মতামত
শিরোনাম: চুড়ামনকাটিতে আ’লীগের প্রতিপক্ষ থাকতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী       উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে ভালোর আশায় শেষ হলো টাউনহল মাঠের গণসংগীত উৎসব       জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে চাকরির নামে প্রতারণা       খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না       কেশবপুরে শিশু রত্না হত্যা মামলায় দাদার বিরুদ্ধে চার্জশিট       ঘের থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার       যশোরের ৩৫ ইউনিয়নে ভোট রোববার       স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক       ফরিদপুরে গ্রাম্য ডাক্তারকে মারপিট        জয়তী সোসাইটির মানববন্ধন       
বিতর্কিতরা প্রার্থী হলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম ভুলুন্ঠিত হবে
শাহানুর আলম উজ্জ্বল
Published : Friday, 15 October, 2021 at 6:30 PM, Count : 810
বিতর্কিতরা প্রার্থী হলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম ভুলুন্ঠিত হবেস্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বর ও সংরক্ষিত নারী আসনের পদটি শুধুই কী ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে লুটপাট করার জন্য বিশেষ পদ? ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যত্রতত্র ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ, টাকার ছড়াছড়ি, প্রার্থীদের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড ও ধরণ দেখে এমনটিই মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদে মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, সুদে কারবারি, সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন হলে জনগণের সেবা কতটুকু নিশ্চিত হবে এমন প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। এভাবে চলতে থাকলে যে উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার গঠন করা হয়েছে তা কতটুকু জনগণের কল্যাণে পূরণ হবে সেটি ভেবে দেখার বিষয় বলে অনেকে মনে করেন।
এক সময় প্রকাশ্যে ভোট দেবার মাধ্যমে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হতো। এরপর ১৯১৯ সালে আইন সংশোধন করে প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বাতিল করা হয় এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবার প্রচলন শুরু করা হয়। ১৯৫৯ সালের পর ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল। ১৯৭১ সালে এই নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইউনিয়ন ত্রাণ কমিটি। ১৯৭২ সালের দিকে এই নাম ভেঙে প্রবর্তন করা হয় ইউনিয়ন পঞ্চায়েত। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান প্রণীত হয়। ৭৩ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ কর্তৃক এক বিধি প্রণীত হয়। এ সময় ইউনিয়ন পঞ্চায়েত এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালের ২০ নভেম্বর স্থানীয় স্বায়ত্ব শাসন অধ্যাদেশ জারি করে। ইউনিয়ন পরিষদ নামটি ঠিক রেখে পরবর্তী সব সরকার কর্মকান্ড চালান।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ৩টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ৯টি ওয়ার্ড সৃষ্টি করে। একই সাথে ৩ জন মহিলা সদস্যকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে।
মূলতঃ জনগণের সমস্যা সংকট মোকাবেলা করা, সরকারের প্রাপ্ত বরাদ্দ ও সেবা পৌঁছে দেবার জন্য নানা পথ পাড়ি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়। ইউনয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কালভার্ট ব্রীজসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান বন্ধ, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রতিরোধ, পরিবেশ বিপর্যয়ে সহায়তা প্রদানসহ বহুবিধ সেবা দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। ইউনিয়নে সরকার কর্তৃক বরাদ্দের পুরোটাই পিছিয়ে পড়া, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠি, দরিদ্রপীড়িত জনগণের জন্য।
সরকারি সেবা নিশ্চিতের জন্য অর্থ ও সংস্থাপন, হিসাব নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ, কর নিরুপণ ও আদায়, শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি মৎস্য ও পশু সম্পদ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, আইন শৃংখলা রক্ষা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ ও পয়ঃ নিস্কাশন, সমাজকল্যাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ উন্নয়ন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ, পারিবারিক বিরোধ নিরসন, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ মোট ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের নানা কর্মকান্ড দেখে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এক সময় সমাজের সম্মানিত শিক্ষিত ব্যক্তিরা চেয়ারম্যান মেম্বর হতেন। সে সময় তারা জনসেবা করতে গিয়ে নিজের সহায় সম্পদ বিক্রি করে নিস্ব হয়েছেন বলে উদাহরণ ভরিভরি। চেয়ারম্যানদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা পালিয়ে যেত। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমাজের অধিকাংশ বিতর্কিত ব্যক্তিরা চেয়ারম্যান হবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন এলাকায় চেয়ারম্যানদের উপস্থিতি দেখে সমাজের চিহ্নিত ব্যক্তিরা আগে ভীড় জমান। এখন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা বেড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পুরনো। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বিতর্কিত প্রার্থীদের আধিক্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে চিহ্নিত অপরাধীরাও প্রার্থী হচ্ছেন বলে তৃণমূল থেকে খবর শোনা যাচ্ছে। প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। হত্যা মামলার আসামি, সংঘাত, মারামারি, অস্ত্রবাজি, মাদক সেবন, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, সুদে কারবারি, নারী নির্যাতনকারীসহ নানা অভিযোগ বিদ্যমান। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলারও অভিযোগ আছে। আইনের বেড়াজাল কেটে মামলা থেকে তারা জামিনে আছেন। অপরাধ সংঘঠিত করে জামিনে মুক্ত পেলেও তারা এলাকায় চিহ্নিত। ক্ষমতার দাপটে সত্য ঘটনার স্বাক্ষীদের হুমকির মুখে ফেলে মিথ্যে স্বাক্ষ্য দেবার মাধ্যমে কোন কোন ঘটনার নিস্পত্তিও নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার বটে। তথাপি তারা এলাকায় চিহ্নিত ও জননিরাপত্তার স্বার্থে হুমকি স্বরুপ।
আমরা মনে করি স্থানীয় সরকার ইউপি নির্বাচনের আইন আরো কঠোর হওয়া বাঞ্ছনীয়। আইনের ফাঁক গলে যেকোন ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ যাতে না করতে পারেন সে ব্যাপারে বর্তমান সরকারের আরো মনোযোগী হতে হবে। মীমাংসার অযোগ্য বা জামিন অযোগ্য ঘটনার সাথে যুক্ত হলে বা আসামি হলে বিচার কার্য সম্পন্ন হলেও ৩ বা ৫ বছর পর ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে মর্মে নতুন আইনও প্রণয়ন করা যেতে পারে। অন্যথায় ওই সকল ব্যক্তি প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম ভুলুন্ঠিত হবার সমূহ আশংকা রয়েছে।
লেখক : কবি ও সাংবাদিক





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft