সারাদেশ
শিরোনাম: সাতক্ষীরায় আরও ৯ জনের মৃত্যু, ঢিলেঢালা লকডাউন       ভারতীয় রেলওয়ের ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশে        বাগেরহাটে ইজিবাইক দুর্ঘটনা পিকআপের চালক কারাগারে       সম্প্রীতি বাংলাদেশের আয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ        যশোরে বাকপ্রতিবন্ধি যুবক খুন       নড়াইলে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার       নড়াইলে দু’মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১       মেয়েলি ঘটনাসহ কয়েকটি কারণে এই খুন! অভিযুক্ত ৮, আটক ৩       করোনা প্রতিরোধে ২১ কোটি টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী       সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ভয়ানক অবস্থা তৈরি হতে পারে : কাদের      
গোবিন্দগঞ্জে কলেজছাত্র তারেক হত্যা মামলার মূল হোতা ফারুক গ্রেফতার
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা :
Published : Thursday, 17 June, 2021 at 9:26 AM, Count : 55
গোবিন্দগঞ্জে কলেজছাত্র তারেক হত্যা মামলার মূল হোতা ফারুক গ্রেফতারগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কামারদহ ইউনিয়নের খাঁ পাড়া গ্রামে ছুরিকাঘাতে তারেক হাসান (২৫) নামের এক যুবক'কে হত্যার মূল কিলার ফারুককে গ্রেফতার করেছে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাকে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই মামুন ও জসিমের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপচাঁচিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, পারিবারিক জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৫ জুন দুপুরে যুবক তারেককে (২৮) গুরুতর আহত করে ফারুক । এসময় তারেককে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১জুন রাতে তার মৃত্যু হয়।
তারেক ঢাকার একটি কলেজে আইটি প্রোগ্রামিংয়ে কাজ করত। করোনায় কাজ বন্ধ থাকায় বাড়ীতে পরিবারের সাথে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ফারুক উপর্যপরি ছুরিকাঘাতে আহত করে।
এর আগে ৬ জুন তারেকের মা তাহেরা বেগম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফারুক, ছামছুল, জলিল, পারুল, পারভীন ও ফাহিমাদের আসামি করা হয়। এরপর ওই মামলায় তারেক ব্যতীত ৪ জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেও ফারুক পলাতক ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মেহেদী হাসান জানান, তারেক হত্যার মূল কিলার ছিল ফারুক। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাকে আমাদের অফিসাররা অভিযান চালিয়ে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ফারুককে আদালতে সোপর্দ করা হবে।গোবিন্দগঞ্জে কলেজছাত্র তারেক হত্যা মামলার মূল হোতা ফারুক গ্রেফতার
সাদুল্লাপুরে দাদন ব্যবসায়ী ছয় ভাইয়ের রাতভর নির্যাতনে ছকু মিয়ার লাশ দাফনের ১২ দিন পর আদালতে মামলা দায়ের
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ দাদন ব্যবসায়ী ছয় ভাইয়ের রাতভর নির্যাতনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছকু মিয়া নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবার মরদেহ দাফনের ১২ দিন পর আদালতে মামলা করেছেন তার ছেলে মোজাম্মেল হক। ১৬ জুন বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সাদুল্লাপুর) আদালতে এই মামলা করেন তিনি। পরে আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানায় মামলা রেকর্ডভুক্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবার চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে ছয় ভাইয়ের সাথে রিকশা চালক ছকু মিয়ার পারিবারিক ও দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া ছকুর ছেলের সাথে মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেম ভালবাসা নিয়ে পূর্ণরায় বিরোধ সৃষ্টি করেন ছয় ভাই। এ নিয়ে গত ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছকু মিয়ার বাড়িতে যায় ছয় ভাইসহ তাদের লোকজন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মারডাং শুরু করে ছকুকে। তাদের মধ্যে রনজু মিয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ছকুর অন্ডকোষে লাথি দেন। আর মন্টু বুকের উপর দুই পা দিয়ে পরপর কয়েকবার আঘাত করেন। এভাবেই রাতভর ছকুর উপর ছয় ভাই ও তাদের লোকজন চালায় পাষবিক নির্যাতন। পরদিন গুরুত্বর ছকুকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিতে গেলে প্রভাবশালী ছয় ভাই বাধা দেয়। সেই সাথে হত্যার হুমকি আর ভিটে ছাড়ার ভয় দেখানো হয়। এই অমানবিক ঘটনাটি ১৬ মে বিকেলে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর নজরে আসে। পরে তিনি উপায় খুঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছকুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেও তারা ছকু মিয়াকে হত্যার হুমকি দেয়।
এলাকাবাসি জানান, ঘটনার পাঁচদিন পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিততে শালিশ বৈঠকে ছেলের প্রেমের খেসারত হিসেবে ছকু মিয়ার পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজারে বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা। এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরে ছেলের বাসার। সেখানে হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তিনি চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ জুন মৃত্যু বরণ করেন।
মামলার বাদি ছকু মিয়ার ছেলে গার্মেন্টসকর্মী মোজাম্মেল হক জানান, জরিমানার বাকি ৩৫ হাজার টাকার জন্য তার বাবাকে ভিটেছাড়া করা হয়। টাকা না আনা পর্যন্ত তাদের বাড়িতে না আসতে হুমকিও দেয়া হয়। তিনি বলেন, 'আব্বার লাশ ঢাকাত থাকি বাড়িত আনচি। তারপর আমাকে ও বোনকে ঘরত তালা দিয়ে লাশ কবর দেয় ওরা। আব্বাক শেষ দেখাটাও দেখতে দেয় নাই ওমরা। কবরে মাটি পর্যন্ত দিতে দেয়নি ওরা আমাকে।' 'আমার বাপকে ওরা সারা রাত মারপিট করে। আব্বা পানি চাইছিল; ওরা পানিও খেতে দেয় নাই। এজন্য আব্বা আজ চলে গেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই!' মোজাম্মেল বলেন, 'আমার মা তিন বছর আগে মরছে। আব্বাও চলে গেছে। ঘরটাও ভাঙি নিচে। আমরা এখন ইতিম (এতিম) দুই ভাই-বোন কোনটে যামো।'
এ বিষয়ে বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিচারক এজাহার আমলে নিয়েছেন। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।' তিনি বলেন, 'পাষবিক নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে রিকশা চালক ছকু মিয়ার। নির্যাতনের ঘটনায় নিহতের ভিডিও বক্তব্যসহ পত্র-পত্রিকার কার্টিং আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, আমার মক্কেল সঠিক ন্যায় বিচার পাবেন।'
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, 'এ বিষয়ে এখনও আদালতের কোন নথি পাইনি।'




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft