈনিক গ্রামের কাগজও ২২ বছর ধরেই সমস্যা সংকুল পথে চলছে। তবে,পাঠক ভালোবাসা, শুভাকাঙ্খীদের আশীর্বাদ, সহযোগিতা আর সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ছাঁয়া হয়ে আছে বিধায় অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছি আমরা।
খুলনা বিভাগের প্রথম রঙিন, পদ্মার এপারের প্রথম আট পৃষ্ঠার দৈনিক, প্রথম ইপেপার এসব গৌরব একান্তই গ্রামের কাগজের। বিগত ২২ বছর মাটি মানুষের সাথে থেকে নানা সমস্যা, দুঃখ-দুর্দশা, আনন্দ-বেদনার কথা তুলে ধরেছে পত্রিকাটি। বাতলে দিয়েছে সমস্যা সমাধানের পথ। শুধু সংবাদ লিখেই দায়িত্ব শেষ করেনি গ্রামের কাগজ। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে অনেকের। সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে শরিক হয়েছে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য কাজের সাথে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বলেই সবসময় প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার পক্ষে রয়েছে গ্রামের কাগজ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পজিটিভ খবর তুলে ধরার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম,দুর্নীতি,প্রতিবন্ধকতাকেও ছাড় দেয়নি। এর জন্যে আমরা যেমন প্রশংসিত হয়েছি, তেমনি ঝুঁকিও কম যায়নি। অপ্রতিরোধ্য মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে আমাদের প্রতিনিধি শার্শার কাশিপুরের জামাল হোসেনকে। হাসপাতালের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী লেখার কারণে সাংবাদিক ফয়সল ইসলামের পিঠে পড়েছে সন্ত্রাসীদের রামদার ১৭ কোপ। এখনো নিদারুণ যন্ত্রণায় ভুগতে হয় তাকে। নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন আর নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে আরও কয়েকজন নিবেদিত প্রাণ সাংবাদিককে। কিন্তু পাঠকের কাছে গ্রামের কাগজের যে অঙ্গীকার তা থেকে পিছপা হইনি আমরা। অবশ্য সাহসী কাজের জন্য নন্দিত হওয়ার পাশাপাশি স্বীকৃতিও মিলেছে অনেক। দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী রিপোর্ট, তথ্য অধিকার আইন নিয়ে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সরকার প্রবর্তিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের নানা অ্যাওয়ার্ড এসেছে আমাদের ঘরে। দু’ বছর আগে ধারাবাহিক এক প্রতিবেদনেই গ্রামের কাগজের আট সাংবাদিক টিআইবি পুরস্কার জিতে বিরল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। অন্যের খবর লিখতে লিখতে জেলা শহরের  ছোট্ট গ্রামের কাগজ নিজেই হয়েছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম। এসব সাফল্য আর প্রাপ্তি গ্রামের কাগজের চলার পথের পাথেয়। কারণ আমাদের কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে, আরও ভালো করার প্রেরণা পেয়েছে। শক্তি ও সাহস পেয়েছে সামনে চলার।
একটি কথা না বললেই নয় যে, গ্রামের কাগজের এ অবস্থানে আসতে যে ত্যাগ তিতিক্ষা, প্রতিকূলতা পেরুতে হয়েছে তার কৃতিত্ব আমাদের অগণিত পাঠক আর শুভাকাঙ্খীদের। তাদের প্রতি আমরা সবসময় কৃতজ্ঞ, শ্রদ্ধায় অবনত। অনেক দীর্ঘ সে তালিকা। এই পরিসরে সবার নাম উল্লেখ করা কঠিন। কিন্তু কয়েকজনের কথা বিশেষ কৃতজ্ঞতায় স্বীকার করতেই হয়। নব্বই দশকে পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি ছিল সোনার হরিণ পাওয়া। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া আর পুলিশ সুপার আব্দুর রউফের বিশেষ মহানুভবতায় গ্রামের কাগজ প্রকাশনার অনুমতি পায়। তারা যেখানেই থাকুন আজীবন স্মরণ করবো আমরা। এরপর যার প্রেরণা, সহযোগিতা, ভালোবাসা আজ পর্যন্ত আমাদের ছাঁয়া হয়ে আছে তিনি হলেন সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। পিতৃতুল্য রফিক স্যারের সব সময়ের আকুলতা আর সহযোগিতায় আমরা সামনে এগোবার সাহস পেয়েছি। স্যারের সহধর্মীণি নুরুন্নাহার লিলি মাতৃস্নেহের শক্ত বাধনে আমাদের শুধু বাধেননি, চরম দুঃসময়ে নিজের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে গ্রামের কাগজকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যুগিয়েছেন। পরম পূজনীয় এ দু’জন মানুষের কাছে আমরা থাকবো চিরঋণী হয়ে। যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিলউদ্দিনের কাছেও কৃতজ্ঞ আমরা। এ অঞ্চলের প্রথম রঙিন দৈনিক হিসেবে আফিল ভাইয়ের সহায়তা আর আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টায় গ্রামের কাগজ পৌঁছে যায় বহুদূর। যশোরের সৃজনশীল ব্যবসায়ী শ্রদ্ধাভাজন আব্বাস আলী বিশ্বাস নিজ স্বার্থ ফেলে রিতু প্রিন্টার্সে দিনের পর দিন গ্রামের কাগজ ছাপার ব্যবস্থা করে আমাদের ধন্য করেছেন। আদ-দ্বীন পরিচালক ডাক্তার মহিউদ্দিন ভাইয়ের সহযোগিতাও ভোলার নয়। এছাড়া, তৎকালীন সাংসদ আলী রেজা রাজু, আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক শরীফ আব্দুর রাকিব, জাসদ নেতা রবিউল আলম,এমপি শাহীন চাকলাদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরজাহান ইসলাম নীরা, মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথ, বিএনপি নেতা প্রয়াত আব্দার ফারুকসহ অনেকেই সীমাহীন সহযোগিতা করেছেন। সব সময় তারা রয়েছেন আমাদের মনের মণিকোঠায়।
গ্রামের কাগজের কাছে পাঠকের প্রত্যাশা আর ভালোবাসা সব সময় আমাদের তাড়িত করে। কখনো ছাপা খারাপ হলে, ছবি অস্পষ্ট বা বানান ভুল হলে, কিংবা কোনো নিউজ দিতে ব্যর্থ হলে পাঠককলে দিনভর ব্যস্ত থাকে আমাদের সবগুলো ল্যান্ডফোন ফোন-মোবাইল ফোন। আমরা টের পাই পাঠক ভালোবাসা কাকে বলে। আসলে আপনাদের জন্য আমাদের চেষ্টার কমতি বা ঘাটতি নেই কখনো। কিন্তু কিছু দুর্ঘটনা সত্যিই এড়ানো কঠিন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন একটি পত্রিকা পাঠকের হাতে দেয়া আসলেই চ্যালেঞ্জিং কাজ। তারপরও আমাদের অবিরাম চেষ্টা রয়েছে এসব সমস্যা উত্তোরণের। গ্রামের কাগজের অনলাইন ভার্সন নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের কর্মীরা রাতদিন কাজ করছেন। তাৎক্ষণিক নিউজ, ছবি বা ভিডিও আপলোড পাঠকদের কাছে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
করোনা আঘাতে গোটা বিশ্বের মতো আমরাও জর্জরিত। গ্রামের কাগজের পৃষ্ঠা কমেছে, পাঠক সমাদৃত অনেক কলাম, লেখা ও বিভিন্ন এলাকার নিউজ পর্যাপ্ত ছাপা যাচ্ছেনা। বিজ্ঞাপন ভাটায় আয়ের স্তর  ঠেকেছে তলানিতে। তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি-হচ্ছি, তারপরও মহাদুর্যোগে গ্রামের কাগজের একজন কর্মীকেও ছাঁটাই করা হয়নি। বেতন বন্ধ বা বকেয়া পড়েনি। ‘এক সাথে আছি, এক সাথে বাঁচি, আজো এক সাথে থাকবোই-সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার এ কথায় বারবার আলোড়িত হয়েছি। জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু ভেঙেও কর্মীদের নিয়ে জীবন যুদ্ধ করছি। সামনের দিনে কী হবে সত্যিই অজানা। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে নানাদেশে নানা কথা হচ্ছে। ভালো-মন্দ বাছবিচার হচ্ছে। তারপরও মেঘের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আশার আলো। সে সম্ভাবনা জোরালো হলে আবার জাগবে বিশ্ব,বাঁচবে জীবন-অর্থনীতি। সবারই মনে মনে ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যয় তাতে এই মুহূর্তের প্রার্থনা একটিই-আঁধার কেটে যাক, আলো আসুক, আরও আলো-আরও বেশি আলো।





























« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft