শিরোনাম: করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৪, শনাক্ত ২৭৬৬       শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই শতভাগ মানুষ ভাতার সুবিধা পাবেন : এমপি মিলন       কোটচাঁদপুরে পানিতে ডুবে নিখোঁজ দুই মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার       কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত       ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে শোকাবহ ঘটনা : ইনু       মামলার ভয়ে আজ জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ : বিএনপি       শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে দ. সুদানের পথে ৬৭ নৌ-সেনা       পশ্চিমবঙ্গে একদিনে করোনা শনাক্ত ২৯৯৭, মৃত্যু ৫৬       মণিরামপুরে নিরাপদ সবজি জোনে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন       লাইবেরিয়ানের আটক ট্যাংকারকে মুক্তি দিল ইরান      
ভালোবাসি বাবা তোমাকে
জেরিন রহমান
Published : Saturday, 20 June, 2020 at 10:37 PM
ভালোবাসি বাবা তোমাকেবাবা আমাদের পরিবারের বটগাছ। ছোটবেলার সব ঘটনা মনে নেই। একটিবার ফিরে যাব ছোটবেলায়। প্রথমেই যেটা মনে পড়লো ''আমার বাবার নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন''।
তখন আমার পাঁচ/ছয় বছর বয়স। মা'কে অনেকের কাছে গল্প বলতে শুনতাম। তার মারা যাওয়া প্রথম মেয়ের গল্প। তাকে ঘিরে ছিল বাবার পৃথিবী। নয়মাস বয়সে সে মারা যায়। বাবা পাগলপ্রায়। কবরস্থানে বসে কাটতো বেশির ভাগ সময়। শুনেছি, দিন, রাত, ঝড়, রোদ এগুলো তার কাছে কিছুই মনে হতো না। মৃত সন্তানের কবরের পাশে নিঃশব্দে বসে থাকতেন। নয় বছর পর আমি পৃথিবীতে আসি। সেদিন ভোররাতে আমার কান্নার শব্দ শুনে বাবা কেঁদেছিলেন। বাবার  নয় বছরের দুঃখ এক মিনিটে মুছে যায়।
আরেকটা স্মৃতি খুব ভালো মনে আছে। মনে পড়লে একা একাই হাসি আর দুঃখও পাই পরিশ্রমী বাবাকে না বুঝে কি কষ্টটাই না দিয়েছি। ছোটবেলায় খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তাম, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার ভেতর। প্রতিরাতে দুই-তিনবার ওয়াশরুমে যাওয়া লাগতো। বনবিভাগের চাকরি করেন বাবা। সারাদিন দু’চাকার মোটরসাইলে নিয়ে সাইডের কাজ দেখতে যেতেন। অফিসের কোয়াটারের ওয়াশরুম বাইরে ছিল। ঘুমের ভিতর একটু পরপর ডেকে তুলতাম বাবা ওয়াশরুমে যাব। ভয় পেতাম তাই একেবারে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন বাবা। কখনো বিরক্ত হতে দেখিনি। তবে বিরক্ত হতে দেখতাম নিউজ দেখার সময়। ছোট বেলায় প্রচুর কথা বলতাম। লাল রং এর একটা টিভি ছিল। কাজ শেষ করে খবর দেখতে বসতেন বাবা। কথা বলা তখন আমার বেশি বেড়ে যেতো। আম্মু তখন বলতেন আমার মেয়েও তার দৈনন্দিন খবর শুরু করলো। আমরা টিভিতে নই বরং আমাদের মেয়ের খবরে মনোযোগ দেই। আমার কথা বলা কেউ কমাতেই পারেনি। বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন টিভি অন্য রুমে নিয়ে যাবেন।
বাবাকে ঘিরে ভালো লাগার অনূভুতিগুলো অনেক আছে। যখন দেখি গরীদের ত্রাণের জন্য কার্ড সংগ্রহ করে পাওয়ার যোগ্য মানুষটির হাতে পৌঁছে দেন। করোনাকালীন এ সময়ে নিজে অনেকগুলো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঈদের সময় নিজের এবং পরিবারের কথা না ভেবে অনেকের হাসিমুখের দায়িত্ব নেন। অন্যদের মুখে নিজের বাবার প্রশংসা যখন শুনি সকল ভালো অনূভুতিগুলো ভর করে বসে।
এখন আমি বড় হয়েছি। অনার্স চতুর্থবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা চলমান। বিয়ের প্রস্তাব বাড়িতে কমবেশি আসে। এলাকার কিছু ব্যক্তি বাবাকে বলেন, ‘মেয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে বিয়ে দিয়ে দাও’। বাবা তখন বলেন, ‘আমার কোনো সমস্যা নাই, মেয়ে আমার চিন্তাও আমার। পড়াশোনা শেষ হলে মেয়ের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ’-একথা শুনে আমি আনন্দে, আবেগে আপ্লু হই। অবাক হয়েছিলাম এক ব্যক্তির কথায়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথম্যাটিকসে পড়াশোনা করেন। বলেছিলেন, 'জেরিন তুমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ো না, তোমার তো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নেই। তাহলে তোমার বাবা বিয়ে কেনো দেয়না’।
আমি একথা বাবাকে জানিয়েছিলাম।
বাবা বললেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়লেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হয়?’ আমার বাবার প্রশ্নের ভেতরই আমি উওর পেয়েছিলাম। এখন কত মানুষ ভুলের ভেতর আছে তাদের জন্য আমার বাবার উদাহরণই যথেষ্ট।       
আমাদের বাবা মেয়ের সম্পর্ক এখন বন্ধুর মতো। আমার পিরিয়ডকালীন সময় কোন খাবার খাওয়া উচিত, আমার বেডরুম পরিছন্ন কিনা, ওয়াশরুম পরিছন্ন কিনা সেগুলো খেয়াল রাখেন। একটা মেয়ের এসময় যেমন সাপোর্ট প্রয়োজন আমি পরিবার থেকে সেগুলো পাই।
সঠিক বুদ্ধি হবার পর কখনও বাবার অবাদ্ধ হয়নি। সব বিষয়ে বাবা ও পরিবারের সাপোর্ট থাকে। পৃথিবীর সকল বাবাই শেষ্ঠ তার সন্তানের কাছে। পৃথিবীর সকল সন্তান শেষ্ঠ তার বাবার কাছে। ভালোবাসি বাবা তোমাকে। একটি বিশেষ দিনে নয়-সবসময়ই।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft